সবার নজর আজ জামাল মুসিয়ালার দিকে, আলু খেয়েই এমন জাদুকরি ড্রিবলিং করেন তিনি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মাঠে জামাল মুসিয়ালাকে দেখলে মনে হয় যেন বল তাঁর পায়ের সঙ্গে আঠার মতো লেগে আছে। মুহূর্তের মধ্যে দিক পরিবর্তন, ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ এবং ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর তরুণ তারকাদের একজন করে তুলেছে।

এই জাদুকরি ড্রিবলিংয়ের পেছনে রয়েছে কঠোর ফিটনেস রুটিন, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস
এই জাদুকরি ড্রিবলিংয়ের পেছনে রয়েছে কঠোর ফিটনেস রুটিন, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস

তাঁর এই জাদুকরি ড্রিবলিংয়ের পেছনে রয়েছে কঠোর ফিটনেস রুটিন, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস। এদিকে জানা যায়, ভাত বা রুটি নয়, আলুই তাঁর প্রধান খাদ্য। তাঁর দল বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর ফিটনেস পরিকল্পনা মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে: ইনজুরি প্রিভেনশন, ক্ষিপ্রতা বৃদ্ধি ও কুইক রিকভারি।

বিজ্ঞাপন

মুসিয়ালার খাদ্য পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গ্লুটেনমুক্ত ডায়েট। গ্লুটেন অসহিষ্ণুতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি একজন পুষ্টিবিদের সহায়তায় খাদ্যতালিকা সাজিয়েছেন। ফলে গমজাত খাবার এড়িয়ে চলেন তিনি।

মুসিয়ালার খাদ্য পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গ্লুটেনমুক্ত ডায়েট
মুসিয়ালার খাদ্য পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গ্লুটেনমুক্ত ডায়েট

এ ধরনের ডায়েট তাঁর শরীরে প্রদাহ কমাতে, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রশিক্ষণের পর দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। একজন এলিট অ্যাথলেটের জন্য এসব বিষয় পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আলু: তাঁর শক্তির প্রধান উৎস

অনেকেই কার্বোহাইড্রেট মানেই ভাত বা রুটি ভাবেন। কিন্তু মুসিয়ালার পছন্দ আলু। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আলু রাখেন তিনি, কারণ এটি শরীরকে দেয় পরিষ্কার ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি। হাই ভোল্টেজ ম্যাচ এবং অনুশীলনের জন্য দ্রুত শক্তি যেমন দরকার, তেমনি দরকার শক্তির স্থায়ী জোগান। আলু সেই কাজটাই করে।

ফিত থাকতে মুসিয়ালার পছন্দ আলু। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আলু রাখেন তিনি
ফিত থাকতে মুসিয়ালার পছন্দ আলু। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আলু রাখেন তিনি

জামাল মুসিয়ালার খাদ্যাভ্যাসে আছে তাঁর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ছাপ। তাঁর বাবা ড্যানিয়েল রিচার্ড ব্রিটিশ নাইজেরিয়ান আর মা জার্মান। তিনি পছন্দ করেন পাউন্ডেড ইয়াম, ফুফু এবং এগুসি স্যুপ, যেগুলো জনপ্রিয় নাইজেরিয়ান খাবার। ফুফু ও ইগুসি স্যুপে কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিনের ভালো উৎস। মুসিয়ালার মতে, এগুলো শুধু স্বস্তিদায়ক খাবারই নয়; বরং তাঁর রিকভারি এবং সামগ্রিক সুস্থতাতেও সাহায্য করে।

কঠোর ডায়েট চার্ট মানলেও ছোটখাটো আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন না তিনি। প্রেটজেল স্টিকস ও মিষ্টিজাতীয় খাবার জামালের প্রিয় স্ন্যাকস। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখতে মাঝে মাঝে পছন্দের খাবার খাওয়াও মানসিকভাবে সহায়ক।

মুসিয়ালার প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ সম্ভবত নিউরো-অ্যাথলেটিক ট্রেনিং। তিনি নিয়মিত নিউরো-অ্যাথলেটিক কোচ স্টেফেন টেপেল-এর সঙ্গে কাজ করেন। এই প্রশিক্ষণে কেবল পেশি নয়, বরং মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও শরীরের সমন্বয় উন্নত করা হয়। এর ফলে তাঁর

ফার্স্ট টাচ আরও নিখুঁত হয়

ভারসাম্যের উন্নতি হয়

দ্রুত দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা বাড়ে

জয়েন্টের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়

বিশেষ করে গোড়ালির আঘাতের পর এই প্রশিক্ষণ তাঁর জন্য খুব কার্যকর হয়েছে।

গোড়ালির আঘাতের পর এই প্রশিক্ষণ তাঁর জন্য খুব কার্যকর হয়েছে
গোড়ালির আঘাতের পর এই প্রশিক্ষণ তাঁর জন্য খুব কার্যকর হয়েছে

জামালের অনুশীলনের রহস্য

মুসিয়ালার ট্রেডমার্ক ড্রিবলিংয়ের পেছনে আছে অভিনব কিন্তু কার্যকর অনুশীলন খুব ছোট, সীমিত জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণের চর্চা। ছোট কক্ষ বা সরু ইনডোর জায়গায় অনুশীলন তাকে শিখিয়েছে কীভাবে ক্ষুদ্র জায়গায় দ্রুত মোড় নিতে হয়, ভারসাম্য ধরে রাখতে হয় এবং বলকে শরীরের খুব কাছে রাখতে হয়।ফলে মাঠে ডিফেন্ডাররা প্রায়ই বুঝে ওঠার আগেই তিনি দিক বদলে ফেলেন।

ইনজুরি থেকে ফিরে আসার সায়েন্স

হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেন আর গোড়ালির সমস্যার পর তার পুনর্বাসন পরিকল্পনা আরও বৈজ্ঞানিক হয়েছে। তার জিম ও পিচ সেশন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত—

কোর স্টেবিলাইজেশন

সমন্বয় অনুশীলন

নিয়ন্ত্রিত ক্ষিপ্রতা ড্রিল

এই অনুশীলনগুলো শুধু আঘাত থেকে ফিরতে নয়, ভবিষ্যতের আঘাত প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

সিয়ালার জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে বিজ্ঞানও
সিয়ালার জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে বিজ্ঞানও

ফিটনেসের নতুন সংজ্ঞা

জামাল মুসিয়ালার ফিটনেস দর্শন একটি বিষয় পরিষ্কার করে আজকের ফুটবলে শুধু শক্তিশালী হওয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্মার্ট ট্রেনিং, ব্যক্তিকেন্দ্রিক পুষ্টি এবং মস্তিষ্ক-শরীরের নিখুঁত সমন্বয়। তার গল্প আমাদের শেখায়, পারফরম্যান্স কেবল জিমে তৈরি হয় না; তা গড়ে ওঠে প্লেটের খাবার, ঘুম, পুনরুদ্ধার এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের সমন্বয়ে। তাই মুসিয়ালার জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে বিজ্ঞানও।

সূত্র: ওয়াভেস, বাভারিয়ান ফুটবল ওয়ার্কস

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১৭: ৪২
বিজ্ঞাপন