
কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে প্রত্যাশার চাপটা একটু বেশিই এই বিশ্বকাপে। শিরোপা জেতার দৌড়ে এগিয়ে আছে ফ্রান্স। আজকের ম্যাচেও গোল দিয়ে কিলার মুডে আছেন কিলিয়ান। তবে ফ্রেঞ্চ টিমের কান্ডারী এখন এক ভাইরাল মিমের কেন্দ্রবিন্দু। আর তা হলো ‘কিলিয়ান এমবাপ্পে ডিক্টেটর মিম’। এর সূচনা হয় ২০২২ সালের মে মাসে।

সে সময় এমবাপ্পে বহুল আলোচিত রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে পিএসজির সঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম বড় ও রেকর্ডমূল্যের চুক্তি নবায়ন করেন। চুক্তির ঘোষণা আসার পর ইউরোপের বিভিন্ন ক্রীড়া গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, এমবাপ্পেকে দলে রাখতে পিএসজি তাকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা দিয়েছে। গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি কোচ নিয়োগে ভেটো দিতে পারবেন, ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক নির্বাচনেও মত দেবেন, এমনকি কোন খেলোয়াড়কে কেনা বা বিক্রি করা হবে তাও নির্ধারণ করতে পারবেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তৈরি করেন ‘জেনারেল এমবাপ্পে’ বা ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ চরিত্র। ভক্তরা তাকে শুধু একজন তারকা ফুটবলার নয়, বরং পুরো পিএসজির সর্বময় শাসক হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার মজার কাল্পনিক গল্প ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় এমবাপ্পে বল না দেওয়ায় সতীর্থদের দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।

ডিজিটাল শিল্পীরা আবার ইউরোপের সম্রাট, সেনাপতি ও রাজাদের ঐতিহাসিক ছবিতে এমবাপ্পের মুখ বসিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছবি তৈরি করেন। ২০২২ সালে পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে নেইমারের সঙ্গে তাঁর মাঠের বিতর্কও এই মিমকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। অনেকেই সেটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন একজন স্বৈরশাসক নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিচ্ছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের সময় এই মিম নতুন মাত্রা পায়। ইন্সটাগ্রাম, টিকটক ও এক্সে এআই ব্যবহার করে অসংখ্য বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি হয়। এসব ভিডিওতে এমবাপ্পেকে ফুটবল-থিমে সাজানো কাল্পনিক সামরিক পোশাকে দেখা যায়।

এআই-নির্ভর কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে এমনভাবে ভিডিও বানানো হয়, যেন ফরাসি ফুটবল কর্মকর্তারা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। আবার কোথাও দেখা যায়, এআই-নির্মিত সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে নির্ধারণ করছেন কোন বিশ্বতারকা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ‘নিষিদ্ধ’ হবেন।
এই ব্যঙ্গধর্মী মিমের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে আধুনিক ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণকে নিয়ে রসিকতা। সমর্থকেরা এই ‘ডিক্টেটর’ চরিত্রের মাধ্যমে বোঝাতে চান, বর্তমান সময়ের শীর্ষ ফুটবলাররা কতটা আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

একসময় যেখানে ক্লাব পরিচালনার সব সিদ্ধান্ত নিতেন সভাপতি ও কোচ, সেখানে এখন একজন বিশ্বখ্যাত তারকার প্রভাব একটি বহুমূল্যের ক্লাবের সিদ্ধান্তেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে—এই ধারণাকেই অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হয় মিমে। মাত্র বিশের কোঠার একজন ফুটবলার যেন পুরো ফুটবল দুনিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন—এই অতিরঞ্জিত কল্পনাই মিমটিকে বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয় করেছে।
সবশেষে, এমবাপ্পে নিজে এই মিম আর স্যাটায়ার বেশ শান্ত ও পেশাদারভাবেই সামলেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি কখনও কখনও গণমাধ্যমে প্রচারিত অতিরঞ্জিত দাবির প্রতিবাদ করলেও, ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ এখন স্থায়ী একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছে।

এটি দেখিয়ে দেয়, আধুনিক ক্রীড়া সংস্কৃতিতে সমর্থকেরা কীভাবে ডার্ক হিউমার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ব্যবহার করে ফুটবল বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া ক্ষমতার ভারসাম্যকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে আনতে পারেন।
সূত্র: অ্যাথলন স্পোর্টস
ছবি: এক্স ও ইন্সটাগ্রাম