শুভ জন্মদিন ফুটবলের বিস্ময়বালক: দেখুন লামিনে ইয়ামালের জীবনের ৮টি সংগ্রামের গল্প
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ফিফা বিশ্বকাপ অদম্য স্পেন দলের মধ্যমণি বলা যায় বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালকে। আজ তাঁর ১৯তম জন্মদিন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ তারকা হয়ে ওঠার পথে লামিনে ইয়ামালকে পাড়ি দিতে হয়েছে কঠিন সংগ্রামের পথ। শৈশবের দারিদ্র্য, অভিবাসী পরিবারের ত্যাগ, স্বাভাবিক জীবন হারানোর বেদনা এবং অল্প বয়সেই বিশ্বজোড়া খ্যাতির চাপ; এই সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন এক জ্বলজ্যান্ত অনুপ্রেরণার গল্প। বিশ্বকাপের এই টিনএজ সেনসেশনের জীবনের ৮টি স্ট্রাগল স্টোরি জানলে তাঁর প্রতি মুগ্ধতা আর শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে আরও।

১. অভিবাসী অধ্যুষিত দরিদ্র এলাকায় বেড়ে ওঠা

ইয়ামালের বেড়ে ওঠা স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকায়, যেখানে মূলত উত্তর আফ্রিকার অভিবাসী পরিবারগুলোর বসবাস। তাঁর পরিবারের শিকড় মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে। এলাকাটি ছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সীমিত সুযোগ-সুবিধায় ভরা।

ইয়ামালের বেড়ে ওঠা স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকায়
ইয়ামালের বেড়ে ওঠা স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকায়

২. চরম আবাসন সংকটের মুখোমুখি পরিবার

এফসি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগের সময়ে তাঁর পরিবার তীব্র আর্থিক সংকটে ছিল। কখনো বন্ধুদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন লামিনের বাবামা। আবার কখনো তরুণ বাবা-মায়েদের জন্য তৈরি একটি আবাসনে থেকেছেন। আর লামিনের বয়ানে জানা যায়, সেখানে একই ছোট ঘরেই ছিল ঘুমানোর জায়গা ও রান্নাঘর।

বিজ্ঞাপন

৩. আসল প্রেশার ছিল তাঁর বাবা-মায়ের ওপর

ইয়ামাল বহুবার বলেছেন, ফুটবলই তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিষয় নয়। তাঁর মা মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁকে জন্ম দেন। অন্যদিকে তাঁর বাবা পরিবারের খরচ চালাতে রাস্তা পরিষ্কার ও ময়লা সংগ্রহের মতো কঠোর পরিশ্রমের কাজ করেছেন। লামিনের মতে এগুলোই সত্যিকারের প্রেশার, তাঁর ফুটবল জীবন নয়।

বাবার কষ্টের কথা ভোলেন না ইয়ামাল
বাবার কষ্টের কথা ভোলেন না ইয়ামাল
ইয়ামালের জীবনে তাঁর দাদী ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা
ইয়ামালের জীবনে তাঁর দাদী ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা

৪. পরিবারের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠার গল্প

ইয়ামালের জীবনে তাঁর দাদী ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা। ভালো ভবিষ্যতের আশায় তিনি মরক্কো থেকে স্পেনে বাসে লুকিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। পরে টানা কয়েক বছর তিনটি শিফটে কাজ করে তিনি এত অর্থ জোগাড় করেন, যাতে নিজের ছেলে (ইয়ামালের বাবা) ও মেয়েকে স্পেনে নিয়ে আসতে পারেন। সেই আত্মত্যাগই পরিবারের নতুন জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

৫. শৈশবের স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলা

ছোট বয়সেই বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়ে যান ইয়ামাল। তিনি স্বীকার করেছেন, এখন সাধারণ মানুষের মতো কোথাও যাওয়া প্রায় অসম্ভব। শপিং মলে গেলেও ক্যামেরা ও ভক্তদের ভিড়ে ঘিরে ফেলা হয় তাঁকে। একজন কিশোরবয়সী ছেলের জন্য বিষয়টি খুব সুখকর নয় কিন্তু।

৬. ইতিহাস গড়ার মাঝেও করতে হয়েছে পড়াশোনা

তাঁর উত্থান এতটাই দ্রুত হয়েছে যে, একদিকে স্কুলের পড়াশোনা, অন্যদিকে ফুটবলের ইতিহাস এই দুটিই একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে লামিনেকে। ইউরো ২০২৪ জয়ের সেলিব্রেশনের মাঝেও তাঁকে স্কুলের বাড়ির কাজ শেষ করতে হয়েছিল।

ইয়ামালের মা পড়াশোনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন
ইয়ামালের মা পড়াশোনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন

৭. ফুটবলের পাশাপাশি বাড়িতে কঠোর অনুশাসন

ইয়ামালের মা পড়াশোনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও তিনি ছেলেকে বই নিয়ে বসতে বলতেন। এমনকি পড়াশোনা না করলে ফুটবল খেলতে দেবেন না বলেও সতর্ক করেছিলেন। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে আবেগঘন তর্কও হয়েছে, কারণ ইয়ামাল বিশ্বাস করতেন, তাঁর ভবিষ্যৎ কেবল পেশাদার ফুটবলে। তবে মায়ের ইচ্ছাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

অতিরিক্ত ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ তাঁর তরুণ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে
অতিরিক্ত ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ তাঁর তরুণ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে

৮. অল্প বয়সেই শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ

মাত্র ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হওয়ায় তাঁকে ক্লাব ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সারা বছরই খেলতে হয়েছে। এই অতিরিক্ত ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ তাঁর তরুণ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস, ফিফা ইনসাইডার

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭: ৫৮
বিজ্ঞাপন