এক্সপেরিমেন্টাল লুকে বদলে যাচ্ছে গল্প বলার ধরন: ফারজানা এনি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিগত কয়েক বছরে ঈদ ঘিরে বাংলাদেশের সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। গল্প বলার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে চরিত্রের উপস্থাপনাও। এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকা শক্তি এখন লুক ডিজাইন যেখানে মেকআপ, কস্টিউম, হেয়ার এবং অ্যাটিটিউড মিলিয়ে তৈরি হয় একেকটি চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি।

শুটের আগে মেহজাবিনকে তৈরি করে দিচ্ছেন ফারজানা এনি
শুটের আগে মেহজাবিনকে তৈরি করে দিচ্ছেন ফারজানা এনি

এই পরিবর্তনের সঙ্গে থেকে, নিজেদের চেনাতে শুরু করেছেন দেশের প্রতিভাবান লুক ডিজাইনাররা। তাঁদেরই একজন ফারজানা এনি। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’-এ কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এনি। মেহজাবীন, আরেফিন ও প্রীতমের অভিনয়ের পাশাপাশি দর্শকের নজর কেড়েছে চরিত্রগুলোর নিরীক্ষাধর্মী লুক। ফারজানা এনি মনে করেন, এখনকার ঈদের কনটেন্টে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ে।

বিজ্ঞাপন

‘গত কয়েক বছরে ঈদকেন্দ্রিক কনটেন্টে লুক ডিজাইনের যে পরিবর্তনটা এসেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখন শুধু গল্প নয়, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একজন লুক ডিজাইনার হিসেবে আমি মনে করি, এই এক্সপেরিমেন্ট আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে আরও সমৃদ্ধ করছে এবং গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

শুটিংয়ের ফাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে
শুটিংয়ের ফাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে

তাঁর কথায় স্পষ্ট, বাংলাদেশি কনটেন্ট এখন শুধু গল্প বলছে না, বরং সেটা পর্দায় দারুণভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। আর সেই দেখানোর পেছনে বড় ভূমিকা লুক ডিজাইনের।
ক্যাকটাস তাঁর জন্য অন্যতর এক যাত্রার শুরু বলে মনে করেন ফারজানা।

বিজ্ঞাপন

এই ঈদে মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ক্যাকটাসে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে এনি বলেন, ‘ক্যাকটাসের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা আমার জন্য ছিল ভীষণ স্পেশাল। শুরুতে কনসেপ্ট আর চরিত্রগুলোর ব্রিফ পেয়ে বুঝে গিয়েছিলাম তখনই, একেবারেই আলাদা ধরনের একটা কাজ হতে যাচ্ছে। সেই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে।

মেহজাবিনের সঙ্গে প্রীতম হাসান
মেহজাবিনের সঙ্গে প্রীতম হাসান

এই প্রজেক্টে কাজ করার সময় পরিচালক এবং টিমের সঙ্গে সমন্বয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি লুক যেন সেই চরিত্রের মনোভাব ও গল্পকে বহন করে—এই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছে পুরো টিম।’
পরিচালকের ভিশন বনাম নিজের বিশ্বাস—উভয়ের সমন্বয় করা গেছে বলে জার্নিটা উপভোগ্য হয়েছে, বললেন এনি। ক্যাকটাসে কাজ করতে গিয়ে শুধু নির্দেশনা অনুসরণই নয়, নিজের ভাবনাকেও প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে এনিকে।

‘ডিরেক্টরের ভিশন ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—প্রতিটি চরিত্রের লুক তাদের মানসিকতা ও গল্পকে রিপ্রেজেন্ট করতে হবে। কারণ, তিনি চেয়েছিলেন এমন কিছু, যেটা হবে দর্শকের কাছে নতুন এবং ভিজ্যুয়ালি ইমপ্যাক্টফুল’, জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তবে আরেফিন জিলানীর লুক নিয়ে ছিল অন্য রকম অভিজ্ঞতা।

মেহজাবিনের এই লূক চরিত্রের সঙ্গে মানাসই
মেহজাবিনের এই লূক চরিত্রের সঙ্গে মানাসই

‘শুরুর দিকে পরিচালকের চাহিদা অন্য রকম ছিল। কিন্তু স্ক্রিপ্ট পড়ার পর আমার মনে হয়েছে জিলানীর জন্য একদম নতুন ধরনের ভিলেন লুক দরকার—যেটা আগে কেউ দেখেনি। আমি এই আইডিয়া নিয়ে অনেকটা “ফাইট” করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত ডিরেক্টর পুরোপুরি কনভিন্সড না থাকলেও আমি আমার জায়গায় অটল থেকেছি।’
এই সাহসী সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চরিত্রটিকে দিয়েছে এক অনন্য পরিচিতি। ক্রসড্রেসার এলিমেন্ট ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের মিশেলে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী ভিজ্যুয়াল।

ক্যাকটাসের লুক ডিজাইনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর মুড বোর্ড, স্মৃতিচারণা করেছেন এনি, ‘এই প্রজেক্টের মুড বোর্ড তৈরি করাটা ছিল খুবই এক্সাইটিং। ডার্ক গথিক টোনের সঙ্গে কে পপ ইনস্পায়ার্ড এলিমেন্ট মিক্স করেছি। কালার প্যালেট, মেকআপ, হেয়ার—সবকিছুতেই বৈপরীত্য রেখে চরিত্রগুলোকে আরও স্ট্রং ও ডিস্টিংটিভ করার চেষ্টা করেছি। এই ফিউশনই সিরিজটিকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এক ভিজ্যুয়াল টেক্সচার।’

চরিত্রের প্রয়োজনেই নানা উপাদান যোগ করা হয়েছে মেহজাবিনের এই লুকে
চরিত্রের প্রয়োজনেই নানা উপাদান যোগ করা হয়েছে মেহজাবিনের এই লুকে

এক্সপেরিমেন্টাল লুক মানেই চ্যালেঞ্জ, এটা স্বীকার করেন এনি। তবে তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় অর্জন এসেছে দর্শকের কাছ থেকে। ‘সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো লুকগুলো নিয়ে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। দর্শক আলাদাভাবে লুক ডিজাইনকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক’, বলেছেন এনি।
মেহজাবীনের একটা লুকে দেখা গেছে ফেস জুয়েলারি, গথিক ট্যাটু ও পিয়ারসিং আবার অন্য লুকে গেছে কমব্যাট পোশাকে। দ্রুত লুকের পরিবর্তন টেনেছে দর্শকদের।

ব্যক্তিগত স্টাইলের ক্ষেত্রে মিনিমাল কিন্তু স্টেটমেন্ট পছন্দ এনির। পেশাগতভাবে এক্সপেরিমেন্টাল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে বেশ সংযত এনি বলেন, ‘পারসোনালি আমি মিনিমাল কিন্তু স্টেটমেন্ট লুক পছন্দ করি। ঈদে সাধারণত এলিগ্যান্ট, কমফোর্টেবল আউটফিট বেছে নিই; সফট টোন, ক্লিন মেকআপ, তবে ছোট একটা ডিফাইন্ড ডিটেইল রাখতে ভালো লাগে, যা পুরো লুককে আলাদা করে তোলে।’

চরিত্রের প্রয়োজনে মেহজাবিনকে এই লুকেও দেখা গেছে
চরিত্রের প্রয়োজনে মেহজাবিনকে এই লুকেও দেখা গেছে

লুক ডিজাইন নিয়ে তাঁর ভাবনা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘ভবিষ্যতে আমি আরও নিরীক্ষাধর্মী ও চরিত্রানুগ লুক নিয়ে কাজ করতে চাই। আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্টে কাজ করার ইচ্ছা আছে, যেখানে আমাদের দেশের মেধাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করা যায়।’
ছবি: ফারজানা এনি ও চরকি

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৩৩
বিজ্ঞাপন