আন্তর্জাতিক মঞ্চে মডেস্ট ফ্যাশনের নতুন ধারাকে যেভাবে পরিচিত করাচ্ছে সৌদি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গত এক দশকে বৈশ্বিক ফ্যাশনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে—মডেস্ট ফ্যাশনের উত্থান। একসময় যা সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হতো, সেই মডেস্ট পোশাক এখন হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক স্টাইলের প্রতীক। আর এই পরিবর্তনের পেছনে সৌদি ডিজাইনারদের নতুন প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা ঐতিহ্য ও আধুনিকতাকে একত্র করে ফ্যাশনকে নতুন রূপে উপস্থাপন করছেন; এমন ট্রেন্ড তৈরি করছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। আজ সৌদির তরুণ ডিজাইনারদের সৃজনশীলতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের ফ্যাশন পরিমণ্ডলকে নতুন রঙে রাঙিয়ে তুলেছে। তাঁরা বৈশ্বিক রানওয়েতে রাখছেন সৃজনের সাহসী স্বাক্ষর। তাঁদের কাজে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন প্যারিস থেকে ঢাকার নারীরাও।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: ফ্যাশনের নতুন পরিচয়

সৌদি ফ্যাশন শোতে র‍্যাম্পে আকর্ষণীয় আবায়া
সৌদি ফ্যাশন শোতে র‍্যাম্পে আকর্ষণীয় আবায়া
ফটো: ফ্যাশন নেটওয়ার্ক.কম

আবায়া ও হিজাব, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস ও সহজতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন নতুন করে জন্ম নিচ্ছে এক সাহসী ফ্যাশন–বার্তা হয়ে। শুধু কালো নয়, এখন এসব আবায়া দেখা যাচ্ছে নানা আধুনিক রঙে, ঢিলেঢালা নকশায় ও আকর্ষণীয় কাটে। একইভাবে হিজাবও আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রতীকে রূপ নিয়েছে—সিল্ক, শিফন কিংবা সুতি, প্রাণবন্ত প্রিন্ট ও মার্জিত রঙে তৈরি এসব হিজাব বিশ্বজুড়ে নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এটি কেবল পোশাক নয়—এটি একটি বার্তা

নারীরা তাঁদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে সম্মান জানিয়ে নিজের ব্যক্তিগত রুচিকেও ধারণ করতে পারেন। ঐতিহ্য ও আত্মপ্রকাশের এই নিখুঁত ভারসাম্যই সৌদি ফ্যাশনের শক্তির মূল উৎস।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বমঞ্চে সৌদি ডিজাইনারদের পদচারণা

মডেস্ট ফ্যাশন এখন আর শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাশ্চাত্যের নারীরাও ক্রমে দীর্ঘ ও লেয়ারিংয়ের পোশাক এবং মিনিমালিস্ট সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় মডেস্ট ফ্যাশন বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছেন দুই বিশিষ্ট সৌদি ডিজাইনার—রাজান আলাজ্জুনি ও হিন্দাম্মে।

রিয়াদে জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সৌদিরা
রিয়াদে জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সৌদিরা
ছবি: এএন ফটো; সালেহ ঘানাইম

রাজান আলাজ্জুনি ‘মনোক্রোম’ কালেকশন রিয়াদ ফ্যাশন উইক ২০২৫-এ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর কাজে স্পষ্ট ছিল সৌদি সংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে আধুনিক নকশার সম্পৃক্ততা। অন্যদিকে হিন্দাম্মে তাঁদের ‘হেজাজ’ সংগ্রহে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যকে সমকালীন নান্দনিকতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এর আগে উভয় ডিজাইনারের কাজ প্রদর্শিত হয়েছে লন্ডন, প্যারিস ও নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও।
বাংলাদেশি নারীদের জন্যও এই প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। হিজাব ও মডেস্ট পোশাক আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ। অবশ্য সৌদি ট্রেন্ড তরুণীদের পোশাকে যোগ করছে নতুন মাত্রা।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে অফিস—আরাম, শালীনতা ও স্টাইল একত্র হয়ে গড়ে তুলছে এক আত্মবিশ্বাসী ফ্যাশন আন্দোলন।

রিয়াদ ও জেদ্দার রাস্তায় নতুন প্রজন্মের ফ্যাশন–ভাষা

রিয়াদ বা জেদ্দার রাস্তায় হাঁটলেই দেখা যায় এক নতুন সাংস্কৃতিক ভাষার উন্মেষ। তরুণ-তরুণীরা জিনসের সঙ্গে লম্বা টিউনিক পরছেন, ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন, আরামদায়ক আবায়ার সঙ্গে স্নিকার্স মিলিয়ে নিচ্ছেন।
এটি কেবল স্টাইল নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক বিবর্তন
সৌদি তরুণেরা প্রমাণ করছেন, ঐতিহ্য মানেই পিছিয়ে পড়া নয়; বরং সেটা হতে পারে এক শক্তিশালী, যথার্থ ও আধুনিক পরিচয়ের ভিত্তি।
ফ্যাশনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে
সৌদি ডিজাইনারদের এই উত্থান বাংলাদেশের জন্যও অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প—জামদানি, মসলিন, নকশিকাঁথাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে এই ধারা হতে পারে অনুপ্রেরণার।
ভাবুন তো—বাংলাদেশের গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়াকে মাথায় রেখে তৈরি আবায়া ও হিজাব, যেগুলো হালকা, বাতাস চলাচলের উপযোগী এবং সূক্ষ্ম অথচ আধুনিক নকশায় অলংকৃত। এমন ডিজাইন স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে। এটি শুধু ফ্যাশন নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের আধুনিক রূপান্তর।
সৌদির সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের এই নবযাত্রা সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে ভিজিট করতে পারেন: https://www.visitsaudi.com/en –এই সাইটে।
এখানে পাওয়া যাবে সর্বশেষ আপডেট, ভ্রমণ অনুপ্রেরণা ও বিশেষ অভিজ্ঞতার তথ্য।
ছবি: হিরো ইমেজ: ফটোগ্রাফার: ম্যাথিউ ব্রুমার, সৌজন্যে: সৌদি হান্ড্রেড ব্র্যান্ডস

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৯: ১৪
বিজ্ঞাপন