
‘পেয়ার কা পঞ্চনামা’ ও ‘সোনু কে টিটু কি সুইটি’ খ্যাত এই অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন—শরীর ও মনের ভারসাম্যই প্রকৃত সৌন্দর্যের ভিত্তি।

লম্বা শুটিং আওয়ার, শারীরিক ক্লান্তি আর মানসিক চাপ—এই সবকিছুর মধ্যেও ইশিতা রাজ নিজেকে চাঙা রাখেন কাজের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে। তাঁর মতে, আপনি যদি সত্যিই আপনার কাজকে ভালোবাসেন, তাহলে সেটি আর কাজ মনে হয় না। সেটে থাকা, অভিনয় করা—সবই তাঁর কাছে স্বাভাবিক আনন্দের অংশ।

ইশিতার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বেশ পরিষ্কার ও ব্যালান্সড। প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার তাঁর শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। সঙ্গে থাকে প্রচুর পানি ও নারকেল পানি—ইলেকট্রোলাইটের জন্য। নির্দিষ্ট বিরতিতে অল্প অল্প করে খাওয়াই তাঁর পছন্দ।
শুটিংয়ের সময় মাঝে মাঝে ডার্ক চকলেট বা হালকা ডেজার্ট নিজেকে উপহার দেন তিনি—মন ভালো রাখার ছোট্ট এক উপায়।
কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট প্ল্যানের ধার ধারেন না ইশিতা। বরং বছরের পর বছর নিজের শরীরকে বুঝে তিনি যেন ‘বডি কোড’ ভেঙে ফেলেছেন। ওজন বাড়াতে হলে কার্বোহাইড্রেট বাড়ান, কমাতে হলে খাবারের সময় ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেন। রাতের খাবার বাদ দেওয়ায় তিনি বিশ্বাসী নন।
তাঁর মতে, মেয়েদের জন্য সপ্তাহে ৩-৪ দিন শরীরচর্চাই যথেষ্ট—যদি সেটি নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই হয়।

ইশিতার ফিটনেস রুটিনে আছে যোগব্যায়াম, স্ট্রেংথ ট্রেনিং, নাচ আর পিলাটেস। অনুলোম বিলোম ও কপালভাতির মতো শ্বাসব্যায়াম তাঁকে মানসিকভাবে স্থির রাখে। সপ্তাহে তিন দিন জিমে স্ট্রেংথ ট্রেনিং করেন, যাতে শরীরের মাংসপেশি ঠিক থাকে।
নাচ তাঁর কাছে শুধু ব্যায়াম নয়, মানসিক মুক্তিরও এক মাধ্যম। সম্প্রতি পিলাটেসও শুরু করেছেন, যা শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি ও মাংসপেশির নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
চাপ কমানোর জন্য ইশিতার সবচেয়ে বড় আশ্রয় তাঁর পরিবার। মা ও বোন—দুজনেই তাঁর মানসিক ভরসার জায়গা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলাই তাঁর কাছে ‘মাইন্ড ডিটক্স’।
ইশিতা মনে করেন, স্ট্রেস কখনো পুরোপুরি কমে না। কিন্তু সমস্যার চেয়ে সমাধানের দিকে তাকাতে শিখলে জীবন অনেক সহজ হয়।

স্কিনকেয়ারে ইশিতা ভরসা রাখেন ঘরোয়া উপকরণে। রাতের বেলায় মুখ পরিষ্কার করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক। ফেসওয়াশ, রেটিনল ক্রিম, আই ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজার—এই চার ধাপেই শেষ তাঁর নাইট রুটিন।
সকালে বরফ পানি দিয়ে মুখ ধোয়া রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি। মাঝে মাঝে হলুদ, আদা, টমেটো, অ্যালোভেরা, লেবু ও বাদাম তেলের ঘরোয়া ফেস প্যাকও ব্যবহার করেন।

ফ্যাশনে ইশিতার দর্শন একদম পরিষ্কার—যেটা আরামদায়ক এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, সেটাই স্টাইল। সাদা শার্ট আর নীল জিনসকে তিনি চিরকালের ক্ল্যাসিক মনে করেন।
সম্প্রতি তাঁর ঝোঁক গেছে ওভারসাইজড জিনস, টি-শার্ট ও ঢিলেঢালা পোশাকের দিকে। আগে যেখানে ফিটেড পোশাক পছন্দ করতেন, এখন সেখানে ‘অ্যান্টি-ফিট’ লুকই তাঁর বর্তমান মুড।

স্টাইল আইকন হিসেবে নির্দিষ্ট কাউকে অনুসরণ করেন না ইশিতা। তাঁর মতে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যে পোশাক বহন করতে পারে, সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা আসতে পারে—বন্ধু, পরিবার বা একেবারে অপরিচিত কাউকে দেখেও।
ইশিতা রাজের জীবনদর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সুস্থতা মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং নিজের শরীর ও মনের সঙ্গে সৎ থাকা। নিজের মতো করে ভারসাম্য খুঁজে নেওয়াই আসল বিলাস।