ওকাম্পোর বাড়িময় কবির স্মৃতি আমাকে বিমোহিত করেছে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

রবীন্দ্রনাথের জীবনে নানা বয়সী নারীর আনাগোনা ছিল। ছিল নানামাত্রিক সম্পর্কও। তাঁদের মধ্যে একাধিক বিদেশিনীও ছিলেন। তবে তাঁর হৃদয়কে ছুঁয়ে দিতে পেরেছেন খুব কমই। তাঁদেরই একজন আর্জেন্টিনার ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো। একাধারে সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক ও বুদ্ধিজীবী। তাঁর সঙ্গে কবির পরিচয় থেকে অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠার সেই গল্পও চিত্তাকর্ষক বৈকি।

ভিলা ওকাম্পোর সামনের চত্বরে লেখক
ভিলা ওকাম্পোর সামনের চত্বরে লেখক

তবে এখানে সেই সম্পর্কের কথা নয়, বরং প্রথমবার দৈবের বশে আর্জেন্টিনায় গিয়ে ওকাম্পোর যে বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন, সেটা দেখার অভিজ্ঞতার কথাই জানা হলো আমাদের।রবীন্দ্রনাথ কখন, কীভাবে বা কেন পৌঁছাল আর্জেন্টিনায়, বিষয়টি অনেকেই অবগত; তবু আরেকবার জানতে চাই সেই প্রেক্ষাপট।

ছবি: লেখক

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ কখন, কীভাবে বা কেন পৌঁছাল আর্জেন্টিনায়, বিষয়টি অনেকেই অবগত; তবু আরেকবার জানতে চাই সেই প্রেক্ষাপট।

সেবার রবীন্দ্রনাথ যাচ্ছিলেন পেরুতে, জাহাজযোগে। সময়টা ১৯২৪ সালের নভেম্বর মাস। পেরুর স্বাধীনতাসংগ্রামের শতবছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি সে দেশের আমন্ত্রিত অতিথি। পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন কবি। রবির সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর সেক্রেটারি লেনার্ড এলমহার্স্ট। ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে জাহাজ থেকে নামলেন রবীন্দ্রনাথ আর্জেন্টিনায়। উঠলেন বোনস আইরসের প্লাজা হোটেলে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গে রবির দেখা হলো ঠিক কোন সময়ে?

প্রবেশমুখে কফি পানরত দর্শনার্থীরা
প্রবেশমুখে কফি পানরত দর্শনার্থীরা

তত দিনে গীতাঞ্জলি অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষায়। ওকাম্পো তত দিনে গীতাঞ্জলি পড়ে ফেলেছেন। ওকাম্পো অভিভূত। নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘পিয়ানোর পাশে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপছে আমার যৌবনও।’ রবীন্দ্রনাথের ভক্ত হয়ে ওঠেন তিনি। ‘রবীন্দ্রনাথ পড়ার আনন্দ’ শিরোনাম দিয়ে একটি লেখাও লিখে ফেলেন স্প্যানিশ ভাষায়। সে সময় ওকাম্পো আর্জেন্টিনায় একজন বিখ্যাত বুদ্ধিজীবী, লেখিকা, লাতিন আমেরিকায় নারীবাদী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেত্রী। বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘সুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

রবি আর্জেন্টিনায়—এ খবর পেয়ে ভিক্টোরিয়া ঠিক করলেন, কবির অসুস্থতার খবরাখবর নিতে হোটেলে যাবেন, দেখা করবেন। সঙ্গে নিয়ে গেলেন তাঁর বান্ধবী আদেলিয়াকে। হোটেলে গিয়ে দেখেন, হোটেলে উঠেও বিশ্রাম নেই রবির। সাংবাদিক ও নানা আগ্রহী লোকজন হোটেলে উপস্থিত হয়েছেন রবিঠাকুরকে দেখার জন্য। এমন ভিড়ের মধ্যে ওকাম্পো রবীন্দ্রনাথের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বললেন এবং আশ্বস্ত করলেন যে তাঁর অতিথি হলে সেটা রবির শারীরিক সুস্থতার পক্ষে সহায়ক হবে। এবং তিনি সেটি বোঝাতে সমর্থ হলেন। এভাবেই শুরু।

প্রশ্ন: কোথায় উঠলেন তারপর কবি, ওকাম্পোর বাড়ি নাকি অন্য কোথাও? আমরা তো জানি, ওকাম্পোর পিতা বিষয়টিকে ঠিক স্বাগত জানাননি

বসার ঘর
বসার ঘর

অসুস্থ রবিকে নিজের বাড়িতে এনে রাখতে চাইলেন ওকাম্পো। কিন্তু পারলেন না, পিতার আপত্তির কারণে। তখন ‘ভিলা ওকাম্পো’র কাছাকাছি আরেকটি বাড়ি ভাড়া করলেন তিনি রবি ঠাকুরের জন্য। সে বাড়ির নাম ‘মিরালরিও’। দুই মাস ছিলেন এ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ। তবে প্রায়ই ভিলা ওকাম্পোতে আসতেন কবি। বাগানে হাঁটতেন, প্লাতা নদীর ধারে ওকাম্পোর সঙ্গে সময় কাটাতেন।

প্রশ্ন: আপনি তো ভিলা ওকাম্পোয় গিয়েছেন। সেই বাড়ির প্রবেশমুখের অভিজ্ঞতা জানতে চাই

খাবার টেবিল
খাবার টেবিল

ভিলা ওকাম্পো একটি অভিজাত বাড়ি। এ এলাকার নাম ‘সান ইসিদ্রু’। তখন বিকেল। কোনো বাঙালি এ বাড়ি দর্শনে এলে বিশেষ যত্ন–সমাদর পান। কর্তব্যরত ব্যক্তি চোখ ছানাবড়া করে স্প্যানিশ ভাষায় বললেন, আহা! বাংলাদেশ থেকে? মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের পাশের বাড়ির কেউ। ভারত, কলকাতা, বাংলাদেশ, ওয়েস্ট বেঙ্গল—তাঁদের খুব আপন। এ বাড়ি এখন ইউনেসকোর সম্পত্তি আর জাদুঘর, দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

প্রশ্ন: বাড়ির সামনের প্রাঙ্গণ কেমন দেখলেন?

সবুজ চত্বর পেরিয়ে যেতে হয় লা ওকাম্পোয়
সবুজ চত্বর পেরিয়ে যেতে হয় লা ওকাম্পোয়

বাড়ির সামনে–পেছনে সুবিশাল সবুজ ঘন ঘাসের বিছানা। একটা ছোট নারী মূর্তি বসানো হয়েছে, যেন দেবী দাঁড়িয়ে আছেন প্রধান ফটকের দিকে মুখ করে। উঠানে লোহার বেঞ্চ পাতা। অন্তর্জালে একটি ছবি দেখা যায়, যে ছবিতে রবি চেয়ারে আর ওকাম্পো তাঁর পায়ের কাছে মাটিতে বসে আছেন। রবি-ওকাম্পোর এই ছবি সর্বাধিক প্রচারিত-প্রকাশিত। আমি বুঝলাম, ছবিটি এ উঠানেই তোলা। দুটি ধবধবে রাজহাঁস আধিপত্য নিয়ে উঠানে বিচরণ করছে।

প্রশ্ন: তারপর অন্দরমহলের কথা যদি বলেন। আসলে আমি নিজে কিংবা পাঠকেরা সেই বাড়ি ঘুরে দেখি আপনার সঙ্গে, হোক নাহয় কল্পনায়।

কক্ষের দেয়ালজুড়ে ওকাম্পো
কক্ষের দেয়ালজুড়ে ওকাম্পো

বেশ কয়েক ধাপ সিঁড়ি ডিঙিয়েই ঘরে প্রবেশ করতে হয়। নিচতলায় অন্দরমহলে প্রবেশমুখেই লম্বা–চওড়া সুবৃহৎ বারান্দার মতো বসার জায়গা। সেখানে কফি ও খাবারের সুব্যবস্থা আছে। বাড়িটির পরতে পরতে নান্দনিকতা। এটি নকশা করেছিলেন ওকাম্পোর স্থপতি পিতা নিজেই। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পান তাঁর কন্যা। সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। এ বাড়িতে রাত্রিযাপন না করলেও দিনের অধিকাংশ সময় ওকাম্পোর সঙ্গে সবুজ প্রাঙ্গণে কাটিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। কবি তখন ৬৩ আর ওকাম্পো ৩৪। কবি তাঁকে ডাকতেন ‘বিজয়া’ বলে।

প্রশ্ন: তারপর?

এই পিয়ানো বাজিয়েই কবিকে শুনিয়েছেন ওকাম্পো
এই পিয়ানো বাজিয়েই কবিকে শুনিয়েছেন ওকাম্পো

এক কর্মকর্তা অন্দরে নিয়ে গেলেন। প্রথম কক্ষটি বসার ঘর। একসেট সোফা আছে পাতা। ঘরের কোনায় একটা আর্জেন্টাইন পতাকা। দেয়াল ঘেঁষে ফায়ার প্লেস। আরেক কক্ষে অভিজাত খাবার টেবিল। আরেক কক্ষে আছে পিয়ানো। ওকাম্পো এই পিয়ানোই তো বাজিয়ে শুনিয়েছেন রবিকে। পিয়ানোটা ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিল। দ্বিধায়- লজ্জায় আর হাত বাড়াতে পারলাম না। জাদুঘর বলে কথা। কোথাও নিষেধ তো ছিল না। আমার ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হতেই ক্লিক ক্লিক করে শব্দ হলো। অবস্থানরত কর্মকর্তা বিনয়ের সঙ্গে ছবি তোলার দুটি শর্ত ধরিয়ে দিলেন—নো সাউন্ড, নো ফ্ল্যাশ। ভাবছি, এই নিষেধের হেতু কী? পাছে অসম্মান হয়?

প্রশ্ন: বাড়ির কোন কক্ষটা আপনার কাছে একটু আলাদা বা বিশেষ কিছু মনে হয়েছে?

 সিঁড়িতে লেখক
সিঁড়িতে লেখক

পিয়ানো কক্ষের উল্টা দিকের কক্ষটিও বসার ঘরের মতো সাজানো। টেবিলে চোখ আটকে গেল। কক্ষটিতে জওহরলাল নেহরুর ছবি। এসেছিলেন কি না, সে তথ্য নাই আমার কাছে। তবে তার মেয়ে ইন্দিরার পদধূলি পড়েছে এ বাড়িতে। শুধু ইন্দিরার কথা বলছি কেন! পৃথিবীর সে সময়কার নানা রথী-মহারথীর পা পড়েছে এ ভিটায়। সে তালিকায় আছেন সাহিত্যিক, দার্শনিক, সংগীতজ্ঞ। টেবিলে রাখা আছে সেই রথীদের ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। কথিত আছে, কেউ কেউ তাঁর প্রেমেও পড়েছেন। কাউকে কাউকে তিনি প্রশ্রয় দিয়েছেন। কেউ কেউ তাঁকে দিয়েছেন প্রশ্রয়। নিজের যৌথজীবনেও চলছিল নানা টানাপোড়েন। সে জীবন দীর্ঘ হয়নি। রবিঠাকুরের তো বেশ কিছু ছবি আমার চোখে পড়ল।

প্রশ্ন: বাড়িটি কি একতলা ?

সুর পত্রিকার সংগ্রহ
সুর পত্রিকার সংগ্রহ

দূর থেকে দেখতে একটি দোতলা বাড়ির মতো। কিন্তু এর চারটি স্তর—বেজমেন্ট, নিচতলা, প্রথম তলা ও একটি উচ্চ স্তর। সম্পূর্ণ ভিটার আয়তন ১৫ হেক্টর। ৭০০ বর্গমিটারের বাড়িটি ফ্রেঞ্চ ও ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যশৈলীর।

ভিক্টোরিয়া বাড়িটিকে আধুনিক ও একই সঙ্গে ক্ল্যাসিক আর্ট ডেকোর সঙ্গে একত্র করেছেন। ইউরোপে কেনা বাউহাউস-শৈলীর বাতিগুলো কক্ষগুলোকে আলোকিত করেছে; আছে অ্যান্টিক ঝাড়বাতি ও আর্মচেয়ার, প্যারিস থেকে আনা ১৮ শতকের চীনা আসবাব।

বাড়ির দোতলায় উঠেছি। দীর্ঘ লালগালিচা বিছানো সিঁড়ি। এখানে শোবার ঘর, লেখার ঘর, বইয়ের ঘর। দেখেছি সে সময়ের অভিজাত শৌচাগার। সেখানে রাখা আছে, অভিজাত প্রসাধন বাক্স। দেয়ালে ওকাম্পোর তরুণ বয়সের ছবি। গেলাম দোতলার বারান্দায়। বেশ প্রশস্ত। এখান থেকেই রবি-ওকাম্পো দূরের প্লাতা নদী দেখতেন। রবি কবিতা শোনাতেন বাংলায়। ওকাম্পো স্প্যানিশে। এখানেই রবি-ওকাম্পোর প্রেম উপাখ্যান। কিছুটা স্বচ্ছ, কিছুটা অস্বচ্ছ। কিছুটা আলো, কিছুটা তার আঁধার। ওকাম্পোর বাড়িময় কবির স্মৃতি আমাকে বিমোহিত করেছে।

প্রশ্ন: শুনেছি, বাড়িটি বইয়ের একটি প্রসিদ্ধ সংগ্রহশালা; সে বিষয়ে যদি বলতেন

লাইব্রেরিতে আছে বিপুল বইয়ের সমাহার
লাইব্রেরিতে আছে বিপুল বইয়ের সমাহার

বাড়িটির গ্রন্থাগারে প্রায় ১২ হাজার স্প্যানিশ, ইংরেজি আর ফরাসি বই আছে। একটি কক্ষের টেবিলে সাজানো আছে ‘সুর’ পত্রিকার সংখ্যা। কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলাম, পত্রিকারটির সর্বশেষ আপডেট কী? তিনি জানালেন, ওকাম্পোর মৃত্যুর পর সেটি আর প্রকাশিত হয়নি। ওকাম্পোর চিঠিপত্রগুলোও আছে। দেয়ালে চিত্রকর্ম। দোতলায় একটি কক্ষের দেয়ালের একাংশ অবিকৃত রাখা হয়েছে। পুনঃসংস্কার না করে মৌলিকত্ব ধরে রাখা হয়েছে। দেয়ালটি এই বাড়ির একটি মৌলিক দেয়াল। দেয়ালে বাঁধাই করে রাখা ওকাম্পোর নানা বয়সের ছবি।

প্রশ্ন: ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’—গানটি কি রবীন্দ্রনাথ ওখানে বসে লিখেছেন?

না, আমরা ভুল জানতাম! ওকাম্পোর সঙ্গে দেখা হওয়ার ৩০ বছর আগে রবি ‘ওগো বিদেশিনী’ গানটা লিখেছেন। আমাদের কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে ১৮৯৫ সালে। ৩০ বছর আগে লেখা ‘ওগো বিদেশিনী’ গানটা ইংরেজিতে অনুবাদ করে ওকাম্পোকে উপহার দিয়েছেন রবি আর্জেন্টিনায় দেখা হওয়ার পর। বলেছেন—‘ভুবন ভ্রমিয়া শেষে আমি এসেছি নূতন দেশে, আমি অতিথি তোমারি দ্বারে ওগো বিদেশিনী’।

রবি ‘বিদেশী ফুল’ কবিতাটি ওকাম্পোর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর লিখেছিলেন—

হে বিদেশী ফুল, যবে তোমারে বুকের কাছে ধরে

শুধালেম ‘বলো বলো মোরে

কোথা তুমি থাকো’,

হাসিয়া দুলালে মাথা, কহিলে ‘জানি না, জানি নাকো’।

রবীন্দ্রবোদ্ধারা বিশ্বাস করেন, ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থের বেশির ভাগ কবিতা কবিগুরু ওকাম্পোকে কল্পনায় এনে লিখেছেন। তিনি এই কাব্যগ্রন্থ ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেছেন। উৎসর্গ পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন—‘বিজয়ার করকমলে’। ১৯২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে বাংলায় লেখা বইটি পাঠিয়েছিলেন কবি। উৎসর্গের ১৫ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৪০ সালে ওকাম্পো কবিগুরুর কাছে চিঠিতে জানতে চেয়েছিলেন, ‘পূরবী’ অর্থ কী? কবিগুরু জানিয়েছেন, ‘পূরবী’ অর্থ পূর্ব দিক।

প্রশ্ন: ওকাম্পোর সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও নেহরু পরিবারের সম্পর্কটা কী?

রবীন্দ্রনাথের প্রতি যেমন তাঁর ভক্তি, গান্ধীর প্রতিও তাঁর ভক্তি ছিল তেমন, তা তিনি তাঁর বইয়ে লিখেছেন। আর্জেন্টিনার পেরন সরকারের সময় জেল–জুলুমের অভিজ্ঞতাও নিতে হয়েছে ওকাম্পোকে। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ১৯৫৩ সালের ৮ মে। কারাগারে ছিলেন ২৬ দিন। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা তাঁর প্রভাবশালী বন্ধুরা এগিয়ে এসেছিলেন সে সময়। তাঁর মুক্তিতে আমাদের জওহরলাল নেহরুর ভূমিকা আছে, ইতিহাস বলে। ইন্দিরা গান্ধীকে বিশেষ পছন্দ করতেন।

প্রশ্ন: সেদিনের সেই ভ্রমণ শেষ হলো কীভাবে?

রবীন্দ্রনাথের নামে রাস্তায় লেখক
রবীন্দ্রনাথের নামে রাস্তায় লেখক

সেদিনের ভ্রমণ শেষ হলো প্লাতা নদীর ধারে গিয়ে, যেখানে বহুবার পদধূলি পড়েছে আমাদের রবি আর ওকাম্পোর। কবিতায় কবিতায় দুজনের কথোপকথনের শব্দমালা প্লাতা এখনো শুনতে পায়। যে বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন, সে বাড়িতে (মিরালরিও) এখন আর প্রবেশ করা যায় না। তবে সেখানে রবীন্দ্রনাথের নামে একটি রাস্তা আছে।

শেখ সাইফুর রহমান: আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনার চোখে আমাদেরও দেখা হয়ে গেল বাড়িটা।

ধন্যবাদ আপনাকেও।

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ০৭: ৩০
বিজ্ঞাপন