
২০২৪ সালের আগস্টে ভিয়েনার আকাশে উৎসবের রং ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল টেইলর সুইফটের। ইউরোপজুড়ে তখন ‘এরাস ট্যুর’-এর উন্মাদনা। অস্ট্রিয়ার রাজধানী শহরে টানা তিনটি কনসার্টের জন্য টিকিট কেটে রেখেছিলেন প্রায় দুই লাখ ভক্ত। কেউ দূরদেশ থেকে বিমানে চড়ে এসেছেন, কেউ মাসের পর মাস সঞ্চয় করেছেন শুধু সেই এক সন্ধ্যার জন্য। কিন্তু আলোঝলমলে মঞ্চের আড়ালে তখন জন্ম নিচ্ছিল এক ভয়ংকর অন্ধকার।

অস্ট্রিয়ার এক তরুণ, মাত্র ২১ বছর বয়সী বেরান এ., গোপনে পরিকল্পনা করছিলেন একটি জঙ্গি হামলার। তদন্তে উঠে আসে, তিনি তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কনসার্টে আসা মানুষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনায় ছিল ছুরি, বিস্ফোরক এবং যত বেশি সম্ভব মানুষের প্রাণহানি ঘটানো। শেষ মুহূর্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং সম্ভাব্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
সেই ঘটনার জেরে বাতিল হয়ে যায় টেইলর সুইফটের ভিয়েনার তিনটি কনসার্ট। মুহূর্তেই স্বপ্নভঙ্গ হয় হাজারো মানুষের। হোটেল বুকিং, বিমান টিকিট, দীর্ঘ পরিকল্পনা—সবকিছু অর্থহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু হতাশার মধ্যেও এক অনন্য দৃশ্য দেখেছিল বিশ্ব। কনসার্ট না হলেও ভিয়েনার রাস্তায় জড়ো হয়েছিলেন সুইফটিরা। তাঁরা একসঙ্গে গান গেয়েছেন, কেঁদেছেন, আলিঙ্গন করেছেন। যেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভালোবাসার এক নীরব প্রতিবাদ।

দুই বছর পর, ২০২৬ সালের মে মাসে, সেই ঘটনার বিচার শেষ হলো। অস্ট্রিয়ার আদালত বেরান এ.–কে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং অনুশোচনার কথাও বলেন। কিন্তু বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এমন পরিকল্পনা কেবল একটি কনসার্ট নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে আঘাত।
এই রায় শুধু একজন অভিযুক্তের সাজা নয়; এটি এক প্রতীকী বার্তাও। কারণ, সেদিন ভিয়েনায় বাতিল হয়েছিল কনসার্ট, কিন্তু বাতিল হয়নি মানুষের স্বপ্ন। থামেনি গান। থামেনি একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি।
হয়তো এ কারণেই ঘটনাটি আজ শুধু একটি ব্যর্থ সন্ত্রাসী হামলার গল্প নয়; এটি এমন এক সময়ের গল্প, যখন ঘৃণা হাজারো মানুষের আনন্দ কেড়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছিল মানুষের। আদালতের রায়ে সেই সত্যটাই আবার নতুন করে উচ্চারিত হলো—অন্ধকার যত বড়ই হোক, আলোকে পুরোপুরি হারানো যায় না।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম