
এদেশে স্যুট হরহামেশাই পরা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক উপলক্ষে স্যুটের প্রয়োজন পড়ে। ফলে সিংহভাগ মানুষই এ পোশাকটির সঙ্গে সেভাবে অভ্যস্ত নয়। এদিকে শুরু হয়ে যাচ্ছে শীতকাল। বলা যায় এটি স্যুটের লুকে নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট জানান দেওয়ার মৌসুম। এসময় বিয়েসহ নানা ইভেন্ট লেগেই থাকে। আর সারাবছর গরমে স্যুট পরা এক কঠিন কাজ মনে হলেও এখন পুরুষেরা মেতে ওঠেন স্যুটেড বুটেড লুকে। যাকে বলে ড্যাপার স্টাইল।


কিন্তু হঠাৎ একদিন স্যুট পরতে গেলে কায়দা-কানুনের নানা ত্রুটি দৃষ্টিকটু হয়ে ধরা দেয়। অনেক সময় এসব ত্রুটি তৈরি করতে পারে বিব্রতকর পরিস্থিতিও। ঠিকভাবে স্যুট পরলে তা আপনার ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলবে। জ্যাকেটের বোতাম থেকে শুরু করে টাই-পকেট স্কয়ারের সমম্বয় প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ই আপনার লুককে করে তোলে পরিপূর্ণ। এই স্যুট এটিকেটগুলো জানা থাকলে তা আপনার সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলতে যেমন সাহায্য করবে তেমনি আত্মবিশ্বাসও যোগাবে।
কখনোই জ্যাকেটের নিচের বোতামটি লাগাবেন না
সাধারণত স্যুটের জ্যাকেটে দুটি বোতাম থাকে। অনেকেই দুটি বোতামই লাগিয়ে রাখেন, যা বেশ দৃষ্টিকটু। স্যুট পরার ক্ষেত্রে সবসময় জ্যাকেটের নিচের বোতামটি খোলা রাখুন। তিনটি বোতাম থাকলে সেক্ষেত্রে কেবল মাঝের বোতামটি লাগিয়ে রাখুন।

এই নিয়মের পেছনে রয়েছে মজার এক ইতিহাস। অনেকেই মনে করেন নিয়মটি এসেছে ইংল্যান্ডের রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের কাছ থেকে। বলা হয়ে থাকে রাজা তাঁর মধ্যবয়সে এতটাই মোটা হয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি তার জ্যাকেট পুরোপুরি বোতাম লাগিয়ে পরতে পারতেন না, নিচের বোতামটি খোলা রাখতেন। পরবর্তীতে রাজার অনুকরণে এটিই ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে গড়ে ওঠে।
বসার আগে জ্যাকেটের বোতাম খুলে দিন
বসার ক্ষেত্রে জ্যাকেটের বোতামটি খুলে রাখা উচিত। এতে জ্যাকেটের সামনের অংশ ভাঁজ পড়া থেকে রক্ষা পায়। লম্বা সময় ধরে এ অংশে ভাঁজ পড়লে তা জ্যাকেটের আকৃতি নষ্ট করে দেয়, তখন জ্যাকটটি শরীরে আর মানানসই লাগে না।

বোতাম খোলা থাকলে জ্যাকেটের সামনের অংশ দুপাশে সোজাভাবে ঝুলে থাকে, যা এর আকৃতি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়াও বোতাম লাগিয়ে বসলে সেটি নিজের জন্যও আরামদায়ক হয় না বরং শরীরে চাপ সৃষ্টি করে অস্বস্তি তৈরি করে।
শার্টের কাফ কিছুটা দৃশ্যমান রাখুন
স্যুটের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে জ্যাকেটের হাতার বাইরে শার্টের কাফ কিছুটা দৃশ্যমান রাখার স্টাইল বেশ নজর কাড়ে। আবার কাফ অতিরিক্ত বেরিয়ে থাকলে সেটিও দৃষ্টিকটু দেখাবে।

সাধারণত জ্যাকেটের হাতার নিচ থেকে ১/৪ ইঞ্চি থেকে ৩/৪ ইঞ্চি কাফ বাইরে রাখা উচিত। শার্টের কাফ আদর্শ পরিমাণে বাইরে থাকলে কাফলিংকও সুন্দরভাবে দেখা যায়, যা আপনার সাজে আভিজাত্য যোগ করে।
টাই ও পকেট স্কয়ার হুবহু মিলিয়ে পরবেন না
টাই ও পকেট স্কয়ার একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু লেটেস্ট ট্রেন্ড বলছে, এ দুটি হুবহু মিলিয়ে পরার চেয়ে সমন্বয় করে পরুন। এক্ষেত্রে টাই এবং পকেট স্কয়ারের মাঝে রঙ, প্যাটার্ন বা টেক্সচারের ঐকতান তৈরি করতে পারেন।

যদি আপনার টাইয়ে বড় প্যাটার্ন থাকে তাহলে পকেট স্কয়ার হিসেবে একরঙা কিছু বেছে নিন। আবার টাইটি যদি একরঙা হয়, সেক্ষেত্রে একটি চটকদার নকশার পকেট স্কয়ার আপনার সাজে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বেল্ট ও জুতার রঙ ম্যাচ করে পরুন
বেল্ট ও জুতার রং মিলিয়ে পরলে তা আপনাকে একটি পরিপাটি লুক দেবে। তবে শেড একদম হুবহু এক হবে এরকম নয়, বরং একই শ্রেণির রঙ রাখতে চেষ্টা করুন।

বাদামী জুতার সঙ্গে এর কাছাকাছি শেডের বেল্ট নির্বাচন করুন। এ ধরনের রঙের সমন্বয় আপনার সাজে পারিপাট্য আনে এবং আত্মবিশ্বাস যোগায়।
তথ্যসূত্র: ব্রিগিন্স ও স্যুট ডিরেক্ট
ছবি: জেমিনাই এআই