
দুই বছর আগে তিনি বলেছিলেন, “প্রায় দু’মাস হলো আমি ভেগান বা নিরামিষভিত্তিক খাবার খাচ্ছি। পরিবর্তনটা খুবই ইন্টারেস্টিং, আর নিজেকে বেশ ভালো লাগছে।”
তবে তিনি তখনই স্বীকার করেছিলেন—এটি ছিল এক ধরনের পরীক্ষা। কঠোরভাবে দীর্ঘদিন চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু দুই বছর পর, তাঁর দীপ্ত ত্বক আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়—সচেতন খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস তাঁর শরীরকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তারকাদের ডায়েট মানেই জটিল কিছু—এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেন শ্রদ্ধা। তাঁর প্রতিদিনের খাবার বেশ সহজ ও দেশীয়—
* ডাল
* ভাত
* নানা রকম সবজি
রুটি তাঁর খুব পছন্দ নয় বলেই জানিয়েছেন। কখনও কখনও স্বাদে বৈচিত্র আনতে কন্টিনেন্টাল বা এশীয় পদও বেছে নেন। তবে মূলত সরল, পুষ্টিকর ভারতীয় খাবারই তাঁর ভরসা।
স্ন্যাকস হিসেবে পছন্দ শুকনো ফলের মিশ্রণ। আর সফট ড্রিংকস, চিপস বা ভাজাপোড়া? সেগুলো থাকে ‘মাঝে মাঝে’, একেবারে সীমিত পরিমাণে।

ভেগান খাদ্যাভ্যাস শুধু মাংস না খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয় সব ধরনের প্রাণিজ উপাদান—মাংস, মাছ, ডিম, দুধজাত খাবার, এমনকি মধুও।
এর বদলে খাদ্যতালিকায় থাকে—
* ডাল, শিমজাতীয় খাবার
* শস্য ও দানাদার খাবার
* তাজা ফল ও সবজি
* বাদাম, বীজ ও উদ্ভিজ্জ তেল
শ্রদ্ধা যা করেছেন, তা হলো ‘কি খেতে পারছি না’—এই ভাবনা থেকে সরে এসে ‘কি খেতে পারি’—সেদিকে মনোযোগ দেওয়া।

শ্রদ্ধার সুস্থতার আরেকটি গোপন রহস্য তাঁর ‘আর্লি ডিনার’ নিয়ম। তিনি রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে।
এই অভ্যাস—
* হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে
* ঘুমের ছন্দ ভালো রাখে
* শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে
তিনি সন্ধ্যা ৬টার আগেই শরীরচর্চা সেরে ফেলতে পছন্দ করেন, যাতে কার্ডিও লক্ষ্য পূরণ হয়। ডায়েট সব সময় কঠোর না হলেও নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো খাবার তাঁর রুটিনের অপরিহার্য অংশ।

শ্রদ্ধার অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—ডায়েট কোনো ট্রেন্ড নয়, এটি এক ধরনের সচেতন সিদ্ধান্ত। শরীরের সাড়া শুনে, ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনাই টেকসই পথ।
তবে বড় ধরনের খাদ্য পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—কারণ প্রত্যেকের শরীর আলাদা।
৩৯-এ দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা কাপুর যেন প্রমাণ করলেন, সৌন্দর্য কেবল মেকআপ বা আলোয় নয়; তা জন্ম নেয় ভেতরের যত্ন, শৃঙ্খলা আর সচেতনতার মাধ্যমে। আর কখনও কখনও, একটি ছোট খাদ্য-পরিবর্তনই হয়ে উঠতে পারে জীবনের বড় মোড়।