বিজ্ঞাপন
স্টাইল আর মানবিকতার প্রতীক জ্যাক গ্রিলিশ

সাবেক ব্রিটিশ ফুটবল তারকাদের দেখানো পথেই যেন চলছেন বর্তমান খেলোয়াড়েরা। তাই তো মাঠের বাইরেও তুমুল জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে তারা। প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলের জমজমাট আমেজ ধরে রেখেই ইংল্যান্ড ফুটবল দল কাতার বিশ্বকাপে প্রবেশ করেছে শক্তিশালী দল নিয়ে। সেই দলে রয়েছে ফুটবলের উদীয়মান তারকারা।

ফুটবলের পাশাপাশি তাদের বেশ প্রভাব রয়েছে মাঠের বাইরেও। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি তারকা জ্যাক গ্রিলিশের কথাই ধরা যাক। বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বিলাত ও বিলাতের বাইরে কিশোর-তরুণদের এক বিরাট অংশ এখন গণহারে গ্রিলিশের হেয়ারস্টাইল অনুসরণ করে চুল কাটছেন, দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। তবে শুধু স্টাইল নয়, এই তরুণ তারকার বিভিন্ন সহমর্মিতা জ্ঞাপক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত মানবিক দিকটি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে, ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

বিজ্ঞাপন

ব্লন্ড আর কালোর মিশেলে চকচকে স্লিক ফিনিশের আন্ডারকাট হেয়ার। সঙ্গে কালো হেয়ারব্যান্ড। না, কোন মডেলের বর্ণনা নয়। কথা হচ্ছে বর্তমান ব্রিটিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় স্টাইল আইকন জ্যাক গ্রিলিশকে নিয়ে। ডেভিড বেকহামের পর ফ্যাশন নিয়ে এমন সাড়া জাগানো ব্রিটিশ ফুটবলার আর আসেনি বলা যায়।

জ্যাক গ্রিলিশ নামটাই যেন একটা শিরোনাম। সেই শিরোনামের বিষয় কখনো ফুটবল, কখনোবা তার চুলের স্টাইল আবার কখনো নামের সঙ্গে জড়িত প্রাইস ট্যাগ। গত সিজনেই অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোতে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি। খেলায় ভালো না করলে সেই প্রাইসট্যাগ নিয়েই প্রশ্ন ওঠে বারবারই! আবার চুল নিয়ে খোঁটা দিতেও ছাড়েন না সমালোচকরা। তবে এইসব কথা একদমই গাঁয়ে মাখেন না গ্রিলিশ। নিজের চুলের যত্নের বরাবরই সচেতন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গ্রিলিশের আন্ডারকাট হেয়ারস্টাইলটি এর আগে জনপ্রিয় ছিল নব্বইয়ের দশকে তরুণ বেকহামের লুকের অংশ হিসেবে। জানা যায়, শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নেন জ্যাক। এরপর, হেয়ার ড্রায়ারে চুল শুকিয়ে তিনি হেয়ার বন্ড, যেমন কোন ওয়াক্স ব্যবহার করে স্টাইল করেন আর পরবর্তী সময়ে হেয়ার স্প্রে দিয়ে সেই স্টাইল ধরে রাখেন। চুলের যত্নে মরোক্কান অয়েল আর স্টাইলের জন্য  চুলে অ্যালিস হেয়ার ব্যান্ড ব্যবহার করেন জ্যাক।

চুল ছাড়াও পোশাকের ফ্যাশনের ব্যাপারেও অনুরাগী তিনি। ফুটবল মাঠে তার উপস্থিতি চমকপ্রদ। পায়ে বুটের সঙ্গে থাকে লো সক্স। বুট ব্যবহার করেন নাইকির ফ্যান্টম জিটি টু। হাফহাতা জার্সির নিচে পরেন পুরোহাতা আন্ডারশার্ট।

বছরের শুরুতেই গুচির সঙ্গে গ্রিলিশের চুক্তির ব্যাপারে জোর আলোচনা ছিল। গুচি মূলত বিখ্যাত অভিনেতা ও সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে চুক্তি করলেও স্পোর্টসম্যান হিসেবে ব্রিটিশ এই ওয়ান্ডারবয়কে বেছে নেয় ইতালির এই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড। ইতিমধ্যেই গুচির বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে বার্মিংহাম শহরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারকে। গত গ্রীষ্মেও গুচির নীল মনোগ্রামসহ শর্টস পরে তাকে দেখা গিয়েছে লিডস ফেস্টিভালে। ব্রিটিশ এই তারকা ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের স্পনসরশিপ চুক্তি স্বাক্ষর করছেন ইতালিয়ান ফ্যাশন জায়ান্ট গুচির সঙ্গে। এই বিষয়ে গুচির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকেই তথ্য পাওয়া যায়।

শুধু স্টাইল আইকন নয়, জ্যাক গ্রিলিশকে মানুষ হিসেবে চেনায় তাঁর মানবিক গুণ আর সেবামূলক কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করার প্রবণতা। নিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলা জার্সি নিলামে তুলে দেশের সরকারি সর্বজনীন চিকিৎসাসেবা এনএইচএসের তহবিলে দিয়ে মোটা অঙ্ক। মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রবণতা রোখার ক্ষেত্রে সামাজিক আন্দোলনের জন্য তহবিল সংগ্রহে আরেক প্রিয় জার্সি বিসর্জন দিয়েছেন জ্যাক।

ভক্তদের সঙ্গে তাঁর বন্ধন অন্যরকম। দুরারোগ্য সেরিব্রাল প্যালসিতে আক্রান্ত কিশোরভক্ত ফিনলে ও তার বোনের মন রাখতে তাদেরই ফরমায়েশি নাচের মাধ্যমে গোল উদ্‌যাপন করলেন ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচে। অতিমারির সময় করোনাভাইরাসের আক্রমণে জর্জরিত স্থানীয় হাসপাতালে দান করেছেন দেড় লাখ পাউন্ড।

এমন জানা–অজানা বহু উদাহরণের পাশাপাশি চিলড্রেন ইন নিড আর সেভিং লাইভস নামে পৃথক দুটি সেবামূলক সংস্থার সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন। এত তরুণ বয়সে নিজের জগৎ জোড়া খ্যাতি, যশ, অর্থ, সম্পদ এই সবকিছু নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মতো সহমর্মিতা নিয়ে খুব মানুষই আসে পৃথিবীতে। আর জ্যাক গ্রিলিশের জীবনযাপনে স্টাইলের সঙ্গে সঙ্গে এই মানবিক দিকগুলোই বেশি টানে সবাইকে।

হিরো ইমেজ: রয়টার্স

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৪: ৫৫
বিজ্ঞাপন
হাল ফ্যাশন