
গয়না তৈরিতে কখনো কখনো শিল্পীর সৃজনশীলতা, ধৈর্য আর কারিগরি দক্ষতার এমন সমন্বয় ঘটে, যা একটি ছোট অলংকারকেও শিল্পকর্মে পরিণত করে। তেমনই এক অনন্য সৃষ্টি ‘সোরিং স্পিরিট’ নামের ফড়িং আকৃতির ব্রোচ।

এটি তৈরি করতে বিখ্যাত চীনা গয়না শিল্পী ওয়ালেস চ্যানের সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। সম্প্রতি ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির পোশাকে দেখা যাওয়ার পর বিরল এই অনুষঙ্গটি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

এর দাম ১২ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৬ কোটি ২০ লাখের মতো বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রোচটি তৈরি করতে ১০ বছর লাগল কেন?
স্বপ্নে পাওয়া নকশা
ফড়িং আকৃতির ব্রোচটির ভাবনা ওয়ালেস চ্যানের মাথায় এসেছিল একটি স্বপ্ন থেকে। সেই স্বপ্নের কল্পনাকে বাস্তব অলংকারে রূপ দিতে হয়েছে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে।

নিজস্ব যন্ত্রপাতি তৈরি
প্রচলিত যন্ত্র দিয়ে প্রয়োজনীয় সূক্ষ্ম কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই উপকরণগুলোকে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়তে বিশেষ যন্ত্রপাতি তৈরি করতে হয়েছিল তাঁকে।

টাইটানিয়ামের ব্যবহার
ফড়িংয়ের শরীর তৈরি হয়েছে টাইটানিয়াম দিয়ে। এটি হালকা হলেও অত্যন্ত শক্ত ধাতু। একে এমনভাবে তৈরি করতে হয়েছে, যাতে ব্রোচটি নমনীয় হয় এবং পরিধানকারীর শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নড়তে পারে।
দুর্লভ রত্নের কারুকাজ
এতে রয়েছে ১৭ দশমিক ৬৭ ক্যারেটের সাভোরাইট গারনেট, ডেমানটয়েড গারনেট, রুবি, গোলাপি স্যাফায়ার ও বিভিন্ন রঙের হীরা। প্রতিটি রত্নের অবস্থান ও বিন্যাস নির্ধারণ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ।


ডানার বিশেষ নকশা
ফড়িংয়ের ডানা তৈরি করা হয়েছে অ্যাবাকাস বা প্রাচীন গণনাযন্ত্রের পুঁতির আদলে। এর মাধ্যমে সময় ও গতির ধারণা ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। ডানার প্রতিটি অংশ হাতে তৈরি করতে হয়েছে।
কেন এটি এত বিশেষ?

এই ব্রোচের বিশেষত্ব শুধু এর দামি রত্নে নয়। একটি জীবন্ত ফড়িংয়ের নড়াচড়া, প্রকৃতির সৌন্দর্য, সময়ের ধারণা এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে একই অলংকারে তুলে ধরেছেন ওয়ালেস চ্যান। প্রায় এক দশকের শ্রমে তৈরি এই ব্রোচ তাই গয়নার পাশাপাশি এক অনন্য শিল্পকর্ম।
সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি: ইন্সটাগ্রাম