সুহানা খান, খুশি কাপুর আর অগস্ত্য নন্দা বলিউড অভিষেকের আগেই ভোগ প্রচ্ছদে

আগামী ৭ ডিসেম্বর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেতে চলেছে এ বছরের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য আর্চিস’। চল্লিশের দশকে প্রকাশিত বিখ্যাত আর্চিস কমিকসের জনপ্রিয় চরিত্রদের নতুন করে পর্দায় নিয়ে আসছেন বলিউডের মেধাবী পরিচালক জোয়া আখতার। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে অভিষেক হতে চলেছে বলিউডের বিখ্যাত তারকা-সন্তানসহ একঝাঁক তরুণ অভিনয়শিল্পীর। তাঁদের নিয়ে সাজানো হচ্ছে ভোগ ইন্ডিয়ার নতুন সংখ্যা। ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ইস্যুর প্রচ্ছদে শোভা পাবে টিম আর্চিসের ছবি।

‘দ্য আর্চিস’-এর ভারতীয় সংস্করণে অভিনয় করছেন শাহরুখ-কন্যা সুহানা খান, শ্রীদেবি-কন্যা খুশি কাপুর, অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দা, মিহির আহুজা, ভেদাং রায়না, যুবরাজ মেন্দা ও ডট। জোয়া আখতার যখন এ সিনেমা বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন, তখন থেকে এ নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ কাস্টিং বা চরিত্র নির্বাচন। তিনটি প্রধান চরিত্র ভেরোনিকা লজ, বেটি কুপার ও আর্চি হিসেবে অভিনয় করছেন সুহানা খান, খুশি কাপুর ও অগস্ত্য নন্দা; যারা কিনা বলিউডের বিখ্যাত তারকা-সন্তান।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে। বেশির ভাগ মানুষ মনে করছেন, কেবল তারকাদের সন্তান বা নাতি বলেই সিনেমায় নেওয়া হয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে এর টিজার যখন বের হয়, তখন অভিনয়শিল্পীদের গায়ের রং ও সাজপোশাক নিয়েও কথা উঠেছে। তাঁদের নাকি সেখানে খুব একটা ভারতীয় বলে মনে হচ্ছে না। এত কিছুর পরও ‘দ্য আর্চিস’ সিনেমা দেখার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ধারাবাহিকতায় সিনেমা মুক্তির আগে ভোগ ইন্ডিয়া সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিল টিম আর্চিসের সঙ্গে। ইতিমধ্যে ম্যাগাজিনের ডিজিটাল সংস্করণে তাঁদের নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে মজার একটি প্রচ্ছদকাহিনি। এ সিনেমার পটভূমি ১৯৬৪ সালের রিভারডেল নামের ভারতের একটি কাল্পনিক পাহাড়ি স্টেশন। জোয়া আখতার নিজের এ সিনেমা সম্পর্কে বলেন, ‘ষাটের দশক ছিল রক এন রোলের যুগ। এটি এমন একটি সময় ছিল যখন শিশু আর কিশোর-কিশোরীরা বিশ্বাস করেছিল যে তারা বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে। এরপর থেকে আর কোনো দশকে এ ধরনের সমষ্টিগত উদ্দীপনা দেখা যায়নি। “দ্য আর্চিস”-এর মধ্য দিয়ে সে সময়ের এই উদ্যমী তারুণ্যের চেতনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

ভোগ ইন্ডিয়ার প্রচ্ছদ ও কভার স্টোরিতে টিম আর্চিসের ষাটের দশক প্রাণিত ফ্যাশনেবল লুক বেশ নজর কেড়েছে সবার। কভার স্টোরির ফটোশুটের সময়ও তাঁদের ওই সময়ের ধারা মেনে স্টাইলিং করা হয়েছে। এ প্রচ্ছদে সবাইকে ষাটের দশকের বিখ্যাত ট্রেন্ডের সমন্বয়ে তৈরি পোশাকে দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে আছে মিনি স্কার্ট, কিউবান কলার শার্ট, ফরমাল ওয়াইড প্যান্ট, স্টকিং, নিটেড আউটফিট। অন্য আরেকটি ছবিতে তাঁদের দেখা গিয়েছে নানা ডিজাইনের ডেনিম পোশাকে। উল্লেখ্য, ষাটের দশকে তরুণদের মধ্যে ডেনিমের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।  

বিজ্ঞাপন

আর্চিস কমিকসে একেক চরিত্রের সাজপোশাক একেক রকম। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাঁদের জন্য পোশাক নির্বাচন করা হয়েছে যেমন আর্চি অ্যান্ড্রুজের কথা ধরুন। রিভারডেলের ‘হার্টথ্রব’ এই চরিত্রে দেখা যাবে অগস্ত্য নন্দাকে। লালচুলো আর্চির সিগনেচার আউটফিট হলো টি-শার্ট, জিনস ও ভার্সিটি জ্যাকেট। এখানে অগস্ত্য নন্দকে এই পোশাকগুলোতে ক্যামেরাবন্দী করা হয়।

পাশের বাড়ির মিষ্টি মেয়ে বেটি কুপার চরিত্রটিতে অভিনয় করছেন খুশি কাপুর। এখানে তাঁকে সাজানো হয়েছে সুন্দর মনোক্রোম হাঁটু দৈর্ঘ্যের ড্রেসে। সঙ্গে ছিল সাদা মোজা ও কালো পাম্প শু। অন্যদিকে হাসিখুশি প্রাণচঞ্চল ভেরোনিকা লজ চরিত্রে আছেন সুহানা খান। ফটোশুটের সময় তিনি পরেছিলেন লাল ছোট ড্রেস, গোলাপি স্টকিংস ও ওয়েজ ধরনের হিল। আর্চিস কমিকসের সবচেয়ে স্টাইলিশ চরিত্র রেজি ম্যান্টল রূপে দেখা যাবে ভেদাং রায়নাকে। তিনি পরেছিলেন টি–শার্ট, ঢোলা জ্যাকেট, ঢোলা প্যান্ট ও শু।

ভোগ ইন্ডিয়ার এই কভার স্টোরি ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে। সিনেমা থেকে পোশাক-আশাকের নতুন ট্রেন্ড শুরু হওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। তাই তো ফ্যাশন সমালোচকেরা মনে করছেন, ‘দ্য আর্চিস’ সিনেমা সফল হোক আর না হোক, এখান থেকে অন্তত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ষাটের দশকের কিছু জনপ্রিয় ট্রেন্ড ও স্টাইল আবার ফিরে আসবে।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯: ২২
বিজ্ঞাপন