
হাল ফ্যাশন: এখন তো ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশে দারুণ উন্মাদনা চলছে। এ নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

হিমি: সত্যি বলতে ফুটবল সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। যতটুকু জানি, ততটুকুই উপভোগ করি। মাঝে মাঝে এ নিয়ে ফেসবুকে ফান পোস্টও করি। বিশ্বকাপ এলে চারপাশে যে উন্মাদনা তৈরি হয়, সেটা আমারও ভালো লাগে।
হাল ফ্যাশন: আপনি তো ব্রাজিলের সমর্থক। দল বিদায় নেওয়ায় মন খারাপ হয়েছিল?

হিমি: অবশ্যই একটু খারাপ লেগেছিল। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টা নিয়ে মজা করে পোস্ট করছিলাম। ব্রাজিল বাদ পড়ায় মনে হলো, এটা নিয়েও একটু ফানিওয়েতে কিছু করা যায়। তবে সব ম্যাচ দেখা হয় না। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে রাত জেগে খেলা দেখা সব সময় সম্ভব হয় না। যেসব ম্যাচে আগ্রহ থাকে, সেগুলোই দেখি।
হাল ফ্যাশন: ব্রাজিলকে সমর্থন করার পেছনে কোনো বিশেষ কারণ আছে?
হিমি: আসলে ছোটবেলায় আমার বড় ভাই ব্রাজিলের সমর্থক ছিলেন। তাঁকে দেখেই আমিও ব্রাজিলকে সমর্থন করতে শুরু করি। তখন খেলা খুব একটা বুঝতাম না। আবার আমাদের এলাকায়ও ব্রাজিলের সমর্থক বেশি ছিল। সেখান থেকেই ব্রাজিলের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়।
হাল ফ্যাশন: এখন তো অনেকেই দল পরিবর্তন করেন। আপনি কি কখনো আর্জেন্টিনা বা অন্য কোনো দলে সাপোর্ট করার কথা ভেবেছেন?

হিমি: (হাসি) আর্জেন্টিনায় যাইনি। তবে অন্য কোনো দলকে ভালো লাগলে অবশ্যই তাদের সমর্থন করা যায়। খেলাটা তো উপভোগের বিষয়।
হাল ফ্যাশন : বর্তমানে আপনার প্রিয় ফুটবলার কে?

হিমি: এই মুহূর্তে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। আমার কাছে ওকে খুব ডেডিকেটেড এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী মনে হয়। এবার ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের তুলনামূলক একটু দুর্বল লেগেছে। যদিও ভালো খেলোয়াড় অনেকেই আছে, তবুও এমবাপ্পের ওভারঅল পারফরম্যান্স এবং ডমিনেটিং উপস্থিতিটা আমার ভালো লাগে।
হাল ফ্যাশন : এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

হিমি: মূল্যায়ন করার মতো এতটা ফুটবল বুঝি না। আমি মূলত খেলা উপভোগ করার জন্যই দেখি। রেফারির সিদ্ধান্ত, পক্ষপাতিত্ব—এসব নিয়ে অনেক আলোচনা হয়; কিন্তু আমি সেগুলো নিয়ে খুব একটা ভাবি না। তবে দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবার ফুটবলের প্রতি আগের মতো মনোযোগও দিতে পারিনি। মনে হয়েছে, আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।
হাল ফ্যাশন: ছোটবেলায় কি ফুটবল খেলতেন?

হিমি: না, খুব একটা না। ছোটবেলা থেকেই গান, আবৃত্তি আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দিকেই বেশি ঝোঁক ছিল। খেলাধুলায় খুব বেশি সম্পৃক্ত হইনি।
হাল ফ্যাশন: এখন অবসর সময়ে কোনো খেলাধুলা করেন?

হিমি: (হাসি) এখন অবসরে মূলত আমার বিড়ালদের সঙ্গে খেলি। এটাকে অবশ্য স্পোর্টস বলা যাবে না। মাঝেমধ্যে ক্রিকেট খেলেছি, একসময় গলফও শেখার চেষ্টা করেছি; কিন্তু সারা দিন কাজের পর খুব বেশি এনার্জি থাকে না। তাই এখন বেশির ভাগ সময় জিম বা ট্রেনিং করি; আর বাসায় ফিরে বিড়ালদের সঙ্গে সময় কাটাই।
হাল ফ্যাশন : খেলা একা দেখতে পছন্দ করেন, নাকি সবাই মিলে?

হিমি: সবাই মিলে খেলা দেখতে আমার বেশি ভালো লাগে। আগে পরিবার নিয়ে একসঙ্গে অনেক ম্যাচ দেখেছি। তবে এবার বেশির ভাগ ম্যাচই গভীর রাতে হয়েছে, তাই একাই দেখতে হয়েছে। আবার অনেক সময় বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতেই খেলা দেখি।
হাল ফ্যাশন: ব্রাজিল হারলে বা কেউ কটাক্ষ করলে কেমন লাগে?

হিমি: একদমই খারাপ লাগে না। এটা তো খেলারই অংশ; আর আমাকে খুব বেশি খোঁচাতেও পারে না। কারণ, আমি ফেসবুকে এতবার মজা করে বিভিন্ন দলের পোস্ট করেছি যে এখন অনেকে বুঝতেই পারে না আমি আসলে কোন দলের সমর্থক (হাসি)। তবে এটাও স্বীকার করি, এবার ব্রাজিল খুব ভালো খেলেনি।
হাল ফ্যাশন : ফুটবল নিয়ে কোনো মজার স্মৃতি আছে?

হিমি: ছোটবেলার বিশ্বকাপের স্মৃতিগুলোই সবচেয়ে সুন্দর। তখন এলাকাজুড়ে উৎসবের পরিবেশ থাকত। বাসার ছাদে বড় বড় পতাকা লাগানো হতো। কে সবচেয়ে বড় পতাকা লাগাবে, সেটা নিয়েও একধরনের প্রতিযোগিতা চলত। ছোট ছোট কাগজ বা কাপড়ের পতাকা দিয়ে ছাদ সাজানো হতো। আমি তখন ছোট ছিলাম; কিন্তু আমার বড় ভাইয়েরা আর এলাকার বড়রা—সবাই মিলে টাকা তুলে বিশাল পতাকা লাগাতেন। সেই উৎসবমুখর পরিবেশটা এখনো খুব মিস করি।
হাল ফ্যাশন : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।

হিমি : আপনাকেও ধন্যবাদ।