
বলিউডের অন্যতম হাসিখুশি এবং দীর্ঘস্থায়ী দম্পতি হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী অর্চনা পূরণ সিং ও অভিনেতা পারমিত শেঠি। ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে আছেন।


কিন্তু সম্প্রতি অর্চনা একটি তথ্য শেয়ার করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন; তাঁরা গত ৭ বছর ধরে ‘স্লিপ ডিভোর্স’ বা আলাদা বিছানায় ঘুমানোর রীতি পালন করছেন। সমাজ যেখানে স্বামী-স্ত্রীর এক বিছানায় শোয়াকে সম্পর্কের গভীরতার মাপকাঠি মনে করে, সেখানে এই জুটি প্রমাণ করেছেন যে আলাদা ঘুমানো আসলে বিচ্ছেদের লক্ষণ নয়, বরং সুখী হওয়ার চাবিকাঠি হতে পারে।
স্লিপ ডিভোর্স কী এবং কেন?
স্লিপ ডিভোর্স মানে আইনি বিচ্ছেদ নয়; বরং ঘুমের সময়টুকুতে একে অপরের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়া। অর্চনার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ ছিল পারমিতের প্রচণ্ড নাক ডাকার সমস্যা। অর্চনা একজন ‘লাইট স্লিপার’, অর্থাৎ খুব সামান্য শব্দেই তার ঘুম ভেঙে যায়। কাজের চাপের মাঝে পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করতেই তারা আলাদা ঘরে শোয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


ভিন্ন লাইফস্টাইল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা
এই জুটির শোয়ার সময়ও একেবারের ভিন্ন। অর্চনা একজন ‘নাইট আউল’, তিনি রাতে দেরি করে ঘুমান এবং সকালে দেরি করে ওঠেন। অন্যদিকে পারমিত সকালে খুব ভোরে উঠতে পছন্দ করেন। আগে একজনের ঘুমের কারণে অন্যজনের অসুবিধা হতো। আলাদা শোয়ার ফলে এখন দুজনেই তাদের নিজস্ব রুটিন মেনে চলতে পারেন, যা দিনের বেলা তাদের মেজাজ ফুরফুরে রাখে এবং খিটখিটে ভাব কমায়।
আলাদা শোয়া মানে কি দূরত্ব?
অনেকেই মনে করেন আলাদা শোয়া মানেই সম্পর্কের ইতি। কিন্তু অর্চনা ও পারমিতের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। তারা বিশ্বাস করেন, মানসিকভাবে কাছাকাছি থাকার জন্য শারীরিকভাবে সবসময় এক ঘরে থাকা জরুরি নয়। অর্চনা জানান, সারাদিন তারা একে অপরের সাথে সময় কাটান, আড্ডা দেন এবং খুনসুটি করেন। কেবল ঘুমের সময়টুকু তারা নিজেদের ব্যক্তিগত প্রশান্তির জন্য বেছে নেন। এই সুস্থির ঘুমই তাদের সম্পর্কে এক ধরনের নতুন সজীবতা এনে দিয়েছে।

সুখী হওয়ার গোপন মন্ত্র
তাঁদের এই ৩২ বছরের দাম্পত্য যাত্রায় আরও কিছু বিষয় কাজ করেছে:
১. বন্ধুত্ব: অর্চনা ও পারমিতের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তারা একে অপরের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না।

২. ছোটখাটো যত্ন: আলাদা শুলেও পারমিত আজও সকালে অর্চনার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে যান। আবার অর্চনা পারমিতের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তার পছন্দের খাবারের ব্যবস্থা করেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই তাদের ভালোবাসা টিকিয়ে রেখেছে।
৩. সন্তানদের ভূমিকা: তাদের দুই ছেলে আর্যমান ও আয়ুষ্মান তাদের পরিবারের মেরুদণ্ড। সন্তানদের একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দেওয়ার ইচ্ছা তাদের সবসময় প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

অর্চনা পূরণ সিং ও পারমিত শেঠির এই জীবনদর্শন আমাদের শেখায় যে, একটি সম্পর্কের সাফল্যের জন্য সমাজের বেঁধে দেওয়া নিয়মের চেয়ে নিজেদের মানসিক শান্তি ও শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘স্লিপ ডিভোর্স’ তাদের বিচ্ছেদ ঘটায়নি, বরং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বাড়িয়ে তাদের সম্পর্ককে আরও পরিপক্ক করেছে। আধুনিক যুগে যেখানে ব্যক্তিগত স্পেসের অভাব অনেক ঝগড়ার মূল কারণ, সেখানে অর্চনা-পারমিতের এই জীবনযাত্রা হতে পারে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম