
লালগালিচায় পা রাখলেই মুহূর্তে লাইমলাইট নিজের করে নেন হলিউডের অন্যতম ফ্যাশনেবল অভিনেত্রী জেন্ডায়া। কোন নকশার পোশাক বেছে নেবেন, চুল ও মেকআপ কেমন হবে—তাঁর প্রতিটি উপস্থিতি ঘিরেই ফ্যাশনিস্তাদের থাকে আলাদা কৌতূহল। সিনেমার প্রচারণায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটতে হলেও প্রিমিয়ার, প্রেস ট্যুর কিংবা ফটোকল—কোথাও ফ্যাশনে ছন্দপতন হয় না। বরং প্রতিবারই নতুন কোনো চমক নিয়ে হাজির হন এই হলিউড তারকা।

আজ ৩০ বছরে পা দিলেন জেন্ডায়া। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন দুনিয়াতেও নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। তাঁকে কেবল ‘লালগালিচার রানি’ বললে হয়তো পুরো গল্পটা বলা হবে না। কারণ, জেন্ডায়ার স্টাইল শুধু দৃষ্টিনন্দন পোশাক বেছে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর লুকে আলাদাভাবে নজর কাড়ে সিনেমার গল্প, চরিত্র ও থিম। ফ্যাশনের ভাষায় এই বিশেষ কৌশল পরিচিত ‘মেথড ড্রেসিং’ নামে।

আমরা ‘মেথড অ্যাক্টর’ শব্দটির সঙ্গে এখন বেশ পরিচিত। কোনো চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে একজন অভিনেতা যখন সেই চরিত্রের মানসিকতা, জীবনযাপন ও আচরণের গভীরে প্রবেশ করেন, তখন তাঁকে মেথড অ্যাক্টর বলা হয়। ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও ‘মেথড ড্রেসিং’ অনেকটা তেমনই।

কোনো সিনেমার প্রচারণা, প্রিমিয়ার কিংবা ফটোকলে সেই সিনেমার গল্প, চরিত্র বা আবহ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পোশাক ও সাজসজ্জা বেছে নেওয়াই মেথড ড্রেসিং।

হলিউডে এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেন্ডায়া অবশ্য এই কৌশলকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। তাঁর ক্ষেত্রে শুধু পোশাকই নয়, স্টাইলিং, চুল, মেকআপ, জুতা ও গয়নাও সাজানো হয় সিনেমার থিমের সঙ্গে মিলিয়ে। ফলে তাঁর উপস্থিতি হয়ে ওঠে সিনেমার গল্পেরই যেন একটি বাড়তি দৃশ্য। এই ধারাকে জনপ্রিয় ও আলোচিত করে তোলার ক্ষেত্রে জেন্ডায়ার অবদানও বেশ উল্লেখযোগ্য।

তাঁর দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট ল রোচের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি রেড কার্পেট ফ্যাশনকে গল্প বলার এক নতুন মাধ্যমে পরিণত করেছেন। ‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘ডিউন’, ‘চ্যালেঞ্জার্স’ থেকে ‘দ্য অডিসি’—বিভিন্ন সিনেমার প্রচারণায় তাঁর লুকে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা।

জেন্ডায়ার হাত ধরে মেথড ড্রেসিং পেয়েছে নতুন মাত্রা। তাঁর দেখাদেখি হলিউডের অনেক তারকাই এখন সিনেমার প্রচারণায় চরিত্র কিংবা গল্পের থিম থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পোশাক বেছে নিচ্ছেন। ফলে তারকাদের প্রচারণায় এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম আলোচিত ফ্যাশন কৌশল।


তবে জেন্ডায়ার প্রভাব শুধু রেড কার্পেটেই সীমাবদ্ধ নয়। অফ-ডিউটি লুকেও তাঁর পোশাক, জুতা ও অনুষঙ্গ নিয়ে থাকে সমান আগ্রহ। নতুন প্রজন্মের ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছেও তাঁর স্টাইল হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উৎস। রেড কার্পেটে যেমন তাঁর প্রতিটি লুক নিয়ে আলোচনা হয়, তেমনি দৈনন্দিন স্টাইলেও জেন্ডায়ার পোশাক হয়ে ওঠে ট্রেন্ড।


জেন্ডায়ার এই ফ্যাশনযাত্রা অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু ডিজনির পর্দায়। সেই সময়ের কিশোরী অভিনেত্রী ধীরে ধীরে নিজেকে বদলেছেন, তৈরি করেছেন নিজের অভিনয়ভাষা, আর একই সঙ্গে খুঁজে নিয়েছেন নিজস্ব স্টাইল। সময়ের সঙ্গে তাঁর পোশাকেও এসেছে সাহসী ভাব, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিণত রুচির ছাপ।


৩০ বছরে পা দিয়ে জেন্ডায়া তাই শুধু সফল অভিনেত্রী নন, তিনি এমন এক ফ্যাশন আইকনও, যিনি সময়ের সঙ্গে নিজের স্টাইল বদলেছেন, আবার সেই বদলের মধ্যেই তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম