ফুটবল নয়, ম্যারাডোনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি আদরের কন্যা দালমার দেওয়া ডেইজি ফুলকে ঘিরে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ফুটবল ইতিহাসে কিছু নাম কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। দিয়েগো ম্যারাডোনা সেই বিরল নামগুলোর একটি। কেউ তাকে মনে রাখে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’-এর জন্য, কেউ শতাব্দীর সেরা গোলের জন্য, কেউ বা মাঠে তার জাদুকরি বল নিয়ন্ত্রণের জন্য। কিন্তু ম্যারাডোনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি গোল, ট্রফি বা রেকর্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।

এই মহাতারকার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি আদরের কন্যার দেওয়া ডেইজি ফুলকে ঘিরে
এই মহাতারকার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি আদরের কন্যার দেওয়া ডেইজি ফুলকে ঘিরে
দালমা বাবার লম্বা মোজার মধ্যে ফুলগুলো গুঁজে দিতে শুরু করে
দালমা বাবার লম্বা মোজার মধ্যে ফুলগুলো গুঁজে দিতে শুরু করে

১৯৮৯ সালে ইতালিয়ান ক্লাব এসএসসি নেপোলিতে খেলার সময় অনুশীলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ম্যারাডোনা। সেই সময় ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা দৌড়ে এসে বাবার কাছে দাঁড়ায়। হাতে ছোট ছোট ডেইজি ফুল। শিশুসুলভ সরল বিশ্বাসে সে বাবার লম্বা মোজার মধ্যে ফুলগুলো গুঁজে দিতে শুরু করে। হয়তো তার মনে হয়েছিল, ফুল পরলে তার বাবা আরও সুন্দর দেখাবে।

বিজ্ঞাপন

অন্য কেউ হয়তো ছেলেমানুষী ভেবে গুরুত্ব দিতেন না। কিন্তু আবেগী ম্যারাডোনার কাছে মেয়ের ভালোবাসাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। তিনি ফুলগুলো খুলে ফেলেননি। ছোট্ট মেয়ের নিজে হাতে গুঁজে দেওয়া সেই ডেইজি ফুল নিয়েই তিনি পুরো অনুশীলন করেছেন। দৌড়েছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন, বল কন্ট্রোল করেছেন সবকিছু করেছেন সবার সামনে, মোজার ভেতরে ফুল রেখেই।অন্যদের কাছে সেটি হয়তো ছিল সামান্য একটি মুহূর্ত। কিন্তু একজন বাবার কাছে সেটি ছিল ভালোবাসার সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।

কিন্তু আবেগী ম্যারাডোনার কাছে মেয়ের ভালোবাসাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো
কিন্তু আবেগী ম্যারাডোনার কাছে মেয়ের ভালোবাসাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো
ডেইজি ফুল নিয়েই তিনি পুরো অনুশীলন করেছেন
ডেইজি ফুল নিয়েই তিনি পুরো অনুশীলন করেছেন

এই দৃশ্য আমাদের অন্য এক ম্যারাডোনাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। মাঠে যিনি ছিলেন আগুনের মতো, প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর, দর্শকদের জন্য বিস্ময়। আর মাঠের বাইরে তিনিই ছিলেন একজন কোমল হৃদয়ের বাবা। যে মানুষটি এক মুহূর্তে পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ করে দিতে পারতেন, সেই মানুষটিই নিজের ছোট্ট মেয়ের ভালোবাসার সামনে নির্দ্বিধায় কোমল হয়ে যেতেন। এই কারণেই ম্যারাডোনাকে শুধু একজন ফুটবলার হিসেবে দেখলে তার পূর্ণ ব্যক্তিত্বটুকু বোঝা যায় না। তাঁর মধ্যে ছিল বৈপরীত্য। বিদ্রোহ আর মমতা, তীব্রতা আর কোমলতা, ঝড় আর শান্তি।

বিজ্ঞাপন

আজও নেপলিসে আর্জেন্টিনার অনেক ভক্ত ম্যারাডোনার ম্যুরালের পায়ের কাছে ডেইজি ফুল রেখে যান। শুধু তাঁর অসাধারণ গোলগুলোর জন্য নয়। শুধু বিশ্বকাপ জয়ের জন্যও নয়। বরং এজন্য যে, তাঁরা মনে করেন যে ম্যারাডোনা আগে একজন বাবা ছিলেন, তারপর একজন ফুটবলার।

ম্যারাডোনার ম্যুরালের সামনে মেয়ে দালমা
ম্যারাডোনার ম্যুরালের সামনে মেয়ে দালমা

মাঠে সেরা হওয়া অবশ্যই অসাধারণ। কিন্তু একজন সন্তানের কাছে নিরাপদ আশ্রয়  আর আবদার পূরণের মানুষ হয়ে ওঠা হয়তো তার চেয়েও বড় অর্জন। হাজারো ট্রফি, করতালি আর রেকর্ড সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সন্তানের দেওয়া এক মুঠো ফুলের মূল্য ব্যালন ডি'অর বা গোল্ডেন বুটের চেয়েও হয়তো বেশি। ম্যারাডোনার এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের সবচেয়ে বড় বিজয় সবসময় স্টেডিয়ামের আলোয় হয় না। কিছু বিজয় ঘটে খুব নীরবে। একজন বাবা আর তার সন্তানের মাঝখানে।

সূত্র ও ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১৯: ০০
বিজ্ঞাপন