আত্মবিশ্বাসই নারীর আসল সৌন্দর্য: ফারিন খান
শেয়ার করুন
ফলো করুন

হাল ফ্যাশন: দিনের শুরুটা সাধারণত কীভাবে করেন?

ফারিন খান: আমার দিনের শুরু চিয়া সিডের পানি দিয়ে। প্রতিদিন সকালে আমার মা চিয়া সিডের পানি খাওয়ায়। প্রতিদিন আধা লিটারের মতো খাই। এটা আমার প্রতিদিনের রুটিন। মাঝে মাঝে শুটিংয়ে গিয়ে ব্রেকফাস্ট করি। আবার মাঝে মাঝে বাসায়ও ব্রেকফাস্ট করি। কারণ, সকালে আমি ভারী কিছু খেতে পারি না। সিম্পল খাবার খাই।
হাল ফ্যাশন: ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও নিজের ফিটনেসের কেয়ার করেন কীভাবে?
ফারিন: বাসায় থাকলে তো আম্মুই আমার সব কেয়ার করে। বাইরে বা কাজের ভেতরে থাকলে নিজের কেয়ার নিজেকেই করতে হয়। শুটিংয়ের সময়গুলোতে যেহেতু ব্যস্ত থাকতে হয়, তখন খাবারের রুটিনটা সঠিকভাবে মেইনটেন করার চেষ্টা করি। যেহেতু জিম করি না। ফলে আমি আসলে প্ল্যান অনুযায়ী ডায়েট মেইনটেন করেই আমার ফিটনেস বজায় রাখি। সবচেয়ে বড় কথা অটোমেটিক্যালি আমি ভালো ফিটনেস পেয়েছি।
শুটিংয়ে গেলে তো বাসার খাবার খাওয়া হয় না। সে ক্ষেত্রে আমি ভাতটা অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করি। মাছ খাওয়ার চেষ্টা করি। যদিও আমি সব ধরনের মাছ খাই না। যেটা ভালো লাগে সেটা খাই। সঙ্গে মাংস বা সবজিও খাই। বাসায় থাকলে আম্মুর হাতের রান্না এত মজার যে ভাত না খেলে চলে না। ফলে বাসায় থাকলে ওইভাবে ডায়েট মেনে চলা কষ্টকর হয়ে যায়। তবে বাসায় থাকলেও চেষ্টা করি রাতে ভাত না খেতে। পরিবর্তে সবজিটা বেশি খাই।
আর ওয়ার্কআউট করার চেষ্টা করি। আমি তেমন জাঙ্ক ফুড বা রিচ ফুড খেতে পছন্দ করি না। খাওয়াদাওয়া মেনে চলি। এভাবেই আমি ফিটনেস বজায় রাখি।

বিজ্ঞাপন

হাল ফ্যাশন: আপনার সবচেয়ে প্রিয় খাবার কোনটি?

 ফারিন: ভর্তা ভাত, বেগুনভাজি, ডাল।

বিজ্ঞাপন

হাল ফ্যাশন: রান্না করতে পছন্দ করেন? কোনো স্পেশাল ডিশ আছে?

ফারিন: আমি রান্না করতে পছন্দ করি না। তবে বাড়ির লোকজন বলে আমি নাকি ভালো রান্না করতে পারি। কারণ, যেটাই রান্না করি, সেটা আমি খুব মনোযোগ দিয়ে করি। অবশ্য শুধু রান্না নয়, যেকোনো কাজই আমি মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করি। আমার বাসায় আমি সবচেয়ে বেশি যেটা বানাই সেটা হচ্ছে পুডিং। বিকেলের স্ন্যাক্সের জন্য মাঝে মাঝে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই এসব বানাই। তবে আমি সবচেয়ে ভালো রান্না করতে পারি বিরিয়ানি, খিচুড়ি, গরুর মাংস ভুনা। কিছুদিন আগে মাকে গাজরের হালুয়া বানিয়ে খাইয়েছি; এরপর তো আমার মা আমার ফ্যান হয়ে গেছেন। মা বলেছেন, এত ভালো হালুয়া নাকি তিনি নিজেও বানাতে পারেন না।
বেশ একচোট হেসেই বললেন, কয়েকজন অতিথি খেয়ে বলেছেন যে হালুয়া নাকি ফাইভ স্টার থেকে কিনে এনেছি।

হাল ফ্যাশন: ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোথায়?

ফারিন: আমার আসলে খুব বেশি দেশের বাইরে ভ্রমণ করা হয়নি। ঘোরার মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা, ভারত আর সৌদি আরবে গিয়েছি। এর মধ্যে আমার কাছে সেরা হচ্ছে সৌদি আরবের মক্কা-মদিনা। বিশেষ করে মদিনায় গিয়ে বেশি শান্তি পেয়েছি।

হাল ফ্যাশন: অবসরে কী করতে সবচেয়ে ভালো লাগে—বই পড়া, সিনেমা দেখা নাকি ঘুম?

ফারিন: অবসরে আমার সিনেমা দেখতে বেশি ভালো লাগে। তবে একসময় প্রচুর বই পড়তাম। বিশেষ করে স্কুল শেষ করে কলেজে পড়ার সময়টাতে। অনেক ধরনের বই পড়তাম। এখন সিনেমা দেখতে বেশি ভালো লাগে। আই লাভ থ্রিলার মুভি। যেকোনো ধরনের থ্রিলার মুভিই আমার পছন্দের।

হাল ফ্যাশন: ফ্যাশনের ক্ষেত্রে আপনি কতটা এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করেন?

ফারিন: নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্টের চেয়ে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আরাম। যেটা কমফোর্টেবল সেটাই আমার কাছে বেস্ট ফ্যাশন বলে মনে হয়। কারণ, একটা জামা পরে যদি আমি ক্যারি করতে না পারি, কমফোর্টেবল না হয়, তাহলে ওটা পরে লাভ নেই। ঝকমকে কিছু পরে গেলাম কোনো অনুষ্ঠানে অথচ আমাকে ভালো লাগল না, আরাম পেলাম না, তাহলে সেই এক্সপেরিমেন্ট করে লাভ নেই। যে কাপড় আমার ভালো লাগে, পরতে আরাম লাগে বা ক্যারি করতে পারি, সেটা কম দামি হলেও আমি সেই পোশাকটাই পরার চেষ্টা করি।

হাল ফ্যাশন: শাড়ি নাকি ওয়েস্টার্ন—কোন পোশাকে নিজেকে সবচেয়ে কমফোর্টেবল মনে হয়?

ওয়েস্টার্নেই বেশি কমফোর্টেবল
ওয়েস্টার্নেই বেশি কমফোর্টেবল

ফারিন: আমি ওয়েস্টার্নে কমফোর্টেবল। কিন্তু অনেকেই বলেন, আমাকে নাকি শাড়িতেই বেশি ভালো লাগে। শাড়ি যেহেতু একটা ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সেই জায়গা থেকে শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ, জুয়েলারিসহ বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। তো এই খেয়াল রাখাটা আমার কাছে একটু ঝক্কির মনে হয়। তবে কোনো স্পেশাল প্রোগ্রামের জন্য হয়তো শাড়ি পরা যেতে পারে। কিন্তু নরমাল লাইফের জন্য ওয়েস্টার্ন বেটার। আর আমি যেহেতু টমবয় টাইপের (আমার ভাই না থাকায় সেভাবেই আমাকে বড় করা হয়েছে); ফলে ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনেই আমি বেশি কমফোর্টেবল।
আমি এটা ভালো বুঝি যে কোন পরিবেশে কোন ধরনের পোশাক পরতে হয়। সেটা আমি মেইনটেনও করি। যেমন বাইফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আমার আউটফিট ভাইরাল হয়েছে। গ্রিন একটা শাড়ি পরে গিয়েছিলাম। বাইফার জন্য একটা নামি ব্র্যান্ডের ড্রেস এনেছিলাম, কিন্তু পরার সময় দেখলাম যে ওটা আমাকে মানাচ্ছে না। এ ছাড়া গরমও ছিল। সে কারণে আরামদায়ক কিছু খুঁজছিলাম। পরে আমি ওই শাড়িটা বের করি। এটা আগেই কেনা ছিল। ওই দিন বের করে নিজেই বাকিটা প্রস্তুত করেছি। সকাল ১০টা থেকে দেড়টার মধ্যে শাড়ি ও ব্লাউজ রেডি করেছি।

হাল ফ্যাশন: আপনার ওয়ার্ডরোবের সবচেয়ে প্রিয় পোশাক কোনটি?

ফারিন: ওয়ার্ডরোব মানে আমার কাছে মেমোরি। আমার প্রথম জন্মদিনে মা আমাকে একটি ফ্রক গিফট করেছিলেন। ওইটাই আমার ওয়ার্ডরোবের সবচেয়ে প্রিয় পোশাক। যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আমার বাচ্চাকাচ্চা হলে ওটা ওদের পরাব। আরেকটা পোশাক আছে, আমার একজন স্পেশাল মানুষ আমাকে একটা শাড়ি গিফট করেছিল, ব্ল্যাক কালারের। ওইটাও আমার খুব পছন্দের।

হাল ফ্যাশন: দৈনন্দিন জীবনে মেকআপ ছাড়া থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

ফারিন: আমি মেকআপ ছাড়া থাকতেই পছন্দ করি। মিডিয়া পারসন থেকে শুরু করে সবাই আমাকে মেকআপ ছাড়া দেখেছে। আই হেট মেকআপ। আমি মেকআপ করার পর অপেক্ষায় থাকি যে কখন মেকআপ তুলে ফেলব। ন্যাচারাল স্কিন থাকলে মেকআপ লাগে না। একটু ব্ল্যাশঅন, একটু মাসকারা, একটু লিপস্টিক—এই তিনটা জিনিস থাকলে আমার আর কিছুই লাগে না। এই তিনটা অ্যাপ্লাই করে আমি যেকোনো জায়গায় চলে যেতে পারব—এতটুকু কনফিডেন্ট আমি রাখি।

হাল ফ্যাশন: আপনার ব্যাগে সব সময় থাকে এমন তিনটি বিউটি আইটেম কী?

মেকআপ ছাড়া থাকতেই পছন্দ করেন
মেকআপ ছাড়া থাকতেই পছন্দ করেন

ফারিন: লিপস্টিক, মাসকারা, ব্লাশঅন—এগুলো।

হাল ফ্যাশন: আপনার প্রিয় লিপস্টিক শেড কোনটি?

ফারিন: রেড। কারণ, আমার অনেক প্রিয় মানুষ আমাকে বলেছে লালে আমাকে নাকি সবচেয়ে ভালো লাগে। তবে রেড তো সব সময় ব্যবহার করা পসিবল না, নরমাল ডেট বা ফ্যামিলি ডেটে রেড লিপস্টিক ব্যবহার করি। আর কোনো অনুষ্ঠানে বা প্রোগ্রামে গেলে ন্যুড শেড ব্যবহার করি। কারণ, আমি নো মেকআপে থাকতে ভালোবাসি। আর পারসোনাল লাইফে যেহেতু মেকআপ নিই না, সে ক্ষেত্রে বের হওয়ার সময় রেড লিপস্টিক ব্যবহার করি। রেডেই বেশি শুট করে আমাকে।

হাল ফ্যাশন: চুলের যত্নে কোনো বিশেষ রুটিন অনুসরণ করেন?

ফারিন: চুলের যত্ন আমার খুব কমই করা হয়। টু বি অনেস্ট, গত ছয় মাসে আমি একবারও চুলে তেল দিই নাই। আগে আমার অনেক বড় বড় চুল ছিল। হাঁটুতে পড়ত। শুটিংয়ের কারণে ছোট চুল রাখা হয়। বড় চুল মেইনটেন করা কঠিন। আর রেগুলার শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করি। আম্মু আগে প্যাক লাগিয়ে দিতেন; কিন্তু গত ছয় মাস চুলের যত্ন নেওয়া হয় নাই। এখন থেকে ভাবছি, চুলের যত্ন নেওয়া শুরু করব।

হাল ফ্যাশন: আপনার মতে, একজন নারীর আসল সৌন্দর্য কোথায়?

ফারিনের কাছে আত্মবিশ্বাসই নারীর আসল সৌন্দর্য
ফারিনের কাছে আত্মবিশ্বাসই নারীর আসল সৌন্দর্য

ফারিন: একজন নারীর আসল সৌন্দর্য তার কনফিডেন্স। একটা মেয়ে তার জীবনের যেকোনো ডিসিশন নিয়ে যদি কনফিডেন্ট থাকে তাহলে সেটাই তার আসল সৌন্দর্য। ধরেন, সে খুব দুঃখের জীবন যাপন করছে। কিন্তু সে যদি কনফিডেন্টলি জানে যে সে তা যেকোনো মুহূর্তে ওভারকাম করে আসতে পারবে; তাহলে তার জীবন তখনই সুন্দর হয়ে উঠবে। সবার আগে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজে আত্মবিশ্বাসী না হলে তাকে যতই ভালো পোশাক পরানো হোক না কেন তাতে কাজ হবে না। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মানবোধ থাকলেই সেই নারী পরিপূর্ণ, সুন্দরী।

হাল ফ্যাশন: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

ফারিন: আপনাকে ও হাল ফ্যাশনকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২: ০০
বিজ্ঞাপন