
শাকিরা–পিকের স্মৃতিবিজড়িত ম্যানশনে শুরু ইয়ামালের নতুন অধ্যায়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন লামিনে ইয়ামাল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য তাঁকে নিয়ে গেছে ক্যারিয়ারের নতুন উচ্চতায়। এবার সেই সাফল্যের প্রতিফলন দেখা গেল ব্যক্তিগত জীবনেও।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের বার্সেলোনার অভিজাত এলাকা এসপ্লুগেস দে ইয়োব্রেগাত-এ অবস্থিত শাকিরা ও জেরার্ড পিকের একসময়কার বিলাসবহুল ম্যানশন কিনেছেন এই তরুণ ফুটবলার। বাড়িটির মূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা।

২০১২ সালে নির্মিত এই ম্যানশনটি শুধু একটি বিলাসবহুল বাড়ি নয়, বরং বিশ্বসংগীত ও ফুটবলের দুই সুপারস্টারের স্মৃতিবিজড়িত এক ঠিকানা।
বহু বছর ধরে এখানেই সংসার গড়েছিলেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং স্পেনের কিংবদন্তি ফুটবলার জেরার্ড পিকে। তবে তাঁদের বিচ্ছেদের পর ২০২২ সালে বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়।
প্রথমে এর দাম ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো। দীর্ঘদিন ক্রেতা না পাওয়ায় সম্পত্তির একটি অংশ আলাদাভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে মূল ম্যানশনের মূল্য কমিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ইউরো নির্ধারণ করা হলে শেষ পর্যন্ত সেটিই কিনে নেন ইয়ামাল।

প্রায় ৩ হাজার ৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলাসবহুল এস্টেট যেন একটি ব্যক্তিগত রিসোর্ট।
বাড়িটিতে রয়েছে–
* ছয়টি প্রশস্ত শয়নকক্ষ
* পাঁচটি আধুনিক গোসলখানা
* ঘরের ভেতর ও বাইরে দুটি সুইমিং পুল
* ব্যক্তিগত টেনিস কোর্ট
* অত্যাধুনিক শরীরচর্চাকেন্দ্র
* একাধিক টেরেস
* অতিথিদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ
সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর একটি হলো পেশাদার রেকর্ডিং স্টুডিও। একসময় এখানেই নতুন গান নিয়ে কাজ করতেন শাকিরা।
এ ছাড়া কাচে ঘেরা বিশাল বসার ঘর থেকে দেখা যায় ভূমধ্যসাগরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সবুজ লন, পুলসাইড লাউঞ্জ এবং খোলা আকাশের নিচে অবসর কাটানোর ব্যবস্থা পুরো বাড়িটিকে যেন পাঁচতারকা অবকাশযাপনকেন্দ্রে পরিণত করেছে।

স্প্যানিশ গণমাধ্যমের দাবি, নতুন মালিক হিসেবে ইয়ামাল ইতোমধ্যেই বাড়িটি নিজের রুচি অনুযায়ী সাজানোর পরিকল্পনা করছেন।
শোনা যাচ্ছে, শাকিরার ব্যবহৃত রেকর্ডিং স্টুডিওটি তিনি ব্যক্তিগত সিনেমা কক্ষ কিংবা অত্যাধুনিক গেমিং রুমে রূপান্তর করতে পারেন। পাশাপাশি পুরো বাড়িতেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সাজ আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

ইয়ামালের উত্থান শুধু মাঠেই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিস্ময়কর। সম্প্রতি বার্সেলোনার সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় প্রতি মৌসুমে তাঁর আয় প্রায় ৩ কোটি ইউরো অর্থাৎ প্রায় ৪২৩ কোটি টাকা।
এর বাইরে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ক্রীড়া ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপনচুক্তি থেকেও আসে বিপুল আয়। সব মিলিয়ে কৈশোরেই বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারদের একজন হয়ে উঠেছেন ইয়ামাল।

ফুটবলের নতুন প্রজন্মের আইকনরা এখন শুধু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, তাঁদের জীবনযাপন, ফ্যাশন, বিলাসী ঠিকানা এবং ব্যক্তিগত স্টাইল দিয়েও বৈশ্বিক ট্রেন্ড তৈরি করছেন। একসময় যে বাড়ির বারান্দায় দেখা যেত শাকিরা ও জেরার্ড পিকেকে, আজ সেই একই ঠিকানায় শুরু হচ্ছে লামিনে ইয়ামালের নতুন অধ্যায়। এটি শুধু একটি বাড়ি কেনার গল্প নয়; এটি নতুন প্রজন্মের এক সুপারস্টারের সাফল্য, স্বপ্ন এবং বিলাসী জীবনযাত্রার প্রতীক।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম