পৃথিবী আর মানুষ বাঁচানোর ফ্যাশন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

শেষ পর্ব

ইউরোপের লুক্সেমবার্গের হাই স্ট্রিট ফ্যাশনপাড়া। সেখানেই একটি দোকানে মিলছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের নারীদের তৈরি করা পরিবেশবান্ধব, স্বচ্ছ সাপ্লাই চেইনের সব স্তরে মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া ও অত্যন্ত মানসম্পন্ন এক্সক্লুসিভ পোশাক। এখন থেকে অনলাইনে মিলবে ইউরোপ জুড়ে। আর হল্যান্ডে হচ্ছে আউটলেট। স্বপ্ন নয়, বরং স্বাপ্নিক রুনা খানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রূপ পাওয়া বাস্তবচিত্রটি এখন এমনই।

পৃথিবী বাঁচাতে জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন

পরিবেশ বাঁচাতে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন রুনা খান
পরিবেশ বাঁচাতে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন রুনা খান
ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবেশ নিয়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে রুনা খানের। আর তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ ছাপ ফেলেছে। বললেন, সেভিং রিভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড নামে বিশ্বের নদী বাঁচানোর একটি বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত তিনি। সামনে তাঁদের একটি বড় ডেলিগেশন টিম আসতে চলেছে এ দেশে। নদীশাসন আর নদী ঘিরে বা নদীর ওপর উন্নয়নমূলক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষতিকর প্রভাবের মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে চান রুনা খান। ‘নদীর জলজ জীবন এতে কতটা ব্যাহত হয়, তা আসলে আমরা কেউই ভেবে দেখি না। শুধু নদী নয়, পরিবেশ না বাঁচলে মানুষই বাঁচবে না’, বলেন তিনি। বুঝিয়ে বললেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের তরিকা বদলে ফেলতে হবে একেবারে।’ কেবল মানুষ অমৌসুমের ফল খাওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারে না বলে এগুলো দুনিয়াজুড়ে আমদানি-রপ্তানি হয়। পৃথিবীর কত জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে এর ফলে, তা ভেবে দেখার বিষয় বলে মত দেন রুনা খান।

চরের মানুষের জীবনযাত্রাকে নিরাপদ  নিশ্চিত করতে কাজ করছে ফ্রেন্ডশিপ
চরের মানুষের জীবনযাত্রাকে নিরাপদ নিশ্চিত করতে কাজ করছে ফ্রেন্ডশিপ
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

উপকূলীয় অঞ্চলে তাঁর উদ্যোগে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন গড়ে তোলা হচ্ছে কৃত্রিমভাবে। এ ছাড়া এ অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার আর কোনোই উপায় নেই, অভিমত রুনা খানের। তবে তিনি আবার বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে আমাদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া, দৈনন্দিন জীবনে এ লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া।’ আর রুনা খানের অনন্য ফ্যাশন উদ্যোগ, ফ্রেন্ডশিপ কালারস অব দ্য চরস এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা রেখে চলেছে স্লো ফ্যাশনের বার্তা নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

ফ্যাশন দুনিয়াতেও অনন্য

নব্বই দশকের গোড়ায় তাঁর ছিল ফ্যাশন উদ্যোগ: মেয়ারি
নব্বই দশকের গোড়ায় তাঁর ছিল ফ্যাশন উদ্যোগ: মেয়ারি
ছবি: সাইফুল ইসলাম

কৈশোর পেরোতেই বর্ধিত পরিবারের মধ্যেই তাঁর বিয়ে—গল্প বলে চলেছেন রুনা খান। সন্তান তখন ছোট। রক্ষণশীলতাও বাধা ছিল চাকরির ক্ষেত্রে। বাড়ির আঙিনায় সুবিধাবঞ্চিত বিহারি কারিগরদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৯৪ সালের দিকে ইস্কাটন এলাকায় আত্মপ্রকাশ করে রুনা খানের মেয়ারি। বললেন, খুব মন দিয়ে কাজ করেছেন এই ফ্যাশন হাউসের জন্য। ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে হঠাৎই রুনা খানের মনে হলো, সারা জীবন ধনী পরিবারের জন্য বিলাসী পোশাক আর তিনি বানাতে চান না। জানালেন, হুট করেই বন্ধ করে দিলেন মেয়ারি। হেসে বললেন, সে সময়ের অনেক ক্রেতা এখনো মেয়ারির কাপড় রেখে দিয়েছেন ভালোবেসে, এমনই ছিল তাঁর সুনাম। এই মেয়ারির এক যোগসূত্র বহু বছর পর আবার ফ্যাশন দুনিয়ায় তাঁর পদচারণে ভূমিকা রেখেছে। সে গল্পে পরে আসা যাক।

বিজ্ঞাপন

স্লো ফ্যাশনে চরের নারীর যত রং

চরের মেয়েরা শিখেছে কাপড় বোন
চরের মেয়েরা শিখেছে কাপড় বোন
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

পোশাকের প্রাণভোমরা দুটি। তন্তু আর রং। রুনা খান জানালেন, ২০১৯ সালে পূর্ণাঙ্গ ফ্যাশন হাউস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা কালারস অব দ্য চরসে শুধু অর্গানিক তুলাটুকু সব সময় সংগ্রহ করা যায় না। তবু সব সময় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকে বঞ্চনামুক্ত উৎস থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কাঁচামাল দিয়ে কাজ করার, জানালেন রুনা খান। আর রঙের ক্ষেত্রে অ্যাজোমুক্ত অথবা প্রাকৃতিক রঞ্জক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একেবারেই আপসহীন তাঁর কালারস অব দ্য চরস, বললেন তিনি। সত্যিকারের স্লো ফ্যাশনের মূলনীতি মেনেই এগোতে চান রুনা খান। বললেন, হাতে সুতা কাটা থেকে শুরু করে সব কাজ হাতে করা হয়। এর শুরুর গল্পটিও খুব চমকপ্রদ।

সুতাও কাটে তারা। অতিথিদের সেটাই দেখাচ্ছেন রুনা খান
সুতাও কাটে তারা। অতিথিদের সেটাই দেখাচ্ছেন রুনা খান
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

রুনা খান বললেন, চরের মেয়েদের হিসাব কষা আর লিখতে শেখানোর তাগিদে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েছিলেন। তারপর তাঁদের প্রশিক্ষিত করলেন বয়নে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এলেন সেই মেয়ারির পুরোনো কারিগরেরা। তবে বিপণনের ক্ষেত্রে রুনা খান নিলেন এক অন্য রকম পরিকল্পনা। গড়পড়তা কিছু না করে উচ্চমানসম্পন্ন, এক্সক্লুসিভ কাপড় ও পোশাক উৎপাদনের কথা ভাবলেন তিনি। বয়নশিল্প ও গয়না তৈরির ক্ষেত্রে তিনি ধামরাই, টাঙ্গাইল ঘুরে আদি ও অকৃত্রিম সেই শিল্পগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছু পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করলেন। জানালেন, তারা শুধু কালারস অব দ্য চরসকেই দেয় তাদের উৎপাদিত পণ্য।

সেলাইও করে চরের এসব প্রশিক্ষিত মেয়েরা
সেলাইও করে চরের এসব প্রশিক্ষিত মেয়েরা
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

তাঁর এই বিশাল ফ্যাশন কাফেলা এখন দেশ-বিদেশে সমান সমাদৃত। তবে রুনা খান বললেন, নামীদামি ফ্যাশন হাউসের ছায়াতলে যাওয়ার সহজ পথ এড়িয়ে তিনি গুণী ও স্বনামখ্যাত ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহী বেশি, তা-ও নিজেদের ব্র্যান্ড নামে। স্লো ফ্যাশন বলে হয়তো গতি কিছুটা মন্থর এর অগ্রযাত্রায়, হাসতে হাসতে বলেন কালারস অব দ্য চরসের স্বপ্নদ্রষ্টা। সঙ্গে এ-ও জানালেন, ইউরোপে অনলাইনে জোরেশোরে শুরু হতে যাচ্ছে তাঁদের পোশাক বিপণন। আর হল্যান্ডেও আউটলেট খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং বাংলাদেশের পোশাককে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবস্থানে উন্নীত করার অভিপ্রায়ে কাজ করছেন বলেই জানালেন রুনা খান। তিনি আশা করছেন যে ভবিষ্যতে কালারস অব দ্য চরস আন্তর্জাতিক ফ্যাশন উইকে যাবে। আর সেই প্রক্রিয়া বলতে গেলে শুরুও করেছেন। এখন অনেক বিদেশি ডিজাইনার তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বর্তমানে স্প্যানিশ ফ্যাশন লেবেল ডেসিগুয়ালের একজন ডিজাইনার তাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন।

রং করা হচ্ছে কাপড়
রং করা হচ্ছে কাপড়
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

রুনা খান বেশ জোর দিয়েই বললেন, ইউরোপে এখন সবাই স্লো ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে কালারস অব দ্য চরসকে জানে।  

পাশাপাশি যোগ করলেন, ৯৫ শতাংশ নারী কর্মী দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই শুধু লিঙ্গসমতার কথা মুখে বলার চেয়ে সার্বিক অর্থে একটি পরিবার ও একটি কমিউনিটি বাঁচানোর উদ্যোগ নিলে আপনা থেকেই নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণ হয়, এই বিশ্বাস নিয়েই কাজ করেন রুনা খান।

নদী এন্টারপ্রাইজ নামে অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে কাপড়। আর বাজারজাত হচ্ছে কালার অব দ্য চরসের মাধ্যমে
নদী এন্টারপ্রাইজ নামে অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে কাপড়। আর বাজারজাত হচ্ছে কালার অব দ্য চরসের মাধ্যমে
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

‘আমরা এই কাপড় বাজারজাতকরণে নদী এন্টারপ্রাইজ করি’, বললেন রুনা খান। শুরু থেকেই কালারস অব দ্য চরস প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করছে। তবে ভালো মানের ইন্ডিগো বা প্রাকৃতিক নীল রঙে অপ্রতুলতা থাকায় তাঁরা নীল চাষের উদ্যোগ নেন। সেখান থেকে উৎপাদিত হচ্ছে, যা নিজেরা ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করছেন। কারণ, দেশ-বিদেশে এই মানসম্পন্ন ইন্ডিগোর রয়েছে দারুণ চাহিদা। তা ছাড়া বাংলাদেশের ইন্ডিগো গুণে ও মানে শ্রেয়।

শিক্ষার বাতিঘরে নতুন দিশা

রুনা খান বলছিলেন, তাঁর চতুর্মাত্রিক সমন্বিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরেই তিনি গুরুত্ব দিলেন শিক্ষার ব্যাপারে। তাঁর সেবামূলক সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ তাই প্রতিটি প্রত্যন্ত চরে স্কুল খুলেছে। রুনা খান জানালেন, চরের মেয়েদের শিক্ষাদান করে শিক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে তবেই তিনি স্কুল চালু করেছেন। জাতীয় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সফট স্কিলস বা সুকুমার বৃত্তি বিকাশে এই বিদ্যালয়গুলোতে এথিকস বা নীতিবোধের পাঠ দেওয়া হয় গুরুত্বসহকারে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, জীবনমুখী শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষায় করণীয় বিষয়সহ সব দিকে দক্ষতা গড়ে তোলার সব প্রয়াস থাকে তাঁদের, জানালেন রুনা খান।

এই মেয়েরাই পড়েবে নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে
এই মেয়েরাই পড়েবে নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

দেশের স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রেকর্ড করা লেকচার চরের বাচ্চাদের পাঠদানে ব্যবহৃত হতো আগে থেকেই, বলেন তিনি। তবে অতিমারিকালে অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ ও যোগাযোগ বহু বেড়ে যায় বিশ্বব্যাপী। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁরা সরাসরি চরের শিক্ষার্থীর সংযুক্ত করেন আন্তর্জাতিক শিক্ষাভিত্তিক নেটওয়ার্কে।

চরের মেয়েরা এখন এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। অন্যান্য ইউনিভার্সিটিতেও যাচ্ছেন। তাঁরা ভবিষ্যতে বিশ্বের বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে পড়বেন বলে রুনা মনে করেন।

চরের মেয়েরা এখন সরাসরি বিদেশী বন্ধুদের সঙ্গে ইন্টর‌্যাক্ট করতে পারছে
চরের মেয়েরা এখন সরাসরি বিদেশী বন্ধুদের সঙ্গে ইন্টর‌্যাক্ট করতে পারছে
ছবি: সাইফুল ইসলাম

রুনা খান বললেন, ‘তবে চরের ছেলেমেয়েদের বিশ্ব সম্পর্কে সেই জ্ঞান বা ধারণা নেই। আমরাও শহর ঘোরাতে পারি না। কারণ, সেই অর্থও নেই। তাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি যোগ করিয়ে দিচ্ছি।’

‘ফ্রান্সের একটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটা মৌখিক চুক্তি আছে। আর এর মাধ্যমে ওদের একাডেমির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় আমরা সরাসরি ফ্রান্সের স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। ওদের মধ্যে ইন্টার‌্যাক্ট করছে।’

এ প্রসঙ্গে রুনা খান জানালেন এক দারুণ তথ্য। শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ফলে চরের শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। কারণ, কেবল একটি দেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে দেওয়া হবে।

ফ্রেন্ডশিপের বন্ধুদের সঙ্গে রুনা খান
ফ্রেন্ডশিপের বন্ধুদের সঙ্গে রুনা খান
ছবি: ফ্রেন্ডশিপ

রুনা খানের কাজ আর স্বপ্ন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। একপর্যায়ে বলছিলেন, কোনো স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগে তা নিয়ে তিনি কথাই বলতে পছন্দ করেন না। চরের মানুষের কাছে মেসিয়াহ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি। রুনা খানের কাফেলায় নিজের সম্মান ও অধিকারটুকু অক্ষুণ্ন রেখেই সঙ্গী হয়েছেন বহু চরবাসী। স্লো আর টেকসই ফ্যাশনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় রুনা খান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রাণপণে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন পৃথিবী ও মানুষকে।

ঘণ্টাধিক দীর্ঘ কথোপকথন শেষ হয়ে আসে। এতক্ষণ শোনা হয় রুনা খানের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো। সেখানে পুরোটাই তাঁর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। সেই ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে ছোটদের লেখক, কিংবা গল্পকার; মাঝের বিস্তীর্ণ জীবনে নানা অভিজ্ঞতা থেকে বাবার উৎসাহে ভাসমান হাসপাতাল তৈরি থেকে চরের সুহৃদ; সেই বৃত্তে ফেরার মতো ফ্যাশনে ফেরা। তবে এবার ফাস্ট ফ্যাশন নয়, বরং স্লো ফ্যাশন—প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে। এভাবে দেশের ও দশের একজন হয়ে যেমন কাজ করে চলেছেন, তেমনি বিশ্বের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সমুন্নত রাখছেন বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্মান।

এমন আলাপচারিতা আসলে শেষ হওয়ার নয়। তবু ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে আসতে হয়। (শেষ)

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪: ২০
বিজ্ঞাপন