
‘লাস্ট স্টোরিজ থ্রি’ অভিনেত্রী রাধিকা মদনের মতে, কখনো কখনো দিশা হারানো, অনিশ্চয়তায় থাকা কিংবা আবেগের টানাপোড়েনে ভোগাও স্বাভাবিক। সব অনুভূতিকে বদলে ফেলার চেষ্টা না করে সেগুলোকে বুঝতে শেখাও নিজের যত্নের অংশ।

রাধিকা জানিয়েছেন, একটা সময় তাঁর মনে হতো, কোনো নেতিবাচক চিন্তা মাথায় এলেই তার বিপরীতে দশটি ইতিবাচক চিন্তা আনতে হবে। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, এতে যেসব ঘটনা তাঁকে কষ্ট দিচ্ছিল, সেগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ কমে যাচ্ছিল। নিজের দুঃখকে স্বীকার না করে ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে ঢেকে রাখছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে নিজের থেরাপিস্টের কাছ থেকে রাধিকা উপলব্ধি করেন, সব আবেগকে স্বীকার করা জরুরি। সেগুলোকে ভালো বা খারাপ বলে বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

মুম্বাইয়ের সেন্তিয়ে ওয়েলনেসের প্রতিষ্ঠাতা ও মনোবিজ্ঞানী ডা. রিম্পা সরকারের মতে, নিজের অনুভূতিকে বিচার না করে স্বীকার করা মানে হলো, ‘আমার মন খারাপ’ কিংবা ‘আমি রেগে আছি’এ কথা বলতে পারা, নিজেকে দোষ না দিয়ে।
কোনো আবেগ আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, কিন্তু সেই আবেগের বশে সঙ্গে সঙ্গে কিছু করতে হবে, এমন নয়। যেমন, রাগ অনুভব করা আর রাগের বশে কাউকে আঘাত করা এক বিষয় নয়।
মন খারাপ হলে তাই কিছুক্ষণ থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, ঠিক কী অনুভব করছি? দুঃখ, ভয়, হতাশা, নাকি একাকিত্ব? অনুভূতিটিকে চিহ্নিত করে কিছুটা সময় দেওয়া নিজের মানসিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। তবে এতে সব সমস্যার সমাধান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কর্মক্ষেত্র, সম্পর্ক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এমনভাবে থাকতে চান, যেন সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু ভেতরে কষ্ট থাকলেও বাইরে স্বাভাবিক থাকার চাপ নিজের অনুভূতিকে উপেক্ষা করার কারণ হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানী রিম্পা সরকারের মতে, আবেগের দিক থেকে এলোমেলো বোধ করার অনুমতি নিজেকে দিলে সব সময় ভালো থাকার অভিনয় করার চাপ কমতে পারে। ইতিবাচক চিন্তা অবশ্যই উপকারী হতে পারে, কিন্তু সেটিই একমাত্র গ্রহণযোগ্য অনুভূতি নয়। দুঃখ, রাগ ও হতাশাও মানুষের স্বাভাবিক আবেগ।
এসব অনুভূতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে কিংবা সামলানো কঠিন হয়ে উঠলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।

সম্পর্কে আঘাত পেলে অনেক সময় দ্রুত ক্ষমা করে দিতে বলা হয়। কিন্তু অন্যের আচরণের কারণ বোঝা মানেই সেটিকে সমর্থন করা নয়। রিম্পা সরকারের মতে, কষ্টের অনুভূতিকে যথেষ্টভাবে বুঝে নেওয়ার পর কখনো কখনো ক্ষমা করা সহজ হতে পারে।
তবে ক্ষমা করা বাধ্যতামূলক নয়। নিজের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সীমারেখা ও মানসিক স্বস্তিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সব সময় শক্ত থাকতে হবে কিংবা প্রতিটি কষ্ট থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে, নিজের ওপর এমন প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া প্রয়োজন নেই। রাধিকা মদনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, মন খারাপকে অস্বীকার না করে বোঝার চেষ্টা করাও নিজের যত্নের অংশ।
নিজেকে ভালো রাখার অর্থ সব সময় ভালো থাকা নয়। বরং কঠিন অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করা, নিজের প্রতি সদয় থাকা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য চাওয়ার সাহস রাখাই মানসিক সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।