
যুগ যুগ ধরে ভূগোলকের এই দিকে হয়ে আসছে পলার ব্যবহার। শাঁখা ও পলা সনাতন ধর্মের বিবাহিত নারীরা প্রথাগত অনুষঙ্গ হিসেবেই পরতেন এক সময়। তবে এখন পলার ব্যবহার অনেকটাই সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। ডিজাইনাররা দারুণ মুনশিয়ানায় পলাকে পরিণত করেছেন গয়না তৈরির উপকরণে। একে ভেঙেচুরে গড়া হচ্ছে অন্যান্য গয়না। পলা এখন শুধু চুড়িতে নয়, রয়েছে আংটি, দুল বা হারেও।

ঐতিহ্যগতভাবে লাল প্রবাল দিয়ে পলা তৈরি হতো। তবে এখনকার পলাপ্রাণিত গয়নায় ব্যবহৃত হয় উন্নতমানের প্লাস্টিক। এদিকে, শুধু লাল রঙের পলার পাট চুকেছে। জায়গা করে নিয়েছে কালো, সাদা, হলুদ, আকাশি, গোলাপি, কমলা, সবুজসহ অন্যান্য রং। যেকোনো বয়সী নারীরা নিজেকে সাজাতে বেছে নিচ্ছেন এখন নানা রঙের পলা। ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পলার রং আর নকশাতেও এসেছে বৈচিত্র্য। পলা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের নেক পিস, কানের দুল ও আংটি।
এমনই বৈচিত্র্যময় পলা ও পলা দিয়ে তৈরি গয়না পাওয়া যায় মল্লিকা, সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি ও আটপৌরের মতো সুপরিচিত অনলাইনভিত্তিক গয়নার উদ্যোগগুলোয়। চলুন এক নজরে দেখে নিই তাঁদের নজরকাড়া পলার গয়নার আদ্যোপান্ত।
মল্লিকা
তিন বছর ধরে পলা নিয়ে কাজ করছেন অলিভা বিশ্বাস। রঙিন সব পলা নিয়ে তাঁর উদ্যোগ মল্লিকা জায়গা করে নিয়েছে সবার মনে। পলার চুড়ির সঙ্গে এখানে পাওয়া যায় পলা দিয়ে তৈরি মালা, কানের দুল, আংটি। পূজার সাজে সহজেই মানিয়ে যাবে এই গয়নাগুলো।


পলার ওপর সিলভার প্লেটিং করে নকশা করা হইয়েছে তাদের অনেক গয়নায়। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সোনালি রঙেও নকশা করা হয়। তাদের সংগ্রহে মোট ১১টা রঙে ৭৭টা ডিজাইনের পলা আছে। মল্লিকার এবারের পূজা সংগ্রহে রক্তচন্দন বীজ, পিতলের ঘুঙুর ও ঝুমকা দিয়ে আকর্ষণীয় নকশা করা হয়েছে পলার গয়নায়। তরুণীরা পছন্দ করেন হাল্কা ডিজাইনের পলাগুলো। তবে পূজার সময়ে লাল রঙের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকে বলে জানান অলিভা বিশ্বাস।
সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি
গতানুগতিক গয়নার ধারা থেকে বের করে এনে আমাদের দেশের গয়নার ফ্যাশনে বেশ কিছু মাইলফলক পরিবর্তন এনেছে ডিজাইনার লোরা খানের সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি। তারা পলার নকশায় এনেছে অভিনবত্ব।


এখানে পলার দুই দিকে ধাতু ও পার্লের নকশা করা। দেখে মনে হবে পলাকে মাঝে রেখে দুদিকে চুড়ি পরা হয়েছে। এই নকশার নাম দেওয়া হয়েছে 'বর্ডার ড্রপ পলা'। এছাড়া পূজা সংগ্রহে বালা ও পলার সেটও রেখেছে ব্র্যান্ডটি। পূজা সংগ্রহের সাধারণ নকশার পলাগুলোও নজর কাড়ছে। চাইলে শুধু পলা দিয়ে কিংবা অন্যান্য চুড়ির সঙ্গে পরে পূজার লুকে যোগ করা যাবে স্টাইল স্টেটমেন্ট।
আটপৌরে
কল্কা, পাতা, শিউলি, গোলাপসহ বিভিন্ন মোটিফে নকশা করা আটপৌরের পলা। আটপৌরের সংগ্রহে থাকা পলাগুলোকে নকশি পলা, হাফ বালা, হাফ পলা, প্রজাপতি পলা, ঝুল পলা, পাতা পলা, ফুল পলা—এসব নাম দেওয়া হয়েছে।


ধাতব নকশার পাশাপাশি দেশিয় ঐতিহ্যবাহী কড়ি দিয়ে নকশায় বৈচিত্র্যয় আনা হয়েছে। এছাড়াও পলা দিয়ে নকশা করা হাঁসুলি, কানের দুলও আছে তাদের সংগ্রহে।
হালকা ভারি সব নকশার পলা পাওয়া যায় অনলাইন উদ্যোগগুলোয়। শুধু শাড়ি নয়, কায়দা করে পড়লে মানিয়ে যাবে পশ্চিমা কিংবা ফিউশনধর্মী পোশাকের সঙ্গেও।