
শুধু পোশাক ও অনুষঙ্গের ডিজাইন নয়, এগুলো যে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হয়, সে ব্যাপারেও সচেতন এখনকার ফ্যাশনিস্তারা। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের দেশীয় পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি ব্যাগগুলো। রিসাইকেলড ও জুট ফেব্রিক নিয়েও কাজ করছেন বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা। গুটিপা, কালিন্দী, দ্য হকার্স ও বিদোরা এগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফ্যাশনেবল ব্যাগ তৈরির দিক থেকে অগ্রণী ভূমিকায় থাকা এই উদ্যোগগুলো ফ্যাশন ও পরিবেশ দুটিকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশে তৈরি এই ব্যাগগুলো নকশার দিক থেকে যেমন অভিনব, তেমনি উৎপাদনপ্রক্রিয়ায়ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করছে না।

শতভাগ পাটের তৈরি ব্যাগ নিয়ে ইতিমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে মুনিয়া জামানের কালিন্দী। পাটকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি ব্যাগগুলোতে কাপড় ও চামড়া দিয়েও কারুকাজ করা হয়। অফিস, ক্যম্পাস, দাওয়াত ও ভ্রমণে ব্যবহারোপযোগী বিভিন্ন আকার ও নকশার ব্যাগ আছে তাদের সংগ্রহে। অফিসের উপযোগী ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ ব্যাগগুলো সাধারণত আকারে বড় হয়, যাতে ল্যাপটপ বহন করা যায়। পার্টি, অফিস ও ক্যাম্পাসে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য একটু বেশি জায়গা ও পকেট দরকার হয়। তাদের সংগ্রহে আছে ট্রাভেল, স্পোর্টস ও জিমের সরঞ্জাম নেওয়ার জন্য হালকা ওজনের ডাফেল ব্যাগ। আছে ছোট আকারের মোবাইল ব্যাগও। হাঁটতে বের হলে হালকা এই ব্যাগগুলো বেশ স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। পাশাপাশি তাদের সংগ্রহে আছে বিভিন্ন নকশার পাটের ট্রেন্ডি টোট ব্যাগ। স্টেইনলেস স্টিলের জিপার ও চামড়ার ফিতা কালিন্দীর ব্যাগগুলোর আভিজাত্য বাড়ায়। স্টিল ছাড়া সব কটি উপাদানই জীবাণু-বিয়োজ্য অর্থাৎ বায়োগ্রেডিবল। আরও সহজে বললে এসব উপাদান দ্রুতই মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

রিসাইকেলড ডেনিম নিয়ে কাজ করছে সোহেলী সাজিয়া মিথিলার বিদোরা। তাদের কালেকশনের দারুণ ফ্যাশনেবল ব্যাগগুলো গার্মেন্ট থেকে সংগ্রহ করা জিনস ও ঝুটকাপড় দিয়ে তৈরি। তারা মূলত বিভিন্ন গার্মেন্ট থেকে ডেনিম কাপড় সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো কারিগরদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় অভিনব নকশার ব্যাগে রূপান্তরিত হয়। ভিনটেজ ধরনের এই ডেনিম ব্যাগগুলো যেমন টেকসই, তেমনি স্টাইলিশও বটে। ব্যাগপ্যাক, ড্যাফোডিল, ডাফেল, ক্রসবডি, শোল্ডার ব্যাগ, টিউলিপ ব্যাগ, লোটাস ব্যাগ ও টোটসহ বাহারি সব ব্যাগ আছে বিদোরার সংগ্রহে। যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট ধরে রাখবে এই অভিনব ব্যাগগুলো।

গার্মেন্ট ক্লায়েন্টদের অর্ডারের পর অবশিষ্ট ফেব্রিকগুলো সংগ্রহ করেন উদ্যোক্তা তাসনিম ইরা। সেই জুট ফেব্রিকগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ফেব্রিক যোগ করে তৈরি করেন স্টাইলিশ সব ব্যাগ। এ ক্ষেত্রে একই ধরনের কাপড় বারবার না আসায়, দ্য হকার্স তাদের অনেক জনপ্রিয় ব্যাগগুলো রি–স্টক করতে পারে না। ব্র্যান্ডটির জুটোপিয়া নামের ব্যাগটি জুট জার্সি ফেব্রিক ও সাটিনের সমন্বয়ে ডিজাইন করা। এই ফেব্রিকগুলোর রঙের সমন্বয় ব্যাগটিকে বেশ জনপ্রিয়তা দিয়েছে। কিন্তু চাইলেই তা আর রি–স্টক করা সম্ভব নয়। জুট সংগ্রহ করে ব্যাগ তৈরি করার এটি হয়তো অসুবিধা। তাদের আরেকটি জনপ্রিয় ব্যাগ ‘রাইকমল’-এর মূল উপকরণ মূলত কম্বল টেক্সচারের একটি ফেব্রিক। একটি কারখানায় এই ফেব্রিক দিয়ে জ্যাকেট তৈরি হয়েছিল। বেঁচে যাওয়া কাপড় সংগ্রহ করে দ্য হকার্স তৈরি করেছে কোরিয়ান ট্রেন্ডের মিনি ক্রসবডি ব্যাগটি। তা ছাড়া তাদের যে ‘কি পার্স’গুলো আছে, সেগুলো বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে সংগ্রহ করা টুকরা কাপড় থেকে তৈরি। এই ছোট ব্যাগগুলো বিভিন্ন কার্ড রাখার জন্য দারুণ ফাংশনেবল। ঝুট কাপড় ও লেদারের দারুণ সমন্বয়ের ব্যাগগুলোর পাশে একটি ছোট কি বা চাবির রিং থাকায় এটি বহুভাবে ব্যবহার করা যবে।

চামড়া একটি জীবাণু-বিয়োজ্য উপাদান। আসল চামড়াজাত আন্তর্জাতিক মানের স্টাইলিশ ব্যাগ তৈরি করছে তাসলিমা মিজির গুটিপা। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাগ উৎপাদনের কাজ করে আসছে তারা। চামড়ার তৈরি এই ব্যাগগুলো একই সঙ্গে ফ্যাশনেবল ও পরিবেশবান্ধব। তাদের সংগ্রহে রয়েছে পার্টি ব্যাগ, ক্লাচ, বিজনেস ব্যাগ, ওয়ার্কস্টেশন ব্যাগ, শোল্ডার স্লিং বা কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, ক্যাজুয়াল ব্যাগ, রেট্রো ব্যাগ, আনমোল ব্যাগ, হোবো ব্যাগ, অ্যানোলা ব্যাগ ও রাডার হ্যান্ডব্যাগ। সমসাময়িক মিনিমাল ফ্যাশনকে প্রাধান্য দিয়ে এই মাল্টিফাংশনাল ব্যাগগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। কালো, নীল, চকলেট, গোলাপি, বাদামি ও জলপাইয়ের মতো ট্রেন্ডি রঙের ব্যাগগুলো ইতিমধ্যেই ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক