সাদা লেস থেকে মেটাল ‘শি-উলফ’: শাকিরার নতুন লুকে মুগ্ধ নেটদুনিয়া
শেয়ার করুন
ফলো করুন

শাকিরাকে ঘিরে যেন থামছেই না নতুন চমক। কখনো গানের মঞ্চে, কখনো রেড কার্পেটে, আবার কখনো কতুর লুকে। প্রতিবারই নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরছেন কলম্বিয়ান এই পপ তারকা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর আলোচনায় যোগ হয়েছে আরও দুটি বিষয়। মালুমার সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর পর নতুন গান এবং মাদ্রিদে শুরু হওয়া তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ইউরোপীয় রেসিডেন্সি।

মালুমার সঙ্গে একটি ছবিতে শাকিরার যে লুকটি নজর কাড়ছে, সেটির মূল আকর্ষণ সাদা রঙের লেসের ফিগার-হাগিং পোশাক। স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের এই পোশাকটি কোরসেটস্টাইলের স্ট্রাকচার, ফ্লোরাল লেস, বেশ কিছু কাট-আউট এবং লেস-হেমের ডিটেইল।

পোশাকটির স্বচ্ছতা ও কারুকাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ন্যুড টোনের প্ল্যাটফর্ম হিল। লম্বা ওয়েভি চুল, মিনিমাল গয়না এবং গ্ল্যাম মেকআপ লুকটিকে দিয়েছে আরও আবেদনময় স্টেজ-গ্ল্যামার। পিছনের বাঘের ডোরা কাটা পর্দা এবং চকচকে মেঝে পুরো ছবিতে তৈরি করেছে রেট্রো আবহ।

বিজ্ঞাপন

তবে সাম্প্রতিক শাকিরার ফ্যাশন গল্প শুধু এমন গ্ল্যামারাস লুকেই আটকে নেই। মাদ্রিদে ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো ইয়োরান’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ইউরোপীয় রেসিডেন্সিতে তিনি আবারও ভারতীয় কতুরকে নিয়ে এসেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ডিজাইনার গৌরব গুপ্তার তৈরি কাস্টম পোশাকে দেখা গেছে একটি ভাস্কর্যধর্মী ব্রাস ‘শি-উলফ’ ব্রেস্টপ্লেট। এর সঙ্গে ছিল ভারতের বেনারস থেকে হাতে বোনা সিল্ক ব্রোকেড স্কার্ট। পুরো লুকটি তৈরি করতে ৫০০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে এবং কাজ করেছেন ১০ জনের বেশি কারিগর।

শি-উলফ বা নারী নেকড়ের মোটিফ শাকিরার ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। গৌরব গুপ্তার এই পোশাকে সেই প্রতীককে একেবারে বর্মের মতো করে তুলে ধরা হয়েছে। শক্ত ধাতব ব্রেস্টপ্লেটের বিপরীতে বেনারসি সিল্কের স্কার্ট। দুটি ভিন্ন টেক্সচারের এই মিশ্রণই লুকটিকে করে তুলেছে অনন্য। এর আগে ২০২৫ সালে একই ট্যুরে গুপ্তার তৈরি নীল ‘লুনার উলফ’ গাউনেও শাকিরাকে দেখা গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

মঞ্চের বাইরে সংগীতেও চলছে শাকিরার নতুন অধ্যায়। আট বছর পর আবারও মালুমার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি। নতুন গান ‘আগুয়া’তে দুজনেই নিয়েছেন মেরেঙ্গে-প্রভাবিত ছন্দ। ২০১৬ সালের ‘চানতাহে’, এরপর ‘ট্র্যাপ’ ও ‘ক্লানদেস্তিনো’র পর নতুন এই কাজ পুরোনো রসায়নকে আবার সামনে এনেছে। গানে জল ও আগুনের রূপকের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে আকর্ষণ, টান ও দুজনের পারফরম্যান্সের রসায়ন।

এই মুহূর্তে শাকিরার সবচেয়ে বড় ব্যস্ততা অবশ্য মাদ্রিদ। ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো ইয়োরান’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ইউরোপীয় রেসিডেন্সি, যা চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। মাদ্রিদের বিশেষভাবে নির্মিত ‘শাকিরা স্টেডিয়ামে’ মোট ১২টি শো নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিটি শোতে ৫০ হাজারের বেশি দর্শক ধারণের সক্ষমতা রয়েছে এই অস্থায়ী ভেন্যুটির।

মাদ্রিদের এই পর্ব শাকিরার জন্য আরও বিশেষ, কারণ ‘এল দোরাদো’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের আট বছর পর আবার স্পেনে ফিরেছেন তিনি। কনসার্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘মাকোন্দো পার্ক’ নামের একটি অস্থায়ী সাংস্কৃতিক জগতও, যেখানে সংগীতের পাশাপাশি প্রদর্শনী, ওয়ার্কশপ, সিনেমা, খাবার ও সাহিত্য নিয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে তাঁর এই বিশ্ব সফর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিলবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ আয়কারী হিসপ্যানিক ট্যুরের রেকর্ড গড়েছে। তখন পর্যন্ত ৮৬টি শো থেকে আয় ছিল ৪২১.৬ মিলিয়ন ডলার এবং বিক্রি হয়েছিল ৩৩ লাখের বেশি টিকিট।

গান, মঞ্চ ও ফ্যাশন তিন ক্ষেত্রেই শাকিরার সাম্প্রতিক উপস্থিতিতে তাই একটি বিষয় স্পষ্ট: পরিচিত শৈলীকে ধরে রেখেও তিনি বারবার সেটিকে নতুন চেহারা দিচ্ছেন। সাদা লেসের গ্ল্যামারাস লুক থেকে গৌরব গুপ্তর মেটাল ‘শি-উলফ’ কতুর, আবার মালুমার সঙ্গে মেরেঙ্গে, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর শাকিরা যেন নিজের পুরোনো জস ও নতুন উদ্ভাবনকে একই গল্পে জুড়ে দিচ্ছেন।

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৩৯
বিজ্ঞাপন