
'শুভ্র বালির সৈকতে, এলোমেলো বাতাসে, গিটার হাতে'...
ওয়ারফেজের ভক্তদের কাছে অবাক ভালোবাসা গানটির এই লাইনগুলো এক অন্যরকম আবেগের নাম। সেই ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজের অবাক ভালোবাসা অ্যালবামটি। এই অ্যালবামে বাবনা করিমের গাওয়া অবাক ভালোবাসা গানটি খুব দ্রুত সকলের মন জয় করে নেয় আর ওয়ারফেজের এই চল্লিশ বছরে তা পেয়েছে এক ক্ল্যাসিকের মর্যাদা। গানটির কথা,সুর,গায়কীর সঙ্গে সঙ্গে এই অ্যালবামের কভারটিও সকলের হৃদয় জয় করেছে। এই গানের তারা ভরা রাতের আকাশের নিচে নির্জন সাগরপাড়ে গিটার হাতে এক আনমনা আর ভালোবাসায় বুঁদ হয়ে থাকা প্রেমিকের হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতির অনন্য প্রকাশ এই প্রচ্ছদের ছবিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে।



এমন এক ক্ল্যাসিক গানকে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন প্রজন্মের কছে আবার নতুন করে তুলে ধরেছে কোক স্টুডিও বাংলা। আর এর চিত্রায়ণে অত্যন্ত পরিশীলিত বা যাকে ইংরেজিতে বলে সাটলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সুপরিকল্পিত সাজপোশাক। গানটির ভিডিওতে বাদ্যযন্ত্র বাজানো আর কোরাস ও ব্যাকআপে অংশ নেওয়া শিল্পীদের পরনে সাগরপাড়ের থিমে করা রঙবতীর কড়ির গয়নাগুলো ফ্যাশনপ্রেমী ও অ্যাসথেটিক সেন্সের মানুষের নজর এড়ায়নি। এর আদ্যোপান্ত নিয়ে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে কথা হলো রঙবতীর অন্যতম কর্ণধার ও প্রধান ডিজাইনার নাঈমা তাহসিনের।
কোক স্টুডিওর সাজসজ্জার পুরো দায়িত্বে রয়েছেন দেশের স্বনামধন্য রূপসদন চেইন পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত খান। সিজন ওয়ান থেকেই এখানে ব্যবহৃত বেশিরভাগ গয়না রঙবতীর। আর গয়নাগুলোর নকশা করা হয় গানগুলোর সুর, কথা আর পরিবেশনার পুরো আমেজের বিষয় মাথায় রেখে। বহু নির্ঘুম রাত, অক্লান্ত পরিশ্রম আর সৃজনশীল ডিজাইনের বাস্তবায়নের এই আখ্যানের পেছনের গল্পটি সামনে এল রঙবতীর ডিজাইনার ও প্রতিষ্ঠাতা নাঈমা তাহসিনের সঙ্গে কথোপকথনে।


বলছিলেন, তিনি ও রঙবতীর আরেক স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ফাহমিনা বিনতে ইব্রাহিম মিলে ২০১৫ সালে রঙবতী শুরু করেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে ফিউশনধর্মী ডিজাইনের বদৌলতে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় পাকাপোক্ত অবস্থান গড়ে নিয়েছেন তাঁরা। প্রধান দুই ডিজাইনার নাঈমা ও ফাহমিনার ডিজাইনকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাকি টিম মেম্বারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। কোক স্টুডিও অধিকাংশ গয়নাই টিম রঙবতীর করা।
অবাক ভালোবাসা গানটির প্রতি নিজের আবেগের কথা প্রথমেই ব্যক্ত করলেন নাঈমা। আর সেই সঙ্গে গানের কথা ও অ্যালবাম কভারের সঙ্গে মিল রেখে সাগরপাড়ের থিম বেছে নেওয়ার কথাও বললেন তিনি। নাঈমার বয়ানে, আমাদের দেশের সবচেয়ে গৌরবময় এক দিক হচ্ছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন এই সৈকতের প্রতীক কড়ি, শামুক, ঝিনুক। তাই তিনি সাদা কড়ি বেছে নিয়েছেন এ গানের চিত্রায়নের জন্য। জানা গেল, তিনি ও ফাহমিনা আর সেই সঙ্গে টিমের সবাই অর্থাৎ কারিগর ও টিম মেম্বার মিলে ১৭ জনের তিন দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই গয়নাগুলো। এই গানে ব্যবহৃত এই গয়নাগুলোর ডিজাইনে একটি বিষয় বেশ লক্ষ্যনীয়। সাধারণত আমরা কড়ির ব্যবহার দেখি বোহো আমেজের বা ট্রাইবাল ঘরানার গয়নায়। কিন্তু রঙবতীর এই গয়নাগুলো বরং এখান থেকে বের হয়ে এসেছে। এখানে মিনিমালিজম, নান্দনিকতা আর এলিগেন্স রাখা হয়েছে নকশায়।


নাঈমা বললেন, নেকপিস নয়, বরং কানের দুল, হেডপিস আর হাত-পায়ে পরার মতো কড়ির গয়না বানিয়েছেন তাঁরা এজন্য বৈচিত্র্যময় ডিজাইনে।এখানে কস্টিউমে সোনালির ছোঁয়া থাকায় ছোট ছোট সোনালি ঝুমকা ও চেইন ব্যবহার করা হয়েছে। নাঈমা বলেন, অবাক ভালোবাসা গানটি সাড়া জাগানোর পরে এই সাগরপাড়ের থিমের কড়ির গয়নাগুলোর প্রতি ফ্যাশন অনুরাগী ক্রেতারা খুবই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপাড়ে বেড়াতে যেতে , ছবি তুলতে সবসময় যেকোনো পোশাকের সঙ্গে এই গয়নাগুলো পরতে পারবেন সকলে।

অবাক ভালোবাসা গানটির সঙ্গে দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের আবেগ জড়িয়ে আছে। আবার নতুন প্রজন্মের অনেকে কোক স্টুডিওর এই ভার্সনের মাধ্যমেই চিনেছেন গানটিকে। আর এর চিত্রায়নে এখানে সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে সাজপোশাক ও সামগ্রিক অর্থে পরিবেশনার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যাশন-সচেতন মানুষের নজর এড়ায়নি তা। রঙবতীর এই কড়ির গয়নাগুলোতে নকশার নান্দনিকতা ও অভিনবত্ব, দুইই রয়েছে। আর কোক স্টুডিওর স্টাইলে মাতোয়ারা ক্রেতারা এখন রঙবতীর এই গয়নাগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন, এ কথা বলাই যায়।