আর্কার শেষ সেমিনারে সমসাময়িক ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে রিটেইল বাজারের ঘাটতি খোঁজার প্রয়াস
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আর্কা ফ্যাশন উইকের শেষ দিনে সেমিনারের বিষয় ছিল হোয়াট কনটেম্পোরারি কনজিউমার্স অ্যাকচুয়ালি ওয়ান্ট: দ্য গ্যাপস ইন রিটেইল। এর বাংলা করলে দাঁড়ায়, সমসাময়িক ভোক্তারা আসলে কী চান: রিটেইল বাজারের কমতি বা ঘাটতি।
আইস মিডিয়া লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিয়া খন্দকার মডারেট করেন সেমিনারটি। এখানে তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত আলোচনা হয় ফ্যাশন পণ্যের সমসাময়িক ক্রেতাদের চাহিদাগুলো ও সে সকল চাহিদার নিরিখে বাংলাদেশের রিটেইল মার্কেটের ঘাটতিগুলো নিয়ে৷ আলোচক হিসেবে ছিলেন কে  ক্রাফটের ম্যানেজিং পার্টনার ও দেশি দশ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ খান, ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার সোবিয়া আমিন ও টেপার্ডের প্রতিষ্ঠাতা রায়ান চৌধুরী।

আলোচকরা বলেন বাংলাদেশের বয়নশিল্পের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেমন সমৃদ্ধ, বর্তমান খুচরা বাজার ততটা এগোতে পারেনি
আলোচকরা বলেন বাংলাদেশের বয়নশিল্পের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেমন সমৃদ্ধ, বর্তমান খুচরা বাজার ততটা এগোতে পারেনি

বাংলাদেশের বয়নশিল্পের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেমন সমৃদ্ধ, বর্তমান খুচরা বাজার ততটা এগোতে পারেনি। আমাদের স্থানীয় ফ্যাশন বাজারে যা চাই, তেমন পাই না। তাই বিদেশী বান্ডের দিকে ঝুঁকতে হয়। রেডি টু ওয়্যারের ক্ষেত্রে এই ঘাটতিটি সবচেয়ে বেশি। এ কথাগুলোই উঠে এল প্রথমে আলোচনায়।

বিজ্ঞাপন

রিটেইল বাজার, ক্রেতা ও নতুন ব্রান্ডগুলোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন খালিদ মাহমুদ খান। গল্প শোনান কে ক্র্যাফটের পাশাপাশি কে ইয়াং আনার। বলেন, অন্য ব্র্যান্ডগুলো শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে পোশাক তৈরি করত। ঋতুভিত্তিক কাজ করা শুরু করে একে জনপ্রিয়তা দেয় কে ক্র্যাফট। এখনকার তরুণ ক্রেতারা সচেতন। টেকসই ফ্যাশন পণ্য চান তাঁরা। এখনকার ছেলে মেয়েরা ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক পোশাকের সংমিশ্রণ পছন্দ করেন। ফিউশন বলি আমরা তাকে। আর ক্রেতারা চান অনলাইনে অনায়াসে ঝামেলাবিহীনভাবে কেনাকাটা করতে৷ নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ধারাকে ভালোবাসেন। সমসাময়িক বিষয় মানে ঐতিহ্য থাকবে না, সেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, যোগ করেন অমিয়া খন্দকার।

নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন খালিদ মাহমুদ খান
নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন খালিদ মাহমুদ খান
সোবিয়া আমিন বলেন, জেন জি প্রজন্ম অনেক সাহসী
সোবিয়া আমিন বলেন, জেন জি প্রজন্ম অনেক সাহসী

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট সোবিয়া আমিন বলেন, জেন জি প্রজন্ম অনেক সাহসী। নিজের মতো করে ফ্যাশনওয়্যার চান তাঁরা। এদের মাঝে দুই ধরনের ফ্যাশনিস্তা আছেন। এক দল হচ্ছেন যারা একবার কোনো পোশাক পরে আর পরতে চান না। আবার আরেকদল আছেন পরিবেশ নিয়ে সচেতন ও স্লো ফ্যাশনে বিশ্বাসী। তবে আমাদের ডিজাইনের রপ্তানি কম। হাতে গোনা কয়েকজনের পোশাক বিশ্ববাজারে পৌঁছাচ্ছে। আর ক্রেতারা নিজেদের স্থানীয় ব্র্যান্ডকে সাপোর্ট করে কম। ব্র্যান্ডগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বর্তমান ধারার বিষয়ে ধারণা রাখা।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর কথায় উঠে আসে। তা হলো ফ্যাশন ব্যবসায়ী ও ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইডারদের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয়ের অভাব।

বিজ্ঞাপন

সেই প্রসঙ্গ টেনে খালিদ মাহমুদ খান যোগ করেন, আমদানিতে ২২.৫ শতাংশ কমানো হয়েছে ট্যাক্স। আর দেশীয় উৎপাদকদের ট্যাক্স বাড়ছে। ইন্ডাস্ট্রির সবাই মিলে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ আমরা৷ আর মিডিয়া ও ফ্যাশন হাউজগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। তবে রায়ান চৌধুরী শুরু করেন ভিন্ন ভাবে। তিনি বলেন,এই সমসাময়িক ক্রেতারা আসলে কী চান তাঁরা নিজেরাও খুব স্পষ্টভাবে জানেন না। তাঁরা শুধু অনুভব করতে চান৷ এক্ষেত্রে ডিজাইনারদেরই একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা উচিত। ফ্যাশন ট্রেন্ড যদি আমরা তৈরি ও ধারণ করতে পারি, তবেই ক্রেতাদেরকে ধরে রাখা যাবে৷  

রায়ান চৌধুরী শুরু করেন ভিন্ন ভাবে
রায়ান চৌধুরী শুরু করেন ভিন্ন ভাবে
খালিদ মাহমুদ খান সমসাময়িক ক্রেতাদেরকে পেতে ইনসাইডাররা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা  নিয়েও আলোচনা করেন
খালিদ মাহমুদ খান সমসাময়িক ক্রেতাদেরকে পেতে ইনসাইডাররা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা নিয়েও আলোচনা করেন

খালিদ মাহমুদ খান সমসাময়িক ক্রেতাদেরকে পেতে ইনসাইডাররা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা  নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্রেতাদের ভিন্ন কিছু স্টাইলের সঙ্গে পরিচিত করা ব্রান্ডগুলোর উপর বর্তায়। আর সেই সঙ্গে ক্রেতাদের সেবায় আরও কিছু টেকনিক্যাল মাধ্যম আছে। শুধু ডিজাইনার আর ভোক্তা নয়, পণ্যগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থান করতে উপযুক্ত লোক দরকার৷

আলোচকদের কথায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে
আলোচকদের কথায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে

সেমিনার শেষে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সুপরিচিত ফ্যাশন ডিরেক্টর ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদ জানতে চান বাংলাদেশের রিটেইল বাজারে চাহিদা অনুযায়ী দেশে তৈরি পোশাক আসছে কিনা। আর নতুন সংগ্রহ আনার আগে এ নিয়ে কোনো স্টাডি হয় কিনা। রায়ান চৌধুরী জানান এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মতামত দেন, নকশার স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইনারদের থেকে আসা উচিত৷ ঢালাওভাবে বিদেশি ট্রেন্ড অনুসরণ করে টেকসই সফলতা পাওয়া যাবেনা।

ছবি: আশিকুর রহমান

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১৯: ২৬
বিজ্ঞাপন