রাজকীয়তার পুনর্জন্ম: অনন্যা পান্ডের ফ্যাশনে মহারানি গায়ত্রী দেবীর অনুপ্রেরণা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মহারানির অনুপ্রেরণায় অনন্যা

অনন্যা পান্ডের সাম্প্রতিক ফটোশুট যেন এক ফ্যাশন টাইম মেশিন। তিনি এই লুকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জয়পুরের প্রয়াত মহারানি গায়ত্রী দেবীকে—যিনি ভারতের ফ্যাশন ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। এই বিশেষ ফটোশুটে অনন্যা পরেছেন ভারতীয় ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার তৈরি সাদা লেসের কাটওয়ার্ক শাড়ি।  তবে অনন্যার লুকের আসল ম্যাজিক লুকিয়ে ছিল তাঁর পরা ১৯৪৮ সালের ফরাসি ডিজাইনার জাক ফাথ–এর তৈরি বিরল করসেটে।

এই করসেটের স্থাপত্যশৈলী-নির্ভর নিখুঁত কাট ও গঠন যেন সরাসরি নিয়ে গেছে বিশ শতকের মাঝামাঝিতে ইউরোপের  ফ্যাশনে। দুই সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন আগে খুব কমই দেখা গেছে। পুরোনো দিনের সৌন্দর্য, রাজকীয় আভিজাত্য আর আধুনিক ফ্যাশনের মেলবন্ধন—এমন এক অনন্য সংমিশ্রণই প্রকাশ পেয়েছে ফ্যাশনিস্তা অনন্যার লুকে। এই কালজয়ী ফ্যাশন মুহূর্তে  ইতিহাস আর  সমকালীন স্টাইল মিশেছে এক সুতোয়।

এই লুকের মধ্য দিয়ে অনন্যা যেন পুনর্নির্মাণ করেছেন গায়ত্রী দেবীর শৈল্পিক স্টাইলকে। করসেটের নিখুঁত গঠন ও লেস শাড়ির সূক্ষ্ম কারুকাজে মিশে গেছে ভারতীয় নারীত্ব ও পাশ্চাত্য ফ্যাশনের নিখুঁত সংলাপ।

লুকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

অনন্যার লুকটি যেহেতু মহারানির অনুপ্রেরণায়, তাই তাঁর সাজেও প্রকাশ পেয়েছে সেই ছোঁয়া। গায়ত্রী দেবীর ফ্যাশন মানেই ছিল সাদামাটা অথচ রাজকীয় ভাব। অনন্যা সেই ঐতিহ্যকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছেন।

ব্লো-ড্রাই করা ঢেউ খেলানো চুল, হালকা মেকআপ আর পান্না, মুক্তা ও হীরার গয়নায় সেজেছেন তিনি। গায়ত্রী দেবী ছিলেন এমন এক নারী, যিনি স্টাইলকে কখনো বাহ্যিক প্রদর্শন হিসেবে দেখেননি—বরং তা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। অনন্যা পান্ডে সেই দর্শনকেই পুনরুজ্জীবিত করেছেন আধুনিক ছোঁয়ায়।

বিজ্ঞাপন

নিজের এই ফটোশুটের ছবি শেয়ার করে অনন্যা লিখেছেন—
‘মহারানি গায়ত্রী দেবী সব সময়ই অনুপ্রেরণার উৎস…১৯৪৮ সালের ভিনটেজ জাক ফাথ কোরসেট এবং মনীশ মালহোত্রার লেস শাড়ি…একেবারেই স্বপ্নের মতো!’

গায়ত্রী দেবী ছিলেন ভারতীয় নারীর রুচিবোধের নতুন সংজ্ঞা। হালকা প্যাস্টেল শিফন শাড়ি, মুক্তার গয়না আর এক অনিন্দ্য মাধুর্যে গড়া ব্যক্তিত্ব—এই ছিল তাঁর স্বাক্ষর। তাঁর মা কুচবিহারের মহারানি ইন্দিরা দেবী ফ্রান্সের লিয়ন শহর থেকে শিফন কাপড় ভারতে  নিয়ে আসেন, আর সেই শিফনেই জন্ম নেয় ভারতীয় নারীর নতুন রূপকথা। আজও সেই ধ্রুপদি রুচি অনুপ্রেরণা দেয় ডিজাইনারদের। সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু সত্যিকারের স্টাইল চিরন্তন হয়ে থাকে। অনন্যার এই আধুনিক ভিনটেজ লুক যেন প্রমাণ করে দেয়, ফ্যাশনের কিছু নিয়ম কখনোই পুরোনো হয় না—বরং তারা সময়ের সঙ্গে আরও দীপ্ত হয়ে ওঠে।

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১১: ৪৪
বিজ্ঞাপন