
শুরু হয়ে গিয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে এই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পরিণত হয়েছে এক বহুমাত্রিক বৈশ্বিক উদযাপনে। আর সে উদযাপনের উন্মাদনা বাংলাদেশেও কম নয়। প্রতি বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের মানুষের রীতিমতো পাগলপারা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল-জার্মানি সমর্থন নিয়ে নানা ঘটনা থাকে আলোচনায়।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে গত বিশ্বকাপে এ নিয়ে সাড়া পরে গিয়েছিল। এ বছরও প্রিয় দলের জার্সি পরে পুরোদমে ফ্যান্ডমে মেতেছে বাংলাদেশের সবাই। বিশ্বকাপের উদযাপন চলছে আড্ডায়, পতাকা দিয়ে দালান-কোঠা সাজানো বা গোটা রাস্তা-দেওয়ালে বিশ্বকাপের প্রিয় খেলোয়াড় ও পতাকার ছবি আঁকায়। ভরপুর খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে। বাজারে এসেছে বিশ্বকাপ থিমের আইসক্রিম। এদিকে যেকোনো উৎসবের উদযাপনে পোশাক বা অনুষঙ্গ এক প্রধান বিষয়। বিশ্বকাপেও তাই দেখা যাচ্ছে। প্রিমিয়াম স্পোর্টসওয়্যারের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতে জার্সি কেনাবেচার হিড়িক চলছে। অনলাইনেও কিনছে সবাই জার্সি আর ক্যাপ। অনেক উদ্যোগ এনেছে প্রিয় দলের থিমের শাড়ি বা গয়না। বিশ্বকাপ ফ্যাশন এখন এক বাস্তব ধারনা আমাদের দেশে। তবে এই প্রিয় দলের জার্সিকে জেনজি লেন্স দিয়ে দেখে নেক্সট লেভেলে নিয়ে গেলে তা থেকে হতে পারে এক আউট অব দ্য বক্স বিশ্বকাপ ফ্যাশন বিস্ফোরণ। হাল ফ্যাশনের আয়োজনে সেই প্রয়াসটিই নেওয়া হয়েছে ভরপুর উদযাপনের আমেজে।
সময়ের সঙ্গে ফুটবল জার্সি এখন আর কেবল খেলা দেখার সময় প্রিয় দলকে সমর্থনের পোশাক নয়; বরং স্ট্রিট স্টাইল, ফিউশন আর রানওয়ের আমেজে তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই জার্সিকেই ভাবা যায়। তা স্টাইলিং করা যায় নানাভাবে, যার কোনো শেষ নেই, সীমা নেই। আর এখন সেটাই করছে জেন-জিরা। কট্টর সমর্থকের মতো বা ভেবে এখন তরুণরা অনেক সময় ডিজাইন, রং ও নান্দনিকতার কারণে ভিন্ন দলের জার্সিও বেছে নিচ্ছে। স্পোর্টসওয়্যার কীভাবে সমসাময়িক ফ্যাশনে নতুন ভাষা তৈরি করছে, সেটাই এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ।

এই প্রজন্ম ফ্যাশন স্টেটমেন্ট প্রকাশে অনেক বেশি কুণ্ঠাহীন; জার্সিকে তারা ব্যক্তিগত স্টাইলের অংশ হিসেবে দেখছে। ইউনিভার্সিটি, গেট-টুগেদার বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা সবখানেই জার্সি-ভিত্তিক নানান স্টাইলিং দেখা যায়, যা কয়েক বছর আগেও খুব একটা পরিচিত ছিল না। এই পরিবর্তনের ভেতরেই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি ট্রেন্ড হলো ব্লোককোর (Blokecore)। এটি মূলত ফুটবল জার্সি, ভিনটেজ স্পোর্টসওয়্যার এবং ক্যাজুয়াল স্ট্রিট স্টাইলের মিশ্রণে তৈরি একটি ফ্যাশন আন্দোলন। ব্লোককোরের কেন্দ্রে থাকে ফুটবল জার্সি। এখানে জার্সি একটি আইডেন্টিটি স্টেটমেন্টও, যেখানে স্পোর্টস কালচার, ফ্যান্ডম আর স্ট্রিট লাইফ একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
বিশ্বকাপে প্রতিটি দলের জার্সি শুধু রং বা ডিজাইনের সমন্বয় নয়; বরং একটি দেশের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ভিজ্যুয়াল প্রতীক। হোম কিটে যেখানে ধরা থাকে ঐতিহ্যের ছাপ, সেখানে অ্যাওয়ে কিটে দেখা যায় নতুনত্ব, সাহসী ধারণা এবং নানান ধরনের ডিজাইন এক্সপেরিমেন্ট। এই জার্সিগুলোর সঙ্গে নিজের মতো করে স্টাইলিং করাই এখন ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে। তাই ফ্যাশন কেবল পোশাক পরা নয়, এটি একধরনের উদযাপনও। চলুন তবে দেখে নিই হাল ফ্যাশন গোল অ্যান্ড গ্ল্যামের আমেজে আপনি কোন দলের জার্সি কীভাবে স্টাইলিং করতে পারেন।
আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জার্সি বরাবরের মতোই আকাশি-সাদা ডোরাকাটা নকশায় ফিরে এসেছে, তবে এবার অ্যাডিডাস যুক্ত করেছে সূক্ষ্ম গ্রেডিয়েন্ট এফেক্ট, যা ডিজাইনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। ভার্টিকাল নীল ডোরার ভেতরের শেডগুলো অনুপ্রাণিত হয়েছে আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বজয়ের অধ্যায় থেকে, যেন ইতিহাসের তিনটি স্বর্ণালী মুহূর্ত একসাথে বোনা হয়েছে কাপড়ে। অন্যদিকে অ্যাওয়ে জার্সিতে কালো বেসের ওপর ঘূর্ণায়মান নীল বোটানিক্যাল গ্রাফিক্স উঠে এসেছে, যার অনুপ্রেরণা আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ফিলেতেয়াদো পোর্তেনিও লোকশিল্প। বুয়েনস আয়ার্সের নগর-সংস্কৃতি এখানে আধুনিক নকশায় রূপ পেয়েছে।

এই দুই জার্সিই স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে পেয়েছে নতুন মাত্রা। হোম জার্সিকে সাদা লং-স্লিভ শার্টের ওপর এখানে লেয়ার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জুটি হয়েছে কালো ফ্লেয়ার্ড ডেনিম প্যান্ট ও হাই-হিল বুট। গলায় ক্ল্যাসিক পার্লের মালা এবং মাথায় নীল ক্যাপ। অন্যদিকে আরেকটি ক্যাজুয়াল ও ওল্ড-স্কুল ভাইবে জার্সির সঙ্গে ভিন্টেজ-ওয়াশড ডেনিম জোর্টস পরা হয়েছে। এই লুকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ উজ্জ্বল হলুদ সক্স, যা নীল-সাদা টোন ভেঙে একটি পপ কালার স্টেটমেন্ট তৈরি করেছে। সঙ্গে আছে সাদা স্নিকার্স।
আকাশি-সাদা জার্সিকে আরও একটি লুকে বোল্ড ও গ্ল্যামারাস জেন-জি ফ্যাশনে রূপান্তর করা হয়েছে “ব্লকেট গ্ল্যাম” স্টাইলে। এখানে জার্সির সঙ্গে লেস গ্লাভস যুক্ত হয়ে এজি, ডার্ক ফেমিনিন ভাইব তৈরি করেছে। সঙ্গে কালো লেয়ার্ড মিনি স্কার্ট। তবে সবচেয়ে গেম-চেঞ্জিং অংশ হলো কালো থাই-হাই বুট, যা পুরো নীল-সাদা ভারসাম্য ভেঙে সরাসরি হাই-স্ট্রিট রানওয়ে এফেক্ট এনেছে।

অ্যাওয়ে লুকে গাঢ় জার্সির সঙ্গে সাদা লেসের সি-থ্রু স্কার্ট এবং চাঙ্কি সাদা স্নিকার্স স্পোর্টি ভাইবের সঙ্গে ফেমিনিন টাচ যোগ করেছে। মাথায় নীল-সাদা পোলকা ডট স্কার্ফ বা ব্যান্ডানা পুরো লুকে দিয়েছে ভিন্টেজ আমেজ।

অন্য একটি ক্যাজুয়াল স্টাইলিংয়ে জার্সিকে ইন করে সাদা বটমের সঙ্গে পরা হয়েছে। উল্টো করে পরা ক্যাপ এবং চোখে কালো সানগ্লাস পুরো লুকে এনেছে হিপ-হপ ও স্ট্রিট স্টাইলের শক্তিশালী উপস্থিতি।
ব্রাজিল
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ ও বোল্ড সবুজের জার্সি এবারও ফুটবল সংস্কৃতির পাশাপাশি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে নিজের জায়গা শক্ত করেছে। ক্যানারি ইয়েলো হোম জার্সির ভেতরে লুকিয়ে আছে ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের প্রতি শ্রদ্ধা, আর জার্সির জমিনে থাকা জ্যামিতিক ডায়মন্ড প্যাটার্ন ব্রাজিলের পতাকার প্রতিচ্ছবি হিসেবে ডিজাইনে এসেছে। অন্যদিকে অ্যাওয়ে জার্সি কালো ও নেভি টোনে অ্যামাজন রেইনফরেস্ট এবং পয়জন ডার্ট ফ্রগ থেকে অনুপ্রাণিত—যা ব্রাজিলের ডিজাইন ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপের একটি।

এই জার্সিগুলোকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে “সাম্বা স্ট্রিট-গ্ল্যাম” স্টাইলিং। কখনো ক্ল্যাসিক হলুদ জার্সিকে টাক-ইন করা হয়েছে ডার্ক গ্রিন চেক মিনি স্কার্ট আর লেদার বুট দিয়ে। আবার একই জার্সি ক্রপ টপ স্টাইলে পরানো হয়েছে লেপার্ড প্রিন্ট মিডি-স্কার্টের সঙ্গে।

হোম জার্সিকে আরও একটি লুকে ওভারসাইজড ডেনিম জোর্টস ও চেকারবোর্ড চাঙ্কি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে স্টাইল করা হয়েছে, সঙ্গে আছে ব্রাজিল লোগোযুক্ত সবুজ-সাদা ক্যাপ। অন্যদিকে অ্যাওয়ে জার্সিকে লুজ-ফিট ডেনিম জোর্টস এবং ব্ল্যাক লেদার বুটের সঙ্গে পরিয়ে তৈরি করা হয়েছে একদম আরবান, ওল্ড-স্কুল স্ট্রিট ভাইব।
ফ্রান্স
ফ্রান্সের হোম কিট আবারও প্রমাণ করেছে কেন ‘লে ব্লু’দের জার্সি ডিজাইন সবসময়ই নান্দনিকতার একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। গাঢ় নীল রঙের সেই চিরচেনা জমিনে এবার যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন শেডের ডায়াগনাল প্যাটার্ন।

এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার নিঃসন্দেহে সাদা ফোল্ড-ওভার কলার, যা পুরো ডিজাইনে যুক্ত করেছে ক্লাসিক ফরাসি এলিগ্যান্স। এই ঐতিহ্যবাহী গাঢ় নীল রঙের জার্সিকে এখানে নব্বই দশকের আরবান হিপ-হপ স্টাইলের সঙ্গে মিশিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জুটি হয়েছে ব্যাগি ডেনিম প্যান্ট। মাথায় স্টাইলিশভাবে বাঁধা কালো ব্যান্ডানা এবং পায়ে সাদা স্ট্রাইপযুক্ত কালো স্নিকার্স।
জার্মানি
জার্মানির জাতীয় দলের হোম কিটটি শুধু একটি নতুন ডিজাইন নয়, বরং এক যুগের সমাপ্তির প্রতীকও বটে। ২০২৭ সাল থেকে দলের জার্সি সরবরাহের দায়িত্ব নাইকির হাতে যাওয়ায়, এটি অ্যাডিডাস যুগের এক স্মরণীয় বিদায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেই নস্টালজিয়াকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এই প্রতীকী ডিজাইন।

হোম কিটে জার্মান পতাকার কালো, লাল ও সোনালি রঙের ভি-মোটিফের উপস্থিতি স্পষ্ট। এই ক্ল্যাসিক ভি-নেক জার্সির সঙ্গে জুটি হয়েছে ডার্ক-ওয়াশড জোর্টস, চেকারবোর্ড প্যাটার্নের মোজা এবং রেট্রো স্নিকার্স।
ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের হোম জার্সিতে নব্বই দশকের উম্ব্রো যুগের রেট্রো নান্দনিকতা আবারও আধুনিকভাবে ফিরে এসেছে। এখানে একাধিক পরিচিত ডিজাইন রেফারেন্সকে একত্র করে তৈরি করা হয়েছে এই হোম কিট। এই জার্সিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে “থ্রি লায়ন্স ওল্ড-মানি” স্টাইলিং, যেখানে ইংল্যান্ডের ট্র্যাডিশনাল সাদা হোম কিট রূপ নিয়েছে এক ফর্মাল ফ্যাশন স্টেটমেন্টে।

ক্ল্যাসিক সাদা জার্সিকে টাক-ইন করা হয়েছে হাই-ওয়েস্টেড ব্ল্যাক ফরমাল বটম এবং কালো চেলসি বুটের সঙ্গে। ব্যাক-ব্রাশড হেয়ারস্টাইল এই স্টাইলিংকে আরও সুন্দর করে তুলেছে, আর সামগ্রিকভাবে সাধারণ অ্যাথলেটিক ফিল ভেঙে লুকটিতে যোগ করেছে ওল্ড-মানি ড্যাপার ভাইব।
জাপান
জাপানের হোম জার্সি মানেই সেই পরিচিত “সামুরাই ব্লু” । গাঢ় নীল, লাল ও সাদা রঙের সমন্বয়ের এই কিট তো আছেই, এর বিপরীতে অ্যাওয়ে কিট তৈরি করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহ। জার্সিটির সবচেয়ে আলোচিত দিক নরম অফ-হোয়াইট বেসের ওপর ১২টি রেইনবো পিনস্ট্রাইপ; যেখানে ১১টি রেখা মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়কে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে। এবং মাঝের লাল স্ট্রাইপটি জাপানি ফুটবলের সমর্থকগোষ্ঠীর আবেগ ও উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর বাইরে গিয়ে জাপানের হোম ও অ্যাওয়ে জার্সিকে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে “সামুরাই এথনিক-কোর” স্টাইলে। এখানে এথনিক ফিউশন ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের নান্দনিকতা একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে।

হোম জার্সিকে আউট অব দ্য বক্স আমেজে স্টাইল করা হয়েছে নীল চেকের লুঙ্গির সঙ্গে। কোমরে মেটালিক বাকল বেল্ট আর পায়ে কালো প্ল্যাটফর্ম লোফার্স আছে। অন্যদিকে অ্যাওয়ে জার্সিকে ক্রপ-টপ স্টাইলে উপস্থাপন করা হয়েছে নীল হাই-স্লিট স্কার্টের সঙ্গে, যেখানে গোলাপি হাই-হিল বুট লুকটিকে দিয়েছে সাহসী ফিনিশ। একই অ্যাওয়ে জার্সিকে আবার সবুজ স্ট্রাইপযুক্ত ট্রাইবাল হাই-স্লিট স্কার্টের সঙ্গেও স্টাইল করা হয়েছে, যেখানে ডার্ক গ্রিন লেদার বুট এবং সাজ পেয়েছে আলাদা মাত্রা।
নেদারল্যান্ডস
ডাচদের চিরাচরিত কমলা জার্সি সবারই চেনা। ডিজাইনটি একেবারেই মিনিমাল; কোনো জটিল গ্রাফিক বা অতিরিক্ত প্যাটার্ন নেই। শুধু বিশুদ্ধ কমলা রঙই এখানে মূল, যা নেদারল্যান্ডসের ফুটবল পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হিসেবে আছে। নেদারল্যান্ডসের উজ্জ্বল কমলা রঙের জার্সিকে বোল্ড জেন-জি স্টাইলে উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্পোর্টি ডাচ জার্সির সামনে রুশড ডিটেইলিং দিয়ে ফিটেড সিলুয়েট তৈরি করা হয়েছে, সঙ্গে জুটি হয়েছে কালো ভেলভেট মিনি স্কার্ট। পায়ে কালো থাই-হাই লেদার বুট পুরো লুকে এনেছে এক ধরনের হাই-স্ট্রিট রানওয়ে ভাইব। রেট্রো ব্ল্যাক সানগ্লাস এবং চুলের রিবন ও রঙিন ক্লিপের স্টাইলিং পুরো আউটফিটের কালার থিমের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া
২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত অ্যাওয়ে কিট হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার জার্সির কথা আসবেই। সফট পার্পল ও ল্যাভেন্ডার টোনে তৈরি অল-ওভার ব্লসম গ্রাফিক আর ফ্লোরাল মোটিফ পুরো জার্সিতে এনে দিয়েছে এক ধরনের স্বপ্নময় আবহ। যেন ফুটবল জার্সির প্রচলিত সীমাকে ভেঙে রং, সংস্কৃতি ও আধুনিক ডিজাইনের এক সুন্দর সমন্বয় এই জার্সিটি।

এই নান্দনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কোরিয়ার বেগুনি-সাদা অ্যাওয়ে জার্সিকে উপস্থাপন করা হয়েছে অত্যন্ত হাই ফ্যাশন স্টাইলে। যাকে “কে-স্ট্রিট” স্টাইলও বলা যেতে পারে। জার্সির নিচে লেয়ার করা হয়েছে ড্রামাটিক কলার এবং বড় ফ্লেয়ার্ড কাফযুক্ত গাঢ় সবুজ শার্ট দিয়ে। পুরো আউটফিটের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সাদা থ্রি-ডি ফুলের স্টেটমেন্ট স্কার্ট, সঙ্গে ডার্ক গ্রিন লেদার বুট।
স্পেন
স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ হোম ও অ্যাওয়ে কিট যেন ভিন্ন দুই নান্দনিক ভাষায় কথা বলে। ২০২৪ সালের দুই-টোন লাল ও হলুদ ডিজাইনের পর হোম কিটে আবার ফিরে এসেছে গাঢ় নীলের সংযোজন। অন্যদিকে অ্যাওয়ে জার্সি আরও বেশি দৃষ্টিনন্দন ও অলংকৃত। ক্রিমি বেস রঙের ওপর মেরুন এবং বার্নিশড গোল্ডের সূক্ষ্ম ডিটেইলিং। জমিনজুড়ে থাকা কুণ্ডলী লতাগুল্মের মোটিফ অনুপ্রেরণা এসেছে স্পেনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপির গোল্ড-লিফ ইলুমিনেশন আর্ট থেকে।

এই জার্সিগুলোকে ঘিরে তৈরি স্টাইলিংও পেয়েছে আলাদা মাত্রা। এক লুকে স্পেনের অ্যাওয়ে জার্সিকে ইন করা হয়েছে বাদামি-সাদা চেক মিনি স্কার্টের সঙ্গে। পায়ে প্ল্যাটফর্ম হিলযুক্ত সাদা লেদার বুট ও সাদা মোজা পুরো লুককে নিয়ে গেছে জেন-জি রানওয়ে মুডে। স্পোর্টসওয়্যার যেন এখানে সরাসরি ফ্যাশন স্টেটমেন্টে রূপ নিয়েছে । অন্যদিকে স্পেনের ক্লাসিক লাল হোম জার্সির সঙ্গে কালো স্পোর্টস শর্টস, হলুদ গ্রাফিক কার্টুন মোজা আর সঙ্গে সাদা স্নিকার্স লুকটি সম্পূর্ণ করেছে।
পর্তুগাল
পর্তুগালের চিরচেনা হোম জার্সিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে সমুদ্রের প্রবাহমানতা এবং গতিময়তার অনুপ্রেরণা। পুরো ডিজাইনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এটি সাগরের ঢেউয়ের অবিরাম ছন্দ ও শক্তিকে ধারণ করে; এটি পর্তুগিজ ফুটবলের আক্রমণাত্মক খেলার ধরনকেও প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে।

এই মেরুন-লাল রঙের জার্সিকে এখানে বাঙালি ঐতিহ্য ও আরবান ক্যাজুয়াল কালচারের মেলবন্ধনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক লুকে জার্সির সঙ্গে জুটি হয়েছে দেশীয় সবুজ তাঁতের শাড়ির চোখধাধান ড্রেপিং। পায়ে পরা কালো হাই-হিল বুট পুরো আউটফিটে যোগ করেছে বোল্ড ফিনিশ। আরেকটি লুকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আরবান ও ওল্ড-স্কুল ভাইব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একই জার্সির সঙ্গে। জুটি হয়েছে ডেনিম জোর্টস, ক্যাপ এবং পায়ে ক্ল্যাসিক থ্রি-স্ট্রাইপ স্নিকার্স।
ভাবনা: ফ্লোরিডা শুভ্রা রোজারিও
সমন্বয়: শেখ সাইফুর রহমান, জাহিদুল হক ও নাদিয়া ইসলাম
মডেল: জারিফ, সুকানন, আরহাম, মাহেলেকা, শাকিরা, তিশা, তানহা
ছবি: তানভীর খান
স্টাইলিং: তানহা শেখ ও ফ্লোরিডা শুভ্রা রোজারিও
মেকওভার : হাসান
লোকেশন: শেফ’স টেবিল কোর্টসাইড
পোশাক: গোল-ই, রঙস অ্যান্ড রেভেলস, তান, ক্যাথরিন’স ওয়্যারড্রব
ক্যাপ: স্পিনার
গয়না: বিজেন্স
ভিডিওগ্রাফি ও সম্পাদনা: কানিজ ফাতেমা
শুট অ্যাসিস্ট্যান্ট: রাকিবুল আলম রিফাত
নেপথ্য ভাবনা: নাদিমা জাহান
আয়োজন: হাল ফ্যাশন