নতুন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে কে ক্র্যাফটের ঈদ চমক
শেয়ার করুন
ফলো করুন

হাল ফ্যাশন রিপোর্ট

স্বকীয়তা যেকোনো ব্র্যান্ডের উপস্থিতিকে দৃঢ় করে। সমসময়ের অনুষঙ্গের আত্তীকরণ আর ট্রেন্ডের অনুসরণ সেই ব্র্যান্ডের পণ্যকে জনপ্রিয়তা দেয়। এ ধারায় নিজেদের কতটা এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে দেশের শীর্ষ সারির ফ্যাশন ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফট, সেটা বোঝা গেল শনিবার অনুষ্ঠিত ফ্যাশন শোতে।

মোহাম্মদপুরের রিং রোডে ব্র্যান্ডের নতুন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের ছোট পরিসরের আয়োজন ছিল ছিমছাম অথচ মনোগ্রাহী। এখানে ঈদ সংগ্রহের উপস্থাপন ছিল কেবল সাংবাদিকদের জন্য। এর মধ্য দিয়েই সূচনা হলো এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারেরও।

বিজ্ঞাপন

১০টি কিউতে অর্ধশত নতুন ডিজাইনের পোশাক পরে হাঁটেন মডেলরা। এ সময়ের ট্রেন্ড অনুসরণে এথনিক ও ফিউশন ডিজাইন নজর কাড়ে। কিছু রং আছে যেগুলো কে ক্র্যাফটকে চেনায়। এর বাইরেও রঙের বৈচিত্র্য যেমন লক্ষ করা গেছে, তেমনি কাপড়েরও। জমিন অলংকরণে মিনিমালজিম প্রতিটি পোশাককে দিয়েছে অনন্যতা।

জমিন অলংকরণের সঙ্গে অনুষঙ্গ ব্যবহারের সামঞ্জস্য উল্লেখ করার মতো। এই ঈদ সংগ্রহের হাইলাইট বলা যেতে পারে প্রিন্ট আর এমব্রয়ডারি। প্রিন্টে কালার কম্বিনেশন চমৎকার। দৃষ্টিনন্দন বোধ করি। সালোয়ার–কামিজ, শাড়ি বা অন্য পোশাকেও নানা মোটিফের প্রিন্ট লক্ষ করা গেছে। একইভাবে এমব্রয়ডারিও সমান আকর্ষক। এখানেও পরিমিতি পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

বিজ্ঞাপন

কালার ট্রেন্ডে এবার কালোর জয়জয়কার। এ সংগ্রহেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কালো জমিনে কালো কাজের পাশাপাশি কালোর সঙ্গে অন্য রঙের কম্বিনেশনও ছিল। এ ছাড়া কী গাঢ় কী হালকা, প্রতিটি রংই আকর্ষণীয়।

দুই উদ্যোক্তা শাহনাজ খান (ডান থেকে চতুর্থ) ও খালিদ মাহমুদ খানের (সর্বডানে) সঙ্গে ডিজাইনাররা
দুই উদ্যোক্তা শাহনাজ খান (ডান থেকে চতুর্থ) ও খালিদ মাহমুদ খানের (সর্বডানে) সঙ্গে ডিজাইনাররা

এই শোতে কে ক্র্যাফট ও ইয়াং কে—উভয় ব্র্যান্ডের পোশাক উপস্থাপিত হয়েছে; যা এক কথায় বলা যেতে পারে কে ক্র্যাফট ও ইয়াং কের ঈদ প্রিভিউ। ঝাঁপি থেকে মাত্র কয়েকটা বের করা হয়েছে। বাকি সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। তবে যতটুকু তুলে ধরা হয়েছে, তা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যেতে পারে এই ব্র্যান্ডের নিয়মিত ক্রেতারা এই ঈদে হতাশ হবেন না। বরং আনন্দিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকছে।
ইয়াং কে বস্তুত কে ক্র্যাফটের সাব ব্র্যান্ড। এটা কিশোর আর তরুণদের জন্য। তবে কে ক্র্যাফটের মূল আয়োজনেও আছে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। তাই তরুণদের জন্য খুশির খবর এটা যে তারা উভয় সংগ্রহই পরখ করার অবকাশ পাবে।

এখানে একটু ইতিহাসের সংযুক্ত মনে হয় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। কারণ, ঈদ সংগ্রহের উপস্থাপনার একটা ধারা হালে তৈরি হয়েছে। অনেক ব্র্যান্ডই সেটা করে থাকে। অথচ এটা অনেক আগে শুরু করে কে ক্র্যাফট। ১৯৯৫ সালে তাদের সেই আয়োজন ছিল আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে। সেই সময়ের নিরীখে কে ক্র্যাফট এগিয়ে থাকলেও বিষয়টি তখন আদৃত হয়নি। এরপরই অনিয়মিতভাবে হলেও তারা এ ধরনের আয়োজন করেছে। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলা যেতে পারে গতকালকের আয়োজন।

সংক্ষিপ্ত এই ফ্যাশন শো শুরুর আগে কে ক্র্যাফটের সহ–উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান এবারের ঈদ সংগ্রহ সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনার কথা জানান।

ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৩, ১৩: ৩৯
বিজ্ঞাপন