
দিল্লির ফ্যাশন মঞ্চে আবারও নজর কাড়লেন সঙ্গীতা বিজলানি। দিল্লি টাইমস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিন ডিজাইনার মন্দিরা ওয়ার্কের শোস্টপার হিসেবে র্যাম্পে হাঁটলেন তিনি। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত তিন দিনের এই ফ্যাশন উইকের টাইটেল স্পনসর টাইমেক্স।
শোস্টপার হিসেবে সঙ্গীতার উপস্থিতি ছিল মন্দিরা ওয়ার্কের দীর্ঘ ফ্যাশন-যাত্রার সঙ্গে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এক সংযোগ।

মন্দিরা ওয়ার্ক ২০০০ সালে নিজের লেবেল শুরু করেন এবং গত দুই দশকের বেশি সময়ে কতুর, রিসোর্টওয়্যার, ইন্ডিয়ানওয়্যার ও মেন্সওয়্যারসহ বিভিন্ন পরিসরে নিজের ডিজাইন-ভাষা তৈরি করেছেন।

তাঁর লেবেলের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তিনি ১০০টির বেশি রানওয়ে শো ও বিশেষ প্রেজেন্টেশনে অংশ নিয়েছেন।

আয়োজনটির দ্বিতীয় দিন সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই উদ্যাপন করেছে মন্দিরা ওয়ার্কের নতুন কালেকশন। ২৬ বছরের বিবর্তন, নানা ধরনের পোশাকের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা তৈরি কালকশনটি তুলে ধরা হয় রানওয়েতে।

কতুর থেকে লাক্সারি রিসোর্টওয়্যার, মেন্সওয়্যার থেকে ওয়েডিং কিউরেশন। ডিজাইনারের কাজের বিভিন্ন অধ্যায় যেন এক রানওয়েতে এসে মিলেছে।
এই আবহে সঙ্গীতা বিজলানির উপস্থিতিও হয়ে উঠেছে আলাদা আকর্ষণ। একসময় মডেলিং দুনিয়ায় পরিচিত মুখ, পরে বলিউডে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হওয়া সঙ্গীতা বহু বছর ধরেই নিজের স্বতন্ত্র স্টাইলের জন্য আলোচনায় থাকেন। র্যাম্পে তাঁর প্রত্যাবর্তনে সেই অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসই নতুন করে সামনে এসেছে।

সঙ্গীতার এই রানওয়ে উপস্থিতি তাই শুধু একজন সেলিব্রিটি শোস্টপারের অংশগ্রহণ নয়, বরং ফ্যাশনে বয়স, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের জায়গাটিকেও সামনে আনে। নতুন প্রজন্মের মডেল ও সেলিব্রিটিদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ মুখকে কেন্দ্র করে গ্র্যান্ড ফিনালে সাজানোয় মন্দিরা ওয়ার্কের এই প্রেজেন্টেশনে ফ্যাশনের দীর্ঘ যাত্রার একটি অন্যরকম গল্পও ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে, পুরো ফ্যাশন উইকজুড়ে টাইমেক্স তাদের প্রিমিয়াম কালেকশন এবং ফল উইন্টার ২০২৬-এর ঘড়িগুলোও তুলে ধরছে। মার্লিন, ওয়াটারবুরি, সিগনিও, ফ্রিয়া ও অ্যাটেলিয়ারের মতো কালেকশনের মাধ্যমে ঘড়িকে শুধু সময় দেখার অনুষঙ্গ নয়, ব্যক্তিগত স্টাইলের অংশ হিসেবেও তুলে ধরছে ব্র্যান্ডটি।

মন্দিরা ওয়ার্কের সৃষ্টিশীল যাত্রা এবং সঙ্গীতা বিজলানির মতো অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি। দুই মিলিয়ে দিল্লি টাইমস ফ্যাশন উইকের দ্বিতীয় দিনে গ্র্যান্ড ফিনালে ছিল সময়, অভিজ্ঞতা ও স্টাইলের একসঙ্গে মিলে যাওয়ার মুহূর্ত। রানওয়েতে সঙ্গীতার উপস্থিতি যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল। ফ্যাশনে বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নিজের স্টাইলকে নিজের মতো করে বহন করার আত্মবিশ্বাস।