জেনিফার লোপেজের যে পোশাকের জন্য জন্ম হয় গুগল ইমেজেস, ২৬ বছর পর আবার ভাইরাল পোশাকটি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ফ্যাশনের ইতিহাসে এমন কিছু পোশাক আছে, যা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেই এক সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়। ২০০০ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে জেনিফার লোপেজের পরা সবুজ রঙের ভার্সাচে ‘জঙ্গল ড্রেস’ ঠিক তেমনই একটি সৃষ্টি। দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই কিংবদন্তি পোশাক আবার আলোচনায়, তবে নতুন এক প্রজন্মের হাত ধরে।

সম্প্রতি প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় রোমান্স সিরিজ অফ ক্যাম্পাস-এ অভিনেত্রী মিকা আবদাল্লাকে দেখা গেছে জে-লোর সেই বিখ্যাত পোশাকের অনুপ্রেরণায় তৈরি একটি পোশাকে। আর মজার বিষয় হলো, এই দৃশ্য দেখে প্রশংসা করতে ভুলেননি স্বয়ং জেনিফার লোপেজও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটির একটি ক্লিপ শেয়ার করে লিখেছেন, “লাভ দিজ শো।”

একটি পোশাক, যা বদলে দিয়েছিল ইন্টারনেটের ইতিহাস

২০০০ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে জেনিফার লোপেজ যখন ডিপ নেকলাইনযুক্ত সবুজ ট্রপিক্যাল প্রিন্টের ভার্সাচে গাউন পরে রেড কার্পেটে হাজির হন, তখন মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পোশাকটির ছবি দেখার জন্য এত বেশি মানুষ অনলাইনে খোঁজ করেছিলেন যে পরবর্তীতে সেই চাহিদা পূরনের জন্য গুগল শুরু করে গুগল ইমেজেস। ফ্যাশন ইতিহাসে যা এক বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

ড্রেসটি প্রথমে ১৯৯৯ সালে ভার্সাচের স্প্রিং/সামার শোতে মডেল অ্যাম্বার ভ্যালেটা পরেছিলেন। পরে জেনিফার লোপেজ সেটিকে বিশ্বব্যাপী আইকনে পরিণত করেন। ২০১৯ সালে আবারও তিনি এর আধুনিক সংস্করণ পরে ভার্সাচের রানওয়েতে হাঁটেন।

‘অফ ক্যাম্পাস’-এর ভাইরাল মুহূর্ত

এলি ক্যানেডি-এর জনপ্রিয় বই সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত অফ ক্যাম্প্যাস মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। সিরিজের একটি হ্যালোইন পার্টি দৃশ্যে মিকা আবদাল্লার চরিত্র অ্যালি হেইসকে দেখা যায় জে-লোর সেই বিখ্যাত ড্রেসের নতুন সংস্করণ পরে হাজির হতে।

সেখানে তিনি নাচছেন জেনিফার লোপেজের জনপ্রিয় গান ‘অন দা ফ্লোর’-এর তালে। রোমান্টিক এই দৃশ্যটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে তা দ্রুত টিকটক, এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

পোশাকটির পেছনের গল্প

মিকা আবদাল্লা জানিয়েছেন, পোশাকটি সরাসরি কোনো সংগ্রহ থেকে নেওয়া হয়নি। বরং পুরো ড্রেসটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। নিখুঁত ফিট নিশ্চিত করতে তাঁকে পাঁচবার ফিটিং সেশনে অংশ নিতে হয়েছিল।

সিরিজটির কস্টিউম ডিজাইনার চার্লিন আকুয়ামোয়া পরে জানান, জে-লোর কিংবদন্তি লুককে নতুনভাবে উপস্থাপন করার দায়িত্ব ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। পোশাকটি ক্যামেরার সামনে নিখুঁতভাবে ধরে রাখতে বিশেষ ফ্যাশন টেপ ও কারিগরি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন প্রজন্মের কাছে কেন এত আকর্ষণীয়?

ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন ওয়াই টু কে বা ২০০০-এর দশকের শুরুর ট্রেন্ড আবারও ফিরে আসছে। লো-রাইজ জিনস, বাটারফ্লাই মোটিফ, ঝলমলে ফ্যাব্রিক আর সাহসী কাট—সবকিছুই নতুন প্রজন্মের কাছে আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জে-লোর ‘জঙ্গল ড্রেস’ সেই যুগের সবচেয়ে স্মরণীয় পোশাকের একটি। তাই অফ ক্যাম্পাসে এর উপস্থিতি শুধু একটি ফ্যাশন রেফারেন্স নয়, বরং পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সংযোগও তৈরি করেছে।

ফ্যাশন যখন সময়কে হার মানায়

ফ্যাশনের জগতে নতুন ট্রেন্ড আসে, আবার হারিয়েও যায়। কিন্তু কিছু সৃষ্টি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। জেনিফার লোপেজের সবুজ ভার্সাচে গাউন তারই একটি উদাহরণ।

২৬ বছর আগে রেড কার্পেটে যে পোশাক বিশ্বকে বিস্মিত করেছিল, আজ সেটিই নতুন এক টিভি সিরিজের মাধ্যমে আবার আলোচনায়। আর জে-লোর নিজের প্রশংসাই যেন প্রমাণ করে, সত্যিকারের স্টাইল কখনো পুরোনো হয় না বরং প্রতিটি প্রজন্মে নতুন অর্থ খুঁজে নেয়।

সূত্র: পিপলস, ভোগ, নিউইয়র্ক টাইমস

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১২: ০৭
বিজ্ঞাপন