
রাজনৈতিক পটবদলের ধারায় পাকিস্তানি ডিজাইনারদের নতুন অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। জুনায়েদ জামশেদ, মারিয়া বি ইতিমধ্যেই আউটলেট খুলেছে। আর লাইনে আছে সানা সাফিনাজ বা অন্যরা। এরই মধ্যে গেল মাসে ঢাকায় পাকিস্তানি ডিজাইনারদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনীও হয়ে গেছে ওয়েস্টিন হোটেলে।

এই যখন পরিস্থিতি তখন একটা খবর বুলিয়ে গেল স্বস্তির পরশ। বাংলাদেশের লাক্সারি ব্র্যান্ড জুরহেমের পোশাকে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া মাতিয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনয় ও সংগীতশিল্পী আহাদ রাজা মীর। অস্ট্রেলিয়ায় শওকত খানুম মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি বেছে নেন জুরহেমের পোশাক।
এখানে একটু বলে রাখা ভালো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খান তাঁর মায়ের নামে ১৯৯৪ সালে শওকত খানুম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান করেন। এই অলাভজনক দাতব্য সংস্থা লাহোর ও পেশোয়ারে বিশ্বমানের ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র পরিচালনা করে।

যা হোক, নিজস্ব নান্দনিকতা, মিনিমাল ডিজাইন ভাষা ও সূক্ষ্ম কারিগরির জন্য পরিচিত জুরহেম। এই ব্র্যান্ডের তৈরি দুটি পরিশীলিত স্যুট অস্ট্রেলিয়া সফরে পরেছেন এই সময়ের তরুণদের হার্টথ্রব পাকিস্তানি অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী আহাদ রাজা মীর।
এই স্যুট দুটি ছিল একেবারেই বাহুল্যবর্জিত; ক্ল্যাসিক স্ট্রাকচারের সঙ্গে যোগ হয়েছে ও আধুনিক আভিজাত্যের পরিমিতি। এই ভারসাম্য সুট দুটোকে দিয়েছে অনন্যতা।
কেবল সুট নয়, দুটো লুকই তৈরি হয়েছে জুরহেমের পোশাকে। প্রথম লুকে ছিল ডার্ক ব্রাউন সুপারফাইন উল টু-পিস স্যুট; এটা পরা হয়েছে কালো টি-শার্টের সঙ্গে। এই স্টাইল একাধারে অনায়াস ও সমসাময়িক আবেদনময়।
পক্ষান্তরে দ্বিতীয় লুকে নজর কাড়ে নেভি ব্লু পিনস্ট্রাইপ সুপারউল স্যুট। এটারও জুটি ছিল ব্ল্যাক টি-শার্ট। ক্ল্যাসিক সিলুয়েটকে প্রতীয়মান করেছে ক্লিন লাইন ও আত্মবিশ্বাসের সৌন্দর্য।
লুক দুটো কিউরেট করে দিয়েছেন খ্যাতিমান সেলিব্রিটি স্টাইলিশ এবং সানডে টাইমস পাকিস্তানের এডিটরিয়াল কনটেন্ট ডিরেক্টর ওজান খান।
নিখুঁত কাট, সংযত শৈলী আর ক্ল্যাসিক অথচ শিক সিলুয়েটের জন্যই জুরহেমকে বেছে নেন ওজান। নকশার এই সংযত সৌন্দর্য যেমন তহবিল সংগ্রহ উদ্যোগের মর্যাদাকে সম্মান জানিয়েছে, তেমনি আহাদের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সুনিপুণভাবে মানিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মেহরুজ মুনির।
তাঁর নেতৃত্বে জুরহেম ধারাবাহিকভাবে কারিগরি উৎকর্ষ ও প্রিসিশন টেইলরিংয়ের পাশাপাশি ডিজাইনের আদর্শকে অনুসরণ করেই এগিয়ে চলেছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে এই ব্র্যান্ড প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশি বিলাসবহুল ফ্যাশনও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বৈশ্বিক মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে।
এই সহযোগিতা কেবল একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট নয়; বরং সীমান্ত পেরিয়ে নকশার ভাষা কতটা সাবলীল হতে পারে, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ বলে মনে করেন মেহরুজ। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে জুরহেমকে পাকিস্তানের ফ্যাশন পরিমণ্ডলে পরিচিত করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আহাদ রাজা মীর। এটা হলে কিছুটা হলেও হয়তো ভারসাম্য থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন একটি ব্র্র্যান্ডের লঞ্চিং প্রোগ্রামে। সেই সময়ে রিকশায় চড়েছেন। সেই ছবি তিনি আবার শেয়ার করেছেন ইন্সটাগ্রামে। অবশ্য কেবল এটাই নয়, জুরহেমের সুট পরা ছবিও তিনি শেয় করে ইন্সটাগ্রামে।