
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হয়েছে দারুণভাবে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। সেই জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে তিনি শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, গড়েছেন নতুন ইতিহাসও।

এমন দুর্দান্ত শুরুর পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ। ২২ জুন টেক্সাসের আরলিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে লা আলবিসেলেস্তেরা। এই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বে ওঠার পথ আরও সহজ হয়ে যাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য।তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের এক ভিন্ন কারণেও আলোচনায় উঠে এসেছেন মেসি।

নতুন করে চুল কেটে নিজের লুকে সামান্য পরিবর্তন এনেছেন তিনি, আর সেই হেয়ারকাটের ছবিই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেলুনের চেয়ারে বসে চুল কাটাচ্ছেন মেসি। তাঁর গায়ে জড়ানো বারবার কেপ, আর ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল।

৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রায়ই মেসির সঙ্গেই দেখা যায়। এ কারণেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অনেকেই মজা করে তাঁকে মেসির ‘বডিগার্ড’, ‘ছায়াসঙ্গী’ কিংবা ‘বিশ্বস্ত প্রহরী’ বলে ডাকেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই মেসির হেয়ারকাটের ছবিতে ডি পলের উপস্থিতিও ভক্তদের নজর এড়ায়নি। বরং দুজনের এই বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে মেসির নতুন লুক নিয়ে জল্পনাও।

অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, নতুন হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে মাঠেও দেখা মিলতে পারে আবার কোনো জাদুর।
অবশ্য নিজের চেহারা ও হেয়ারস্টাইল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ইতিহাস মেসির নতুন নয়। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের স্টাইলে দেখা গেছে তাঁকে। ২০১৬ সালে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে প্লাটিনাম ব্লন্ড চুলে হাজির হয়েছিলেন তিনি।

সেই সময় হালকা রঙের চুল ও গাঢ় দাড়ির সংমিশ্রণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে তিনি ফিরে আসেন স্বাভাবিক লুকে।
এরপর এমন সময়ও এসেছে, যখন দাড়ি ছাড়া একেবারে পরিচ্ছন্ন চেহারায় দেখা গেছে তাঁকে।


আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তুলনামূলক লম্বা চুল রাখতেন মেসি। তবে একবার কোনো স্টাইল গ্রহণ করলেও সেটিকে দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে ধরে রাখার মানুষ তিনি নন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁর হেয়ারস্টাইল, বদলেছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের ধরনও।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচের আগে নতুন হেয়ারকাট হয়তো শুধুই একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে ছোট্ট এমন পরিবর্তনও মুহূর্তেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। কারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় নন; তিনি এক বৈশ্বিক আবেগ। তাঁর গোল, উদ্যাপন, হাসি কিংবা নতুন হেয়ারকাট সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে খবর হয়ে ওঠে। এখন দেখার বিষয়, নতুন লুকের এই মেসি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে আরেকটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেন কি না। বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রত্যাশা অবশ্য সেদিকেই।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম