
লাক্স সুপারস্টারের মুকুটটা তাঁর মাথায় ওঠেনি। কিন্তু প্রতিযোগিতার ঝলমলে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরও নাযাহ নাওয়ারের ওপর থেকে আলোটা সরে যায়নি। বরং প্রোজ্জ্বল হয়েছে। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে নতুন এক যাত্রা। সম্প্রতি লাক্সের নতুন ক্যাম্পেইনে কাজ করে সেই যাত্রায় যোগ হয়েছে আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়, এই তাঁর কাছে শুধু একটি বিজ্ঞাপন নয়, বরং নিজের স্বপ্নকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার মুহূর্ত।

প্রথম রানারআপ হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো প্রতিযোগিতার আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে। কিন্তু নাযাহর ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। লাক্সের নতুন ক্যাম্পেইনে জায়গা করে নেওয়া যেন প্রমাণ করেছে, কখনো কখনো শিরোপার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সম্ভাবনা, পরিশ্রম আর নিজের ওপর আস্থা।
নাযাহ এখনো স্পষ্ট মনে করতে পারেন সেই শুটিং সেটের মুহূর্তগুলো। তাই স্মৃতিচারণা করছিলেন, ‘শুটিংয়ের সেটে দাঁড়িয়ে কিছু মুহূর্তে আমি শুধু চারপাশটা দেখছিলাম আর ভাবছিলাম—এটা কি সত্যিই আমার জীবনে ঘটছে? ছোট ছোট স্বপ্ন কখন যে এত বড় বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’

কথাগুলো বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে যেন এখনো বিস্ময়ের রেশ। কারণ, লাক্স তাঁর কাছে শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, এটি এমন একটি নাম, যার সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। আর সেই স্বপ্নের অংশ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আবেগ, সম্মান ও গর্বের এক অনন্য মিশেল।
সম্প্রতি প্রচারিত লাক্স ইন্টারন্যাশনাল গ্লুটা বারের বিজ্ঞাপনে নাযাহর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি দর্শকের নজর কেড়েছে। কিন্তু পর্দায় কয়েক সেকেন্ডের যে নিখুঁত উপস্থিতি, এর পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিকল্পনা আর অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম। একাধিক ব্রেনস্টর্মিং সেশন, রিহার্সাল, লুক টেস্ট, স্কিন ও হেয়ার প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে সেই ঝলমলে ফ্রেম।

তবে পুরো অভিজ্ঞতার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ ছিল ট্র্যাম্পোলিনে শুটিং। নাযাহ জানালেন, লাক্সের বিজ্ঞাপনে এমন ধারণা এর আগে দেখা যায়নি।
‘একদিকে ট্র্যাম্পোলিনে ব্যালান্স ধরে রাখতে হচ্ছিল, অন্যদিকে ক্যামেরার সামনে এক্সপ্রেশনও ঠিক রাখতে হচ্ছিল। কয়েকবার ভারসাম্য হারিয়ে পড়েও গিয়েছিলাম। তখন একটু চ্যালেঞ্জিং লাগলেও এখন মনে করলে বেশ মজাই লাগে।’ বলছিলেন তিনি, আর তাঁর হাসিতে তখনো যেন সেই শুটিং দিনের উচ্ছ্বাস মাখামাখি হয়েছিল।
পর্দার আড়ালে এই গ্ল্যামার তৈরির পেছনে ছিল একটি বড় দল। লুক ডিজাইনার মোহাম্মদ তারেক, হেয়ারস্টাইলিস্ট শিউলি এবং কস্টিউম ডিজাইনার আদিলা ফরিদ তুরিনের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে নাযাহর পর্দার উপস্থিতি। এমন এক উপস্থিতি, যেখানে আত্মবিশ্বাস, সৌন্দর্য এবং আধুনিকতার ছাপ একসঙ্গে ধরা পড়ে।

তবে গ্ল্যামারজগতের এই তরুণ মুখের ব্যক্তিগত পছন্দ বেশ সরল। তাঁর ফ্যাশন–দর্শন ‘সিম্পল, ক্ল্যাসিক এবং এলিগ্যান্ট’। যে পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়, সেটিকেই তিনি সবচেয়ে সুন্দর মনে করেন। আর সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রেও জটিল কোনো নিয়ম নয়, বরং নিয়মিত যত্ন আর পর্যাপ্ত পানি পানেই বিশ্বাস তাঁর।
সামনে অপেক্ষা করছে আরও ব্যস্ত সময়। নতুন কিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিও নিচ্ছে সে। অর্থাৎ ক্যারিয়ার আর পড়াশোনা—দুটো পথই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে চান নাযাহ।

কথোপকথনের শেষভাগে কথা ঘুরে যায় দর্শক আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিকে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে একমুহূর্তও দেরি করেননি তিনি, বরং বলেছেন, ‘মানুষের ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দেয়। আমি চাই আরও বড় স্বপ্ন দেখতে, নিজের ওপর আরও বিশ্বাস রাখতে। কারণ, দিন শেষে স্বপ্নপূরণের অনুভূতিই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকে।’
কথাগুলো বলার সময় তাঁর চোখে ছিল নতুন স্বপ্নের ঝিলিক। লাক্স সুপারস্টারের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া সেই পথচলা যে আরও অনেক দূর যাবে, সেই আভাস যেন মিলছে প্রতিটি পদক্ষেপেই।
ছবি: নাযাহ