ভেড়ার খামার যখন ফ্যাশনের অনুপ্রেরণা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

কারু অঞ্চলের এই উৎসব দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি-পর্যটন বা অ্যাগ্রি-টুরিজম   ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। এখানে একজন দর্শনার্থী ভেড়ার পালন থেকে শুরু করে পোশাক তৈরির শেষ ধাপ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন। ২০২২ সাল থেকে শুরু হয় এই উৎসব।

মডেলদের পশমের পোশাক শুধু উষ্ণতাই দেয় না, বরং এ অঞ্চলের পরিচয় বহন করে
মডেলদের পশমের পোশাক শুধু উষ্ণতাই দেয় না, বরং এ অঞ্চলের পরিচয় বহন করে
ছবি: রয়টার্স

প্রতি বছর জুলাই মাসে আয়োজিত এই উৎসব মূলত ‘মেরিনো’ ভেড়ার পশমকে কেন্দ্র করে। এই ভেড়া বিখ্যাত তাদের নরম ও উষ্ণ পশমের জন্য, যা বিশ্বব্যাপী উচ্চমানের উলের উৎস হিসেবে পরিচিত।

এই পশম শুধু ফ্যাশনের উপাদান নয়, বরং তাদের জীবিকা ও সংস্কৃতির ভিত্তি
এই পশম শুধু ফ্যাশনের উপাদান নয়, বরং তাদের জীবিকা ও সংস্কৃতির ভিত্তি
ছবি: রয়টার্স

উল থেকে শুরু, ফ্যাশনে শেষ

উৎসবের মূল আকর্ষণ থাকে, ভেড়ার পশম কাটা, সুতা তৈরি, রং করা, বুনন এবং এ থেকে তৈরি পোশাক উপস্থাপন। ঐতিহ্যবাহী কৌশলগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে উলের এই শিল্পকে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করা হয়। উৎসবের এই সময় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য নিয়ে মেলার আয়োজনও করা হয়। পাশাপাশি থাকে ফ্যাশন শো। যেখানে উলের তৈরি পোশাকে মডেলরা র‍্যাম্পে হাঁটেন। যা শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং সে অঞ্চলের উল শিল্পের অর্থনৈতিক শক্তিকে তুলে ধরে। উলের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়ার তৈরি জ্যাকেট, ব্যাগ, জুতা ইত্যাদিও প্রদর্শিত হয় মেলায়।

দর্শনার্থীো দেখছেন কীভাবে দক্ষ হাতে পশম কাটা হয়
দর্শনার্থীো দেখছেন কীভাবে দক্ষ হাতে পশম কাটা হয়
ছবি: রয়টার্স

স্বাদও উৎসবের অংশ

উৎসবের আরও একটি বিশেষ হচ্ছে কারু অঞ্চলের বিখ্যাত মাটন ও ল্যাম্ব ডিশ। খাবারগুলো স্বাদে ও ঐতিহ্যে ভরপুর। যা বিশ্বের ও দক্ষিণ আফ্রিকার নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বিজ্ঞাপন

কৃষিকে উপস্থাপন করতেই এই উৎসব

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পশম রফতানিকারক দেশ
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পশম রফতানিকারক দেশ
ছবি: রয়টার্স

আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষায়, এই উৎসবের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো। শহরে থেকে আমরা যে পোশাক ও পণ্য ব্যবহার করি, সেগুলোর পেছনে আছে এক বিশাল কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এই উৎসবে অংশ না নিলে কেউ হয়তো জানবে না, সুতি বা উলের পোশাকগুলো এসেছে তুলা ক্ষেত বা ভেড়ার খামার থেকে। বা একটি বিলাসবহুল চামড়ার ব্যাগ বা জুতা এসেছে ছাগল, ভেড়া বা উটপাখির চামড়া থেকে। আর এর পেছনে কাজ করছেন কৃষক, বয়নশিল্পী বিভিন্ন ধরনের কারিগরেরা।

উচ্চমানের এই উল গ্রীষ্ম ও শীত উভয় সময়ে পরিধানযোগ্য
উচ্চমানের এই উল গ্রীষ্ম ও শীত উভয় সময়ে পরিধানযোগ্য
ছবি: রয়টার্স

উৎসবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে কারু উইন্টার উল ফেস্টিভ্যাল নিয়ে বলা হয়েছে, আমাদের লক্ষ্য হলো কারু অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্য উল (পশম)-কে ঘিরে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করা। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা মানুষকে উল সম্পর্কে জানাতে চাই। কেন এটি একটি চমৎকার তন্তু। এবং কীভাবে এটি কৃষি খামার থেকে আমাদের প্রতিদিনের পোশাক বা ব্যবহার্য পণ্য তৈরি হয়।

এই উৎসব শুধু পশমের প্রদর্শনী নয়, বরং এটি দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে ঘিরে এক অনবদ্য আয়োজন
এই উৎসব শুধু পশমের প্রদর্শনী নয়, বরং এটি দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে ঘিরে এক অনবদ্য আয়োজন
ছবি: রয়টার্স

আমরা শুধু এই প্রক্রিয়াটি প্রদর্শন করতে চাই না। বরং সেই সব ব্যবসাকেও তুলে ধরতে চাই, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার উল দিয়ে দারুণ সব উলজাত পণ্য তৈরি হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে উল শিল্পে কাজ করা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। যেখানে তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন করতে পারবেন, তাদের গল্প শেয়ার করতে পারবেন এবং একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে একটি দৃঢ় উল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন।

উৎসবটি নিয়ে ভোগ পর্তুগালের কভার স্টোরি
উৎসবটি নিয়ে ভোগ পর্তুগালের কভার স্টোরি
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

কারু উইন্টার উল ফেস্টিভ্যাল প্রমাণ করে, একটি ঐতিহ্যগত কৃষিভিত্তিক শিল্পও কীভাবে আধুনিক দুনিয়ায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। কৃষকেরা তাদের গর্বের ভেড়াগুলোর পরিচর্যা করেন, শ্রমিকেরা দক্ষ হাতে পশম কাটেন, উদ্যোক্তারা তৈরি করেন পণ্য—সব মিলিয়ে এটি এক ‘সাসটেইনেবল ইকোনমি’ মডেলের প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৮: ৫২
বিজ্ঞাপন