ঈদ, আমি ও আমার গল্প
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ঈদ মানেই একসময় ছিল এক অন্য রকম উচ্ছ্বাস, এক অন্য রকম আলো। ছোটবেলার ঈদগুলো যেন এখনো কোথাও রয়ে গেছে; মনের খুব ভেতরে। সহপাঠীদের সঙ্গে ঈদ কার্ড বিনিময়, পরিবারের সবার কাছ থেকে পাওয়া চকচকে ছোট ছোট নোটে ঈদ সালামি আর দল বেঁধে এক বাসা থেকে আরেক বাসায় ঘুরে বেড়ানো— এসবই ছিল আমার ঈদের আসল আনন্দ। এখন জীবন অনেকটাই যান্ত্রিক। সেই উৎসবমুখর আবহ অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। তবু স্মৃতিগুলো আমাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়, ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয়।

ছোটবেলায় আমার পৃথিবী ছিল খুব সাদামাটা; পড়াশোনা আর নাচ; এই দুইয়ের ভেতরই কেটে যেত সময়। আমি কখনোই মাল্টিটাস্কার ছিলাম না, এখনো নই। স্কুল বন্ধ থাকলে নাচ আর পরীক্ষা এলেই শুধু পড়াশোনা। এ–ই ছিল আমার ছন্দ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে শিখেছি, কোথায় কতটুকু সময় দেওয়া দরকার। এই অভ্যাস আজও আমাকে পথ দেখায়।

বিজ্ঞাপন

নাচ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। নাচের মাধ্যমে আমি শিখেছি অনুভব করতে, অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে। অভিনয়ে যখন চেহারার অভিব্যক্তি দিতে হয়, তখন সেই সব শেখাই আমাকে সহজ করে দেয় সবকিছু। তবে উপস্থাপনায় নিজের কণ্ঠ আর বলার ধরন নিয়ে শুরুতে আমি নিজেই সন্তুষ্ট ছিলাম না। এখনো শিখছি, নিজেকে প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছি। মডেলিংয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একটা জায়গায় আমাকে এগিয়ে রেখেছে; ক্যামেরার সামনে ভয়টা আর কাজ করে না।

এখনো শিখছি, নিজেকে প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছি
এখনো শিখছি, নিজেকে প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছি

চরিত্রের ভান্ডার খুব বড় না হলেও কিছু কাজ হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। ‘দাগ’-এর ‘ইরা’ আর ‘আমি যা দেখি তুমি কি তা দেখ’র ‘রূপা’—চরিত্র দুটো আমার কাছে সব সময় বিশেষ হয়ে থাকবে।
আমি সব সময় সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দিই। মাঝেমধ্যে নতুন কিছু করতে গিয়ে হয়তো ভুলও করি, কিন্তু ভুলগুলোই আমাকে আমার নতুন দুর্বলতা চিনতে শেখায়। আর সেই শেখাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

বিজ্ঞাপন

অডিশন; অনেকের কাছে হয়তো এটা একটা চাপের বিষয়। কিন্তু আমার কাছে এটা নিজেকে জানার একটা বড় সুযোগ। নতুন অবস্থায় প্রায় প্রতিটি টিভিসির জন্য আমাকে অডিশন দিতে হয়েছে। এমনকি আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘কন্ট্রাক্ট’-এর ‘উমা’ চরিত্রটির জন্য তিনবার অডিশন দিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে শুটিং সেটে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।

অডিশন ্আমার কাছে চাপের বিষয় নয়
অডিশন ্আমার কাছে চাপের বিষয় নয়

মানুষ আমাকে ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসেবে দেখে; এটা আমার কাছে দারুণ মধুর অনুভূতি। এর মধ্যে একটা সহজাত আন্তরিকতা আছে, একটা আপন ভাব আছে। ‘নেক্সট ডোর নেবার’ হয়ে ওঠার এই যাত্রা আমার কাছে খুব আনন্দের।

ঈদের পোশাকে আমার পছন্দ সব সময়ই সালোয়ার–কামিজ। রঙের ক্ষেত্রে আমি প্যাস্টেল শেডের দিকেই ঝুঁকে থাকি। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবারও আমি বেছে নিয়েছি কোমল, শান্ত রং যা চোখ আর মন দুটোকেই আরাম দেয়।

ঈদের আমার পছন্দ সব সময়ই সালোয়ার–কামিজ
ঈদের আমার পছন্দ সব সময়ই সালোয়ার–কামিজ

মেকআপের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একটু মিশ্র। ছোটবেলায় নাচের অনুষ্ঠানের কারণে অনেক ভারী মেকআপ করতে হতো, তাই হয়তো এখন খুব বেশি মেকআপ করতে ভালো লাগে না। ক্যামেরার সামনে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই। আর সাধারণ সময়ে সানস্ক্রিন, লিপস্টিক, ব্লাশ আর মাসকারাতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

স্কিনকেয়ারে আমি সব সময় প্রাকৃতিক পণ্যকে প্রাধান্য দিই। অবসর সময়ে নিজেই কিছু তৈরি করি আর বাজারের পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখি যেন তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক না থাকে। সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে ছোট স্টাড ইয়াররিং আর একটি ঘড়িই আমার সবচেয়ে প্রিয়। এখন মাঝেমধ্যে হেলিও স্ট্র্যাপও ব্যবহার করি।

ছোট স্টাড ইয়াররিং আর একটি ঘড়িই আমার সবচেয়ে প্রিয়
ছোট স্টাড ইয়াররিং আর একটি ঘড়িই আমার সবচেয়ে প্রিয়

ঈদের দিন সাজগোজেও আমি সময়ভেদে পরিবর্তন আনতে পছন্দ করি। দিনের বেলায় হালকা সাজ আর আরামদায়ক হেয়ারস্টাইল; রাতের বেলায় একটু গাঢ় লিপশেড; ছোট ছোট পরিবর্তনই আমার কাছে বিশেষ।

কাজের দিক থেকেও এবারের ঈদটা আমার জন্য বেশ বৈচিত্র্যময়। প্রবীণ ও নবীন দুই প্রজন্মের অভিনেতার সঙ্গেই কাজ করেছি। কখনো ক্রাইম থ্রিলার, কখনো হাস্যরস, আবার কখনো একেবারে পিওর রোমান্টিক গল্প—দর্শক আমাকে নানা রূপেই দেখতে পাবেন।

দর্শক আমাকে নানা রূপেই দেখতে পাবেন
দর্শক আমাকে নানা রূপেই দেখতে পাবেন

আর ঈদের খাবার? সেটাই তো আসল আনন্দের জায়গা। আগের মতো হইহুল্লোড় না থাকলেও মায়ের হাতের কাবাব, পাপার বানানো চটপটি, দাদুর শাহি পোলাও, মামির কাবাব, খালামণির পোলাও-মাংস; এসব স্বাদ কখনোই বাদ পড়ে না। এগুলোই আমার ঈদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

হাল ফ্যাশনের পাঠকদের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা। ঈদ মানে শুধু একটি দিন নয়, এটা অনুভবের, একসঙ্গে থাকার, ভালোবাসার একটি উপলক্ষ। আপনারা আপনাদের প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দে থাকুন। প্রতিটি মুহূর্তকে উদ্‌যাপন করুন। কারণ, জীবন আসলে মুহূর্তেই গড়া।
আনন্দে বাঁচুন, মুহূর্তে বাঁচুন।

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৮: ০০
বিজ্ঞাপন