
দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী কল্যাণী প্রিয়দর্শনের জন্য এবারের কান ছিল বিশেষ। প্রথমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে হাজির হয়েই তিনি নজর কাড়েন নিজের অনন্য স্টাইল দিয়ে।

তার পরনে ছিল সিকুইন-এম্বেলিশড ডুয়াল-টোন গাউন। কালো আর বেগুনি রঙের মিশেলে তৈরি এই স্ট্রাকচার্ড পোশাকটি ছিল একসঙ্গে গ্ল্যামারাস ও এলিগ্যান্ট। তবে পুরো লুকের আসল আকর্ষণ ছিল তার গয়না।
সাধারণ নেকলেসের মতো সামনে নয়, বরং পিঠজুড়ে ঝুলছিল তার ডায়মন্ড ল্যারিয়েট। কল্যান জুয়েলারির তৈরি এই কাস্টম জুয়েলারিতে ছিল ব্লু স্যাফায়ার, পিংক মরগানাইট আর শত শত হীরের কাজ। আলো পড়তেই গয়নাটি যেন আলাদা এক ঝলক তৈরি করছিল।

কল্যাণী চুল রেখেছিলেন সাইড-সুইপ ওয়েভে, যাতে পিঠের গয়নাটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সঙ্গে ছিল সফট গ্ল্যাম মেকআপ, পিংক লিপস্টিক আর মিনিমাল ডায়মন্ড অ্যাকসেসরিজ। পুরো লুকটিতে ছিল আধুনিক রাজকীয়তার ছোঁয়া।
অন্যদিকে অভিনেত্রী দিশা মাদান এবছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির হয়েছেন একেবারেই ভিন্ন এক গল্প নিয়ে। তার পোশাকের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো, এটি তৈরি হয়েছে ৮০ বছরের পুরোনো দুটি সিল্ক শাড়ি দিয়ে।
বেঙ্গালুরুভিত্তিক ডিজাইনার লেবেল নিহারিকা বিবেক এই কাস্টম কতুর গাউনটি তৈরি করেছে দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যকে সামনে রেখে। পুরোনো শাড়ির জরির বর্ডার, হাতের বুনন আর রঙিন নকশাকে নতুনভাবে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে মারমেইড-স্টাইল এই পোশাক।
গাউনের স্ট্রাকচার্ড করসেট, ডিপ নেকলাইন আর নাটকীয় সিলুয়েটের সঙ্গে ছিল দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা। আরও বিশেষ বিষয় হলো, এই পোশাক তৈরিতে ২,৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন নারী কারুশিল্পীরা।
দিশার লম্বা বেণিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী চোটি জুয়েলারি। সোনালি অলংকার, লাল-সবুজ পাথরের কাজ আর স্টেটমেন্ট গয়নায় পুরো লুকটি হয়ে উঠেছিল রাজকীয় অথচ ঐতিহ্যের কাছাকাছি।

এবারের কানে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ভিড়েও আলাদা করে নজর কাড়ছে ভারতীয় কারুশিল্প ও টেক্সটাইল। কল্যাণীর ঝলমলে ব্যাক-জুয়েল আর দিশার পুরোনো শাড়ির কতুর, দুটিই মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাশন শুধু পোশাক নয়, এটি গল্পও বলে।
আর সেই গল্পে এবার সবচেয়ে সুন্দরভাবে উঠে এসেছে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্য, কারুশিল্প আর টেকসই ফ্যাশনের শক্তিশালী উপস্থিতি।