উঠানে আনন্দের পসরা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে প্রায়ই অনলাইন উদ্যোক্তাদের পণ্যের পসরা বসে। তাই প্রথম থেকেই যখন ‘আনন্দ উঠান’ নামের মেলাটি ব্যতিক্রমী হবে বলছিলেন এর আয়োজকেরা, তখন স্বভাবতই কৌতূহলের পাল্লা ভারী হচ্ছিল। তবে মার্চের ১০ ও ১১—দুই দিনব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে সরেজমিন এ মেলার খুঁটিনাটি দেখতে গিয়ে নিরাশ হতে হয়নি, এ কথা বলা যায়।

আনন্দ উঠান–এর আয়োজক ফোয়ারা ফেরদৌস
আনন্দ উঠান–এর আয়োজক ফোয়ারা ফেরদৌস

দুটি কক্ষে ২৯টি অনলাইন উদ্যোগ এ মেলায় অংশ নেয়। অন্যান্য মেলার চেয়ে এ সংখ্যা যথার্থ অর্থেই কম। তাই ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই একধরনের স্বস্তি মিলেছে। মেলার সাজসজ্জায় দেশীয় আলপনা, মাটির রং আর সঙ্গে বৈপরীত্য রেখে কিছু উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার চোখে আরাম দিয়েছে। মেলার মূল উদ্যোক্তা পটের বিবির কর্ণধার ফোয়ারা ফেরদৌস জানালেন এ আয়োজনের পেছনের গল্প।

চায়ের কাপ হাতে আরাম করে গল্প শুনতে গিয়ে সত্যিকার অর্থেই উঠানের কথা মনে পড়ছিল। আর ফোয়ারাও বললেন সে কথাই। ফোয়ারা বলছিলেন, উঠান মানেই একধরনের ঘরোয়া আমেজ আর আরাম করে সময় কাটানোর জায়গা। মেলার আবহটি সে রকমই রাখতে চেয়েছেন তিনি। আরও বললেন, জায়গার টানাটানি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিজেদের একটি বিপণিকেন্দ্র থাকলে তা যেভাবে সাজাতেন, পণ্যগুলো যেভাবে ডিসপ্লে করতেন, সেই সুযোগটি দুই দিনের জন্য হলেও তিনি দিতে চেয়েছেন এসব সম্ভাবনাময় মানুষকে।

অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য এ এক অনন্য সুযোগ। আর সে কথারই অনুরণন ঘটছিল কাজলা ও গথিয়ার কর্ণধারদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের বয়ানে। আনন্দময় পরিবেশ অনুভব করা যাচ্ছিল ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের হাসি, কথা আর কেনা–বেচায়।

বিজ্ঞাপন

ঘুরে দেখা গেল, এ আয়োজনে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন অনলাইন উদ্যোক্তারা। আরুনিকার স্টলে ছিল কাঠের তৈরি বই আর কফি রাখার তাক, নেমপ্লেট ও ওয়ালহ্যাঙ্গিং। সেই সঙ্গে বেশ কিছু মজার পণ্য দেখা গেল। কাঠের লুডু বোর্ড নজর কেড়েছে সবার। মৃৎ-এর সিগনেচার পণ্য মাটির টেপা পুতুলের কানের দুল সবাই পছন্দ করে কিনছেন দেখা গেল।

ছোট-বড় ক্যানভাসে, এমনকি শাড়িতেও দারুণ সব জলরঙের কাজ করেছে ‘কাজলা’। চিত্রশিল্পী আজিজি ফাওমি খানের ‘সুতাচিত্র’ ও ‘খট্বায় চারণ’ এই সিরিজ দুটি বেশ ব্যতিক্রমী মনে হলো। গিট্টু, সুতা আর বিভিন্ন রকম ম্যাটেরিয়াল দিয়ে হাতে তৈরি অভিনব নকশার গয়না ছিল বাঙুরির স্টলে। নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে গথিয়ার কাজে সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া স্পষ্ট। এদিকে ঋ, রঙবতী আর ক্যানভাসের গয়নার প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছিল সবার। এ ছাড়া রংধনু ক্রিয়েশনসের ফুলেল ব্রাশ পেইন্টের শাড়ি আর চোখ জুড়ানো ল্যাম্পশেডগুলো দারুণ কাজ মনে হয়েছে। বিডসের নেকপিসগুলোও নজরকাড়া।

জনপ্রিয় অনলাইন উদ্যোগ পালংখিয়্যং, সুতলি আর শাড়িকথনের শাড়ি ও অন্যান্য পোশাক দেখছিলেন সবাই। আর পটের বিবি তো ছিলই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে৷
নানা ধরনের গাছ নিয়ে হাজির ছিল অরনীর ও নান্দনিক গৃহকোণ। এখানে স্নেকপ্ল্যান্ট আর পোথোজের মতো কম যত্নেও ভালো থাকবে—এমন সৌন্দর্যবর্ধক গাছ ছিল। অফিসের ডেস্কে, অন্ধকার ঘরের কোণে বা বারান্দায় অনায়াসে বেড়ে উঠতে পারে—এমন সব গাছ কিনছিলেন অনেকে। পাওয়া যাচ্ছিল গাছের যত্নবিষয়ক তথ্যও।

বিজ্ঞাপন

বুকস অব বেঙ্গলের স্টলে ছিল বৈচিত্র্যময় সব বই। ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব পাট দিয়ে তৈরি স্টাইলিশ সব ব্যাগ ছিল কালিন্দিতে। গুটিপার ব্যাগগুলোও যথারীতি সবার মনোযোগ কেড়েছে৷ আর ফোয়ারা ফেরদৌসের টিটংয়ের চা-শিঙাড়া-মোমোর পাশাপাশি রসনাবিলাসে বাজিমাত করেছে চিয়ারি শেফ। এ অনলাইন খাবারের উদ্যোগের স্টলে ছিল চিকেন পাফ, সসেজ রোল, সমুচা, জাপানিজ কটন চিজকেক আর ব্রাউনির মতো মজাদার সব পদ। আর আচারিয়ানার বৈচিত্র্যময় সব আচার তো ছিলই। এর মধ্যে সবজির আচারের প্রতি সবার আগ্রহ ছিল বেশ।

উদ্যোক্তাদের উঠানে আনন্দের এ পসরা ক্রেতারা দারুণ উপভোগ করেছেন। ভিড়ও হয়েছে বেশ। সময় নিয়ে ঘুরে দেখে কেনাকাটা করেছেন সবাই। তবে গৃহসজ্জা আর পরিধেয় পোশাকের পসরার ক্ষেত্রে আরও একটু বৈচিত্র্য হলে মন্দ হতো না। স্টল ডেকোরেশনে অনায়াসে আরও নিরীক্ষা হতে পারত মেলার আবহটি ঠিক রেখে। আর সুপরিচিত অনলাইন উদ্যোগের পাশাপাশি পরবর্তী সময় আরও সব নতুন ও সৃষ্টিশীল উদ্যোগের অন্তর্ভুক্তি হলে উদ্যোক্তাদের উঠানের আনন্দ আরও একটু বেড়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

ছবি: সাজ্জাদ মিতুল, লেখক ও অংশ নেওয়া অনলাইন উদ্যোগগুলোর ফেসবুক পেজ।

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৩, ০৮: ২৩
বিজ্ঞাপন