
আন্তর্জাতিক সব খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা এবং আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় তারকারা সবাই সারা করিমের পোশাকের ভক্ত। ব্রাইডাল ওয়্যারে পাশ্চাত্য ধারার কাটের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যবাহী এথনিক ডিজাইনের সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি। তাঁর এক্সক্লুসিভ ও প্রিমিয়াম রেঞ্জের এই কালেকশনগুলোর আছে আলাদা ক্রেতা। ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষকতা করার একপর্যায়ে নানিশাশুড়ির এই পোশাককেন্দ্রিক উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে যান তিনি।

বয়নশিল্পী, সূচিশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে করতে একসময় ডিজাইনিংকে বেছে নেন নেশা ও পেশা হিসেবে। তাঁর এই অনন্য সফলতার জন্য তিনি তাঁর কারিগরদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা, ব্যবহৃত ম্যাটেরিয়ালের গুণাগুণের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় না দেওয়াকেই কৃতিত্ব দিতে চান। অনন্য মেধা ও সৃজনশীলতার কল্যাণে সারা করিম এখন এক আরাধ্য ব্র্যান্ড বিয়ে বা ঈদে। এই ঈদে তাঁর কালেকশন, গত বিশ দিনের ঈদ শপিং ট্রেন্ড ও রোজার বাকি দিনগুলোর প্রত্যাশা নিয়ে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
সারা করিমের ডিজাইন করা পোশাক মানেই একেবারে অন্য রকম কিছু। এবারের ঈদ কালেকশনেও তাঁর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদ ও আসন্ন বিয়ের সিজনকে মাথায় রেখে তিনি এবারে ঈদ পোশাকটিকে এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে সেটা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেও পরা যায়। এবার একেবারে এক্সক্লুসিভ ও প্রিমিয়াম রেঞ্জের পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি ক্যাজুয়াল কালেকশন রেখেছেন। তবে নামে ক্যাজুয়াল হলেও এর কাট, স্টাইলিং এবং অলংকরণ বা এমবেলিশমেন্ট অনন্যসাধারণ। কটন শারারা, সিল্ক ও শিফনের সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশনওয়্যার থেকে শুরু করে ব্রাইডাল আমেজের লেহেঙ্গা, শাড়ি—সবই আছে এবার।

তবে অপ্রাপ্যতার কারণে মসলিন ব্যবহার না করতে পারায় একধরনের অতৃপ্তি রয়ে গেছে সারা করিমের। এখানে যে জর্জেট তিনি ব্যবহার করেছেন, তা একেবারেই পিওর ও বিলাসী টেক্সচারের। তাঁর সিগনেচার এমব্রয়ডারি দেশে-বিদেশে সমান সমাদৃত। বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও অসামান্য দক্ষতাসম্পন্ন এই নিপুণ কারিগরদের অনেকের কাজ ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না বলে তিনি জানান। এবার গোটা পাত্তি বা অন্য ভারী কাজেরই হালকা, জমকালো নানা ধরন রাখা হয়েছে বিভিন্ন পোশাকে।
ফেব্রিকের কালার প্যালেটের ক্ষেত্রে তিনি সব সময়ই তাঁর স্বকীয় ধারায় বহমান। একসময় তিনি যে লাশ পিংক, অ্যাকুয়া বা প্যাস্টেল শেডগুলো ব্যবহার করেছেন, তা এ দেশে সেভাবে ব্যবহৃতই হতো না। এখনো তিনি প্রতি সিজনের শুরুতেই পরিকল্পনা মাফিক রং নির্বাচন করে ফেব্রিক সংগ্রহ করে রাখেন, তাতে কাজ করার জন্য। কিছু অম্ব্রে বা শেড এফেক্ট দেওয়া এবং কিছু মনমতো একরঙা কাপড়ে এবার সাজিয়েছেন তিনি তাঁর কালেকশন। আবার আলাদা করে প্যান্ট, কামিজ, টপ, ওড়না ইত্যাদি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে কেনার সুযোগ আছে এবার সারা করিমের পোশাকসম্ভারে।

সেই জানুয়ারি থেকে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বদৌলতে অত্যন্ত ব্যবসা সফল হয়েছে সারা করিমের এ বছরের ঈদ কালেকশন। আশানুরূপ কেনাবেচা হওয়ায় তিনি অনেকটাই স্বস্তি প্রকাশ করলেন রমজানের শেষ সপ্তাহে এসে। অনেক বেশি বৈচিত্র্য থাকাটাই এবারে তাঁর কালেকশনের বৈশিষ্ট্য। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বয়সের নিরিখে এ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে পা রাখা তরুণীরাই তাঁর পোশাকের মূল ক্রেতা। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই পোশাক ডিজাইন করা হয়। মধ্যবয়সীদের পছন্দের তালিকায় থাকা সিম্পল কামিজ-জমকালো ওড়না কম্বিনেশনও রেখেছেন তিনি তাঁর আউটলেটে। তবে এ বয়সী অনেকেই তাঁদের কন্যা বা কন্যাস্থানীয় তরুণীদের জন্যই তাঁর কাছ থেকে পোশাক কেনেন বেশির ভাগ সময়।
ইতিমধ্যে সারা করিমের ঈদ কালেকশনের সিংহভাগই বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি যা আছে, তা–ও বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর আসন্ন ওয়েডিং সিজনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকেই ব্রাইডাল ওয়্যারের অর্ডারেও সমান ব্যস্ততা চলছে তাঁর পোশাকসম্ভারে। গত দুই বছরের অতিমারিকবলিত সময়ে দেশের সবাই বিদেশে কেনাকাটা না করায় বরং বিয়ের পোশাকে তাঁর বিক্রয় বেড়েছে বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে ডিজাইনার হিসেবে সারা করিম তাঁর ঈদ কালেকশন নিয়ে সন্তুষ্ট। পাশাপাশি ক্রেতাদের সাড়ায় তিনি অভিভূত।
ছবি: সারা করিম