
তাঁরা গোল করলে পুরো দুনিয়া উদ্যাপন করে। এই তারকা ফুটবলাররা জিতেছেন কাপ, ট্রফি আর টাইটেল। কিন্তু সন্তানের হাসি দেখলে যে আনন্দ মেলে, সেটা কোনো ট্রফিতে ধরা যায় না। আর এই অনুভূতির কথা তাঁরা নিজেরাই বলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেরা কিছু তারকা ফুটবলার বাবা মাঠে নেমেছেন। আর তাঁদের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে তাঁদের সন্তানরা। এই বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকারা অনেকেই তাঁদের সন্তানদের কাছে সবার আগে স্নেহময়, কেয়ারিং বাবা। আজ ২১ জুন বাবা দিবসে চলুন তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে বন্ডিংয়ের গল্প।
লিওনেল মেসি: আর্জেন্টিনা
তিন পুত্রের বাবা এই ৩৯ বছর বয়সী ফুটবল-মহাতারকা। এটি তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। মেসি আর তাঁর স্ত্রী অ্যান্তোনেলার তিন ছেলে থিয়াগো (১৩), মাতেও (১০) ও সিরো (৭) এবার বাবার শেষ বিশ্বকাপ দেখছে এমন বয়সে, যে এই স্মৃতি তাঁদের সঙ্গে জীবনভর থাকবে।


২০২২-এর বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি বলেছিলেন, ট্রফির চেয়ে সন্তানের জন্মের আনন্দ বড়। আর সেটাই ছিল তাঁর প্রকৃত অনুভূতি। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর লিওর পুরো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছে। তাই এবার ঘরের মাঠেই খেলছেন মেসি, আর তিন ছেলে সামনে থেকে মেসির পায়ে পায়ে ইতিহাস রচিত হতে দেখতে পাচ্ছে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: পর্তুগাল
পর্তুগালের ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের দিনটি ছিল রোনালদোর কাছে দ্বিগুণ উৎসবের। কারণ সেদিনই সিআর সেভেনের বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের ১৬তম জন্মদিন। মাঠে নামার আগেই ইনস্টাগ্রামে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানান। জুনিয়র নিজেও পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে খেলছেন। মে ২০২৬-এ গ্রিসের বিপক্ষে দুই গোল করেছেন। রিয়াদে পুরো পরিবার মিলে থাকেন রোনালদোরা।


সৎমা হলেও জর্জিনা রদ্রিগেজ জুনিয়রকে নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসেন। ইভা মারিয়া ও মাতেও এই দুই জমজ বোনের জন্ম হয় সারোগেট মায়ের গর্ভে ২০১৭ সালে। একই সালে জর্জিনার গর্ভে জন্ম নেওয়া রোনালদোর মেয়ে আলানা মার্তিনা ইতিমধ্যেই গানের জগতে ঝুঁকছে। জানুয়ারি ২০২৬-এ ইনস্টাগ্রামে তাকে সেলিন ডিওনের গান গাইতে দেখা গেছে। এই কাপলের সবচেয়ে ছোট মেয়ে বেলা এসমেরাল্দার বয়স মাত্র চার। সব মিলিয়ে সুখের সংসার রোনালদোর।
নেইমার: ব্রাজিল
চার সন্তান আছে এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকার। কিছুদিন আগেই জানা গেল, পঞ্চমজন আসছে। নেইমার জুনিয়রের বয়স ৩৪। এটি তাঁর চতুর্থ বিশ্বকাপ। দুই বছরের ইনজুরির ছায়া পেরিয়ে নেইমারের ফেরাটাই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগী গল্পগুলোর একটি।


তাঁর বড় ছেলে দাভি লুচ্চার বয়স এখন ১৩। বাবার এই কঠিন ও স্পেশাল সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত সে অনুভব করছে। পার্টনার ব্রুনার সঙ্গে নেইমারের প্রথম সন্তান মাভি। এরপর আরেক বান্ধবীর গর্ভে জন্ম নেয় হেলেনা। তারপর আবার ব্রুনার কাছে ফেরা। ২০২৫ সালে মেল নামের কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ব্রুনা। এরপর বিশ্বকাপের মাঝেই জানা গেল আবারও কন্যাসন্তান আসছে তাঁদের সংসারে।
মোহাম্মদ সালাহ: মিশর
দুই কন্যার বাবা এই ফুটবলারের বয়স ৩৩। এটি তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। স্টারডম থাকলেও পরিবারের প্রতি তিনি নিবেদিত। স্ত্রী ম্যাগি সাদেক আর দুই মেয়ে মক্কা ও কায়ানকে নিয়ে তিনি সযত্নে একটি নিভৃত পারিবারিক জীবন যাপন করেন।


বড় মেয়ে মক্কার নামটি রাখা হয়েছে পবিত্র মক্কা শহরের নামে। ২০১৯ সালে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের শিরোপা উদ্যাপনে মক্কা মাঠে দৌড়ে গিয়ে গোলপোস্টে বল ঠেলে দিয়েছিল। এই দৃশ্যটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্বে। এটি সম্ভবত এই গ্রেট ফুটবলারের শেষ বিশ্বকাপ।
লুকা মদ্রিচ: ক্রোয়েশিয়া
তিন সন্তানের বাবা লুকা। তাঁর বয়স ৪০। পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলছেন এই চৌকস ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার। যুদ্ধশরণার্থী পরিবার থেকে বেড়ে উঠে ২০১৮ সালে ব্যালন ডি'অর জয়; মদ্রিচের জীবনের গল্পটাই রূপকথার মতো।


স্ত্রী ভানিয়া বোসনিচের সঙ্গে সুখের সংসারে লুকার তিন সন্তান ইভানো, এমা ও সোফিয়া। মাঠে যিনি দাপটে পুরো বল নিয়ন্ত্রণ করেন, বাড়িতে তিনি খুব শান্তিপ্রিয় ও কেয়ারিং এক বাবা। ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ক্যাপধারী এই মিডফিল্ডারের পঞ্চম বিশ্বকাপই সম্ভবত শেষ।
হ্যারি কেন : ইংল্যান্ড

বায়ার্ন মিউনিখে খেলা ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ঘরে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।

পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও মাঠের নেতৃত্ব এই দুটোই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অংশ। ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি এবারও।
কেভিন ডি ব্রুইনে: বেলজিয়াম

এটি তাঁর চতুর্থ বিশ্বকাপ। নেপলস-এ খেলা বেলজিয়ামের অধিনায়ক তিন সন্তানের বাবা। পরিবারকেন্দ্রিক নিপাট ভদ্রলোক বলে তাঁর সুনাম আছে।
ব্রুনো ফার্নান্দেজ: পর্তুগাল

দুই সন্তানের বাবা তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার আর তাঁর স্ত্রী আনা পিনহোর দুই সন্তান মাতিলদে ও গঞ্চালো।
বিশ্বকাপের ট্রফিটা সবচেয়ে বেশি আরাধ্য এই তারকা ফুটবলারদের জন্য। কিন্তু সন্তানের হাত ধরে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তটা হয়তো আরও মূল্যবান তাঁদের কাছে। মেসির ছেলেরা বাবার শেষ বিশ্বকাপ এমন বয়সে দেখছে যখন স্মৃতি গেঁথে যায়। রোনালদোর ছেলে নিজেও বাবার পথে হাঁটছে। সালাহর মেয়ে একদিন অ্যানফিল্ডের গোলে বল ঠেলে দিয়ে ইতিহাস হয়ে গেছে। তাই এই বিশ্বকাপ শুধু দেশের জন্য নয়, এই ফুটবলারদের পরিবারের জন্যও।
সূত্র: পিপল ডট কম
ছবি: ইন্সটাগ্রাম