
প্রথম দেখায় কেউ জানত না, গুচ্চির একটি শোরুমে শুরু হওয়া পরিচয় একদিন বিয়ের পিঁড়িতে গিয়ে শেষ হবে। ২০১৬ সালে স্পেনের মাদ্রিদে গুচ্চির দোকানে কাজ করতেন জর্জিনা রদ্রিগেজ। সেখানেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। এরপর প্রায় এক দশকের পথচলা। এই সময়ে এসেছে সন্তান, পারিবারিক সুখ, কঠিন শোক, বিলাসী জীবন আর বারবার বিয়ের গুঞ্জন। গতকাল পর্তুগালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এই তারকা জুটি। তাঁদের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য ১০টি ঘটনা ফিরে দেখা যাক।

১. গুচ্চির শোরুমে প্রথম দেখা
২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচ্চির শোরুমে কাজ করতেন জর্জিনা। একদিন সেখানে কেনাকাটা করতে যান রোনালদো। সেখানেই তাঁদের প্রথম দেখা।

জর্জিনা তখন গুচ্চির বিক্রয়কর্মী, আর রোনালদো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার। প্রথম পরিচয়টা ছিল ক্রেতা ও বিক্রয়কর্মীর, কিন্তু সেখান থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হয় তাঁদের প্রেমের গল্প।
২. সহকর্মীদের চোখ এড়িয়ে দেখা
জর্জিনা পরে জানিয়েছেন, রোনালদোর সঙ্গে প্রথম দিকে দেখা হলে তিনি বেশ নার্ভাস থাকতেন। গুচ্চির শোরুমে দেখা হওয়ার পর দুজনের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এরপর শোরুমের বাইরে দেখা-সাক্ষাৎ শুরু হয়। পরিচিতি ধীরে ধীরে রূপ নেয় বন্ধুত্বে, আর সেই বন্ধুত্ব থেকেই প্রেম।

৩. ২০১৬ সালেই প্রকাশ্যে আসে সম্পর্ক
২০১৬ সালের শেষ দিকে রোনালদো ও জর্জিনাকে একসঙ্গে দেখা যেতে শুরু করে। রোনালদোর সঙ্গে জর্জিনার সম্পর্কের খবর তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঘুরতে যাওয়ার সময় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। খুব বেশি দিন অবশ্য সম্পর্কটি গোপন থাকেনি।
৪. রোনালদোর সন্তানদের সঙ্গে জর্জিনার ঘনিষ্ঠতা
সম্পর্কের শুরু থেকেই জর্জিনা রোনালদোর সন্তানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যেতে থাকে।

সময়ের সঙ্গে জর্জিনা শুধু রোনালদোর প্রেমিকা নন, তাঁর পরিবারেরও গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়ে ওঠেন।

৫. ২০১৭ সালে আলানা মার্টিনার জন্ম
২০১৭ সালের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার ঘরে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনা। এরপর মাতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হয় জর্জিনার জীবনে। রোনালদোর অন্য সন্তানদেরও নিজের সন্তানের মতো করে বড় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
৬. রোনালদোর ক্যারিয়ারের নানা বাঁকে পাশে ছিলেন জর্জিনা
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাস, এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হয়ে সৌদি আরবের আল-নাসর—রোনালদোর ক্যারিয়ারে এসেছে একের পর এক বড় পরিবর্তন। এই পুরো সময়েই তাঁর পাশে ছিলেন জর্জিনা। ফুটবলের বাইরেও রোনালদোর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হয়ে ওঠেন তিনি।


৭. ২০২২ সালের সেই কঠিন সময়
২০২২ সালে যমজ সন্তানের বাবা-মা হওয়ার কথা ছিল রোনালদো ও জর্জিনার। কিন্তু সন্তান জন্মের সময় তাঁদের ছেলে মারা যায়। মেয়ে বেঁচে যায়। এই ঘটনা তাঁদের জীবনে গভীর শোক নিয়ে আসে। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সন্তান হারানোর সেই কঠিন সময়ের কথা বলেছেন দুজনেই।
৮. রোনালদোর সঙ্গী থেকে নিজস্ব পরিচিতি
শুধু রোনালদোর প্রেমিকা হিসেবেই থেমে থাকেননি জর্জিনা। মডেলিং, ফ্যাশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।

নেটফ্লিক্সের রিয়েলিটি সিরিজ ‘আই অ্যাম জর্জিনা’ তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। সেখানে উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্কের নানা দিক।
৯. বিয়ের গুঞ্জন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব
দীর্ঘদিন ধরেই রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন ছিল। জর্জিনার আঙুলে হীরার আংটি দেখা যাওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়। পরে রোনালদো তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার খবরও প্রকাশ্যে আসে। প্রায় এক দশকের সম্পর্ক তখন নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোতে শুরু করে।

১০. অবশেষে পর্তুগালে বিয়ে
গতকাল ১১ আগস্ট, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় এক দশকের প্রেমের পর গতকাল পর্তুগালে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে রোনালদো ও জর্জিনার। ইন্সটাগ্রামে রোনালদোর অ্যাকাউন্ট থেকে নিশ্চিত হন সবাই এই বিয়ে নিয়ে। নয়তো বেশকিছুদিন ধরেই নানা গুজব চলছিল।
পাঁচ ছেলে মেয়ে ও একান্ত আপনজনদের সঙ্গে নিয়ে মিডিয়ার আড়ালে নিভৃতেই বিয়ে সেরেছেন এই পাওয়ার কাপল। শেয়ার করেছেন হীরার ওয়েডিং রিং পরা যুগল হাতের ছবি। একসময় গুচ্চির শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করা জর্জিনা এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল তারকার জীবনসঙ্গী। তাঁদের গল্পে তাই রোমান্সের পাশাপাশি আছে পরিবার, সাফল্য, শোক আর দীর্ঘদিনের একসঙ্গে পথচলার গল্প।
সূত্র: বিবিসি স্পোর্টস, পিপল, রয়টার্স
ছবি: ইন্সটাগ্রাম