
মুম্বাই থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে লন্ডনে পৌঁছে এক ভিডিও আলাপে আলিয়া মজা করে বলেছিলেন, ত্রিশের কোঠায় এসে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি নাকি আরও বেশি অনুভূত হয়। তবে অনুষ্ঠানমঞ্চে তার উপস্থিতিতে ক্লান্তির লেশমাত্র ছিল না। কাস্টম মেড গুচি গাউনে তাকে দেখাচ্ছিল অনবদ্য।

রুপালি সিকুইন ও সূক্ষ্ম কারুকাজে অলঙ্কৃত হাল্টার নেক, পিঠখোলা সেই গাউন আলোয় ঝলমল করছিল সিনেমাটিক আভায়। লন্ডনের কনকনে ঠান্ডা মাথায় রেখে তার পোশাকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল নরম পশমি আবরণ। যা একদিকে উষ্ণতা দিয়েছে, অন্যদিকে তুলে ধরেছে পুরনো হলিউডের স্টাইল। ১৯৫০–এর দশকে রুপালি গাউনে মেরিলিন মনরোর একটি বিখ্যাত ছবিই ছিল এই রূপসজ্জার মূল অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানে তিনি একটি শাখার চলচ্চিত্রের পুরস্কার প্রদান করেন। উপস্থাপক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলিয়ার ভাবনা ছিল স্পষ্ট—তিনি গ্ল্যামার আনতে চেয়েছেন, তবে তা যেন মার্জিত ও হালকা থাকে। তার ভাষায়, পোশাকটি শরীরে খুবই স্বচ্ছন্দে বসেছিল, কোনও বাড়াবাড়ি ছিল না।

গুচির প্রথম ভারতীয় বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন আলিয়া। গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী আয়োজনে তিনি গুচির ইতিহাসে প্রথম কাস্টম লেহেঙ্গা পরেছিলেন। তার মতে, যখন একটি ভাবনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা হয়, তখন সেটি কেবল পোশাক থাকে না—তা হয়ে ওঠে সৃজনশীল এক অভিজ্ঞতা।

২০১২ সালে স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। তবু বাফটার এই প্রথম উপস্থিতি তার কাছে ছিল বিশেষ এক অধ্যায়।

রেড কার্পেটের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের একটি ছোট্ট নিয়ম মানেন। অনুষ্ঠান শেষে পুরো দলকে নিয়ে একসঙ্গে খাবার টেবিলে বসেন। তার বিশ্বাস, মানুষ যখন সুখী ও তৃপ্ত থাকে, তখনই তাকে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। আর সেই সৌন্দর্য আসে কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে।
কাজের ফাঁকে লন্ডনে তিনি উপভোগ করেছেন ভোরের পার্কে হাঁটা, কন্যার সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রিয় খাবার। ব্যস্ততার মাঝেও এই ছোট ছোট মুহূর্তই তাকে রাখে প্রাণবন্ত ও শান্ত।

প্রথম বাফটা উপস্থিতিতেই আলিয়া ভাট দেখালেন—আসল গ্ল্যামার কেবল ঝলমলে পোশাকে নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, সংযম ও নিজস্ব শৈলীর প্রকাশে। মেরিলিন মনরোর স্মৃতি জাগানো সেই রুপালি আবির্ভাব যেন নতুন প্রজন্মের এক তারকার মধ্য দিয়ে আবারও জীবন্ত হয়ে উঠল।