
পুরোনো দিনের গয়নার আবেদন এমন, যা ছাপিয়ে যেতে পারে আধুনিক গয়নাকেও। লাল রঙের পলা একসময়ে ছিল বৈবাহিক জীবনের চিহ্ন। বিশেষ করে হিন্দু বিবাহ রীতিতে শাঁখা ও পলা অপরিহার্য। কিন্তু পলা পরার পুরোনো রীতি এখন স্থান করে নিয়েছে ফ্যাশন ট্রেন্ডে।

একসময়ে শুধু বিবাহিত হিন্দু নারীরাই শাঁখার সঙ্গে হাতে লাল রঙের পলা পরতেন। আর এই পলার ধরন ও ডিজাইন ছিল আলাদা। পলার রং ও নকশায় এসেছে পরিবর্তন। লাল ছাড়াও সাদা, কালো, সবুজ, নীল, বেগুনি, ম্যাজেন্টা, হলুদের মতো উজ্জ্বল রংগুলো এখন ট্রেন্ডি।

আর পলা এখন শুধু বিবাহিত নারীদের জন্য নয়, এটি হয়ে উঠেছে সর্বজনীন ফ্যাশন অনুষঙ্গ। রীতিনীতির বাইরে পলা এখন অন্যান্য চুড়ির মতোই ব্যবহার হয়। একরঙা ও মসৃণ পলার পাশাপাশি সোনা ও রুপার পরত দিয়ে নকশা করা পলার চাহিদা বেশি বললেন সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির প্রধান জেরিন তাসনিম খান।
পলার ওপর করা ট্রেন্ডি ডিজাইনের আছে নানা রকমের নামও। পুরোনো ধারার ডিজাইনের পাশাপাশি আধুনিক ধরনের নকশা করা পলা সমানভাবেই জনপ্রিয়। মটরদানা ও মকরমুখী ডিজাইন আগেরকার দিনে খুব প্রচলিত নকশা ছিল। এখনো এই ডিজাইন ট্রেন্ডি।

এ ছাড়া সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই স্লিক ধরনের পলাও অনেকেই পছন্দ করেন। তবে এখন সব থেকে বেশি জনপ্রিয় চুড়ি আদলের পলা। দেখতে পলার মতো হলেও কাটিং ও নকশায় কিছুটা পার্থক্য থাকে। আছে ব্রেসলেট আকারের পলা।
পলার ওপর হালকা ও ভারী দুই ধরনের নকশাই করা হয়। আধুনিক নকশার মধ্যে জিল ফ্যাশন পলা, পার্মার পলা, পাতা নকশার পলা, কাটাই পলা, ঝুনঝুনি দেওয়া পলা, ফুল কাটা পলা, বালা আদলে পলা। অন্য চুড়ির সঙ্গে মিলিয়ে বা কয়েকটি পলা চুড়ির মতো করে অনেকেই পরেন।

পলা ফ্যাশন শুধু চুড়িতেই আটকে নেই। পলা দিয়ে ডিজাইন হচ্ছে চোকার, মালা ও দুল। যার নাম গলা পলা ও পলা দুল। পলা মূলত বেশ দামী উপকরণে তৈরি হয়। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গয়না হিসেবে প্লাস্টিকের চুড়িকেই পলার আদলে ডিজাইন করা হয়ে থাকে।