
বহু বছর ধরেই ‘দ্য ব্রাইড সাইড’ গৌরব গুপ্তার বিশেষ একটি উদ্যোগ। এখানে র্যাম্পের বাইরেও সিনেম্যাটিক উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয় আধুনিক কনের নানা রূপ, আবেগ ও ব্যক্তিত্ব। এবার সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কৃতি স্যানন, যিনি তিনটি ভিন্ন বধূরূপে হাজির হয়ে তুলে ধরেছেন আধুনিক কনের আত্মবিশ্বাস, সৌন্দর্য ও স্বাতন্ত্র্য।

এই ভিজ্যুয়াল সিরিজের প্রথম অধ্যায়ে দেখা যায় অ্যাস্টেরিয়া গাউন। মিডনাইট ব্লু রঙের এই গাউনে রয়েছে ভাস্কর্যের মতো গঠনের করসেট, ঝলমলে সূচিশিল্প এবং কারুকাজ করা ওড়না। পুরো সাজে যেন আকাশের তারাভরা রাতের রহস্যময় সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। প্রচলিত বধূসাজের বাইরে গিয়ে এটি আধুনিক কনের জন্য এক সাহসী ও অভিজাত উপস্থাপনা।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে আসে ‘প্রভা লেহেঙ্গা’। ধূসর-বাদামি আভাযুক্ত এই লেহেঙ্গায় সূক্ষ্ম জরি ও জারদৌজি কারুকাজের সঙ্গে রয়েছে রূপালি রঙের বিভিন্ন শেডের ব্যবহার। লম্বা ট্রেইল এবং ম্যাক্রামে কারুকাজ করা কেপ পুরো লুককে দিয়েছে রাজকীয় আবেদন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ভারসাম্য এখানে স্পষ্ট।

শেষ অধ্যায়ে কৃতি ধরা দেন ‘সাইরেন ব্লুম লেহেঙ্গায়’। আইভোরি হোয়াইট এই লেহেঙ্গার সঙ্গে রয়েছে ত্রিমাত্রিক ফুলের নকশা, মুক্তা, কৃস্টালের অলংকরণ এবং স্কাল্পচারড ব্রোকেড কেপ। রোমান্টিক আবহের সঙ্গে স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া মিলিয়ে এটি তৈরি করেছে এক স্বপ্নিল বধূরূপ।
গৌরব গুপ্তার মতে, বধূর পোশাক কখনোই শুধু নকশা বা কারুকাজের বিষয় নয়; প্রতিটি নারীর ব্যক্তিগত গল্পই সেই পোশাককে জীবন্ত করে তোলে। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি সৃষ্টির ভিত্তি নিখুঁত কারুশিল্প হলেও, সেটিকে পূর্ণতা দেন যিনি পরেন। কৃতি স্যাননের আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য এই সংগ্রহের প্রতিটি পোশাকে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে।
এই সিরিজের সাজ পরিকল্পনা করেছেন সুকৃতি গ্রোভার। পুরো উপস্থাপনায় এমন এক কনেকে দেখা যায়, যিনি ঐতিহ্যকে সম্মান করেন, আবার নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশেও সমান সাহসী। তাই ভারী অলংকার বা প্রচলিত লাল রঙের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের কনে এখন খুঁজছেন নিজের মতো করে সাজের ভাষা।
গত কয়েক বছরে ‘দ্য ব্রাইড সাইড’ গৌরব গুপ্তার অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যাশন প্রজেক্টে পরিণত হয়েছে। এর আগের সংস্করণগুলোতে দেখা গেছে দিশা পাটানি, তামান্না ভাটিয়া, তৃপ্তি ডিমরি, বনিতা সান্ধু এবং অদিতি রাও হায়দারিকে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন কৃতি স্যানন।
এই নতুন অধ্যায় আবারও প্রমাণ করল, গৌরব গুপ্তার কাছে বধূর পোশাক মানে শুধু বিলাসী কতুর নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, আবেগ, ব্যক্তিত্ব এবং নতুন জীবনের শুরু উদ্যাপনের এক শিল্পসম্মত ভাষা।