
ফ্রেন্ডস সিরিজে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা র্যাচেল অনেক সম্পর্কের পরেও দিন শেষে ফিরে আসে রসের কাছে। খুবই ধনী পরিবারের মেয়ে র্যাচেল স্বাধীন জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই পালিয়ে আসেন বিয়ের আসর থেকে। আশ্রয় নেন হাইস্কুলের বন্ধু মনিকার কাছে। নিজের সব ক্রেডিট কার্ড কেঁচি দিয়ে কেটে ফেলেন বন্ধুদের কথায়। সেন্ট্রাল পার্ক ক্যাফের ওয়েট্রেস থেকে কাজ শুরু করে অবশেষে হয়ে উঠেন র্যালফ লরেনের ডিজাইনার।


আর এই জার্নিতে র্যাচেল গ্রিন শুধু বন্ধুত্বের গল্পের অংশ নন, তিনি হয়ে উঠেছেন ৯০ দশকের ফ্যাশন সেনসেশনও। র্যাচেলের পোশাক, সাজসজ্জা আর ব্যক্তিত্ব সবকিছুতেই দেখা যায় এক ধরনের বিবর্তন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। এই বিবর্তনের নেপথ্যে ছিলেন শোয়ের কস্টিউম ডিজাইনার ডেবরা ম্যাকগুয়ার।
তারকা অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের করা এই চরিত্রটি যেন 'গার্ল নেক্সট ডোর' বা পাশের বাড়ির মেয়ের আমেজ আর হাই ফ্যাশনের নিখুঁত সংমিশ্রণ। ধনীর দুলালী হয়েও বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে নিজের মতো করে জীবন গড়ার যে সাহসী সিদ্ধান্ত র্যাচেল নেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরেছে। আর তার প্রকাশ ঘটেছে র্যাচেলের ফ্যাশন স্টেটমেন্টে। ৯০-এর দশকে তাঁর বিখ্যাত র্যাচেল হেয়ারকাট হয়ে উঠেছিল বৈশ্বিক ট্রেন্ড।


বিশ্বের হাজার হাজার তরুণী সেই লুক কপি করতে ছুটে গেছেন সেলুনে। শুধু চুলই নয়, র্যাচেলের পোশাক ছিল সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে চিক স্লিপ ড্রেস, প্যাস্টেল ব্লাউজ, হাইওয়েস্ট স্কার্ট কিংবা এজিও অফিস লুক সব কিছুতেই ছিল এক ধরনের পরিপাটি ভাব। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দশ সিজন জুড়েই এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ছিল তাঁর লুকে।
আজও র্যাচেল গ্রিনের লুক সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারদেরকে অনুপ্রাণিত করে। ইনস্টাগ্রাম রিলস বা পিন্টারেস্ট বোর্ডে র্যাচেল ইনস্পায়ার্ড লুক ট্রেন্ড এখনো জনপ্রিয়। সিরিজ জুড়ে তার পোশাকের রঙের প্যালেট মূলত ছিল সবুজ আর নীলের মাঝে ব্যপ্ত। আর পোশাকগুলোর ধরন শুরুতে ছিল একটু বেশি মডেস্ট আর সাদামাটা। এরপর ধীরে ধীরে আসে পরিবর্তন। গল্প অনুযায়ী র্যাচেল অর্থ উপার্জন শুরু করেন কফিশপে কাজ করে, যেখানে তাঁকে প্রায়ই ছোট ছোট স্কার্ট আর প্রিন্টেড অ্যাপ্রন পরা দেখা যেত। কফিশপ থেকে র্যাচেল চাকরি পান বিখ্যাত ব্র্যান্ড র্যালফ লরেনে। তখন তাঁর পোশাকেও চলে আসে ভিন্নতা।


র্যাচেলের লুক সেই সময় দর্শকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর ছোট ক্রপ টপস। নব্বই দশকের 'জুসি' ব্র্যান্ডের নারী কর্মীদের পোশাক ছিলো আঁটসাঁট, বডিফিটেড। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ফ্রেন্ডসের কস্টিউম ডিজাইনার ডেবরা ম্যাকগুয়েইরি করেছিলেন র্যাচেলের লুক। আর সেই লুকটা সেসময়ের তরুণদের মধ্যে একটা বড় প্রভাব ফেলেছিল। এত বছর পরে এসেও এই প্রজন্মের তরুণীদের মধ্যে সমানভাবে জনপ্রিয়। সেগুলো নিয়েই হাল ফ্যাশন চেষ্টা করেছে র্যাচেলের লুক রিক্রিয়েট করার।
মেকাপের ক্ষেত্রেও নো মেকআপ লুককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এই আইকনিক স্টাইল মোমেন্টগুলোই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হাল ফ্যাশনের ক্যামেরায় বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসের বিশেষ ফটোশুটে। র্যাচেল রূপে আমাদের মডেল জোনাকি জ্যোতির পরনে চেক স্কার্ট,সাদা শার্ট, লম্বা শার্ট, লং কোটি, ডেনিম এই সবকিছুই ছিল আইকনিক র্যাচেল লুক ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস।


পায়ে রাখা হয়েছে র্যাচেল ক্লাসিক বুট ও স্টিলেটো। চুলের ক্ষেত্রে আয়রন করা স্ট্রেট চুল আর অন্য লুকে ওপরের অর্ধেক চুল পাঞ্চ করে নিচের চুল ছাড়া রাখা হয়েছে র্যাচেলের সঙ্গে মিলিয়ে। র্যাচেল গ্রিনের জাদু অন্যরকম। লুক রিক্রিয়েট করে আসলে পুরোপুরি ন্যায়বিচার করা যায় না চরিত্রটির প্রতি। তবু ফ্রেন্ডসপাগল ভক্তদের কথা ভেবে এই আইকনিক চরিত্রটিকে এক ফ্যাশন ট্রিবিউট দেওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা জড়িয়ে আছে এখানে৷
ভাবনা ও স্টাইলিং: নাদিয়া ইসলাম
সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়: জাহিদুল হক
ছবি: পূর্ণ দাস
মডেল: তানহা, জারিফ, আজরাফ, স্বাধীন, জোনাকি ও মেঘলা
পোশাক: টুয়েলভ ও ব্লু চীজ, মডেলদের নিজস্ব ওয়ার্ড্রোব
মেকআপ: পারসোনা
লোকেশন: ক্যানভাস স্টুডিও
আয়োজনে : টিম হাল ফ্যাশন
ভিডিওগ্রাফি: কানিজ ফাতেমা ও আশিকুর রহমান