
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতির ময়দানে শক্ত অবস্থান এই দুই দিক সামলে ৫১ বছর বয়সেও দারুণ ফিট আছেন থালাপতি বিজয়। তাঁর ফিটনেসের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে সহজ কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন। জিম বা কঠিন ডায়েটের চেয়ে তিনি বিশ্বাস করেন সিম্পল খাবার, পরিমিতি আর রুটিনে। এই জীবনধারা আমাদের প্রতিদিনের বাস্তব জীবনেও সহজেই প্রয়োগ করা যায়।
থালাপতি বিজয় প্রথাগত ডায়েট করেন না তিনি ‘সবই খান’, কিন্তু অল্প করে। কোনো খাবার পুরো বাদ দেন না, বরং পোর্শন কন্ট্রোল বা পরিমিত খান এবং কিছু বিষয় মেনে চলেন। তিনি বাইরে খাবার বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলেন, ব্যস্ত সময়েও নিজের খাবার নিজেই সঙ্গে রাখেন এবং ঘরে তৈরি খাবারের ওপরই নির্ভর করেন এটাই তার ফিট থাকার মূল রহস্য।

দিনের খাবারের রুটিন
সকালের নাস্তা
সকাল ৯টার দিকে তিনি হালকা কিন্তু পুষ্টিকর খাবার খান। যার মধ্যে থাকে ২টি ইডলি, ডিম ও মাঝে মাঝে সবজি। এই সমন্বয় শরীরে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের ব্যালেন্স রাখে।
দুপুর খাবার
তিনি দুপুর ১টার দিকে লাঞ্চ করেন। যার মধ্যে থাকে ভাত, সবজি ও ফল। খুবই সাধারণ, ঘরোয়া খাবার কিন্তু ব্যালান্সড।
স্ন্যাকস
ক্ষুধা লাগলে তিনি ফ্রেশ সালাদ ও ফলের রস খেয়ে থাকেন। যার উদ্দেশ্য অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি নয়, বরং হালকা ও ক্লিন এনার্জি।
ডিনার
রাতের খাবারে খুব হালকা এবং তাড়াতাড়ি শেষ করা যায় এমন কিছু তিনি গ্রহণ করে থাকেন। তিনি ৭টা–৭:৩০টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে ফেলেন। হজম ভালো রাখতে এবং ঘুমের মান বাড়াতে এই অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
বিজয় প্রোটিন গ্রহণ করেন পর্যাপ্ত পরিমানে। তিনি নন-ভেজ খান, তবে সীমিত পরিমাণে যার মধ্যে থাকে মুরগির মাংস আর মাছ।অতিরিক্ত প্রোটিন নয়, বরং ব্যালান্সড ইনটেকই তাঁর লক্ষ্য।
শুধু ডায়েট নয়, লাইফস্টাইলও গুরুত্বপূর্ণ। যে নিয়মগুলো বিজয় অবশ্যই মনে চলেন সেগুলো হলো:
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা (৫:৩০–৬টা)
নিয়মিত হাঁটা
হালকা ওয়েট ট্রেনিং
পর্যাপ্ত ঘুম
এই চারটি অভ্যাস তার ফিটনেস ধরে রাখার মূল স্তম্ভ।

এই মারকুটে নায়ক আর জনপ্রিয় রাজনীতিক বিশ্বাস করেন, সবকিছু এত কঠোর নয়। তাঁর প্রিয় খাবার মাটন বিরিয়ানি আর পছন্দের মিষ্টি সাক্কারাই পঙ্গল। তিনি সপ্তাহে একদিন চিট ডে পালন করেন ডায়েটে। তিনি মনে করেন, মাঝে মাঝে নিজের পছন্দের খাবার খেয়ে তিনি জীবনকে উপভোগও করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজয়ের লাইফস্টাইল থেকে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা দেখা যায় তা হলো-
জটিল ডায়েট নয়, কনসিসটেন্সি বা তা ধরে রাখাই আসল
কম খাওয়া নয়, ঠিক পরিমাণে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ
এক্সট্রিম কিছু নয়, সাস্টেইনেবল অভ্যাস থাকা জরুরি

মূল বিষয় হচ্ছে ফিট থাকতে হলে আপনাকে না খেয়ে থাকতে বা কঠোর হতে হবে না। থালাপাতি বিজয়ের মতো সিম্পল, ঘরোয়া খাবার আর নিয়ম মেনে চললেই আপনি ধীরে ধীরে নিজের শরীরে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আর পঞ্চাশ পেরিয়েও তাঁর মতো ফিট থাকতে পারবেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি
ছবি: ইন্সটাগ্রাম