কোরবানির ঈদ, স্মৃতি আর পরিবারের গল্প বললেন ঐশী
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে অভিনয়ের পর্দা দুই জায়গাতেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ঐশী। পরে অভিনয়ে এসে ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘ব্ল্যাক ওয়ার: মিশন এক্সট্রিম টু’ কিংবা ‘নুরের’-এর মতো কাজের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়েন।

ঐশীর ভেতরে আছে একেবারে সাধারণ, আবেগপ্রবণ আর পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ
ঐশীর ভেতরে আছে একেবারে সাধারণ, আবেগপ্রবণ আর পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ

তবে ক্যামেরার ঝলমলে জীবনের বাইরেও ঐশীর ভেতরে আছে একেবারে সাধারণ, আবেগপ্রবণ আর পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। কোরবানির ঈদ এলেই তাই তাঁর মনে ভিড় করে ছোটবেলার নানা স্মৃতি—যার কিছু আনন্দের, আবার কিছু গভীর বিষাদেরও।

বিজ্ঞাপন

ঐশী বললেন, কোরবানির ঈদের স্মৃতি তাঁর কাছে অনেকটাই মন খারাপের। তিনি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন, ঈদের দিন নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পর তাঁর নানা ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। এর তিন বছর আগেই কোরবানির ঈদের তৃতীয় দিনে মারা যান তাঁর একমাত্র মামা। সেই শোক নানাকে সবসময় তাড়া করে ফিরত।

ঐশী বললেন, কোরবানির ঈদের স্মৃতি তাঁর কাছে অনেকটাই মন খারাপের
ঐশী বললেন, কোরবানির ঈদের স্মৃতি তাঁর কাছে অনেকটাই মন খারাপের

ঐশীর ভাষায়, “কোরবানির সঙ্গে ত্যাগের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। নবী ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের ঘটনার মতোই বাবা-ছেলের সেই বিচ্ছেদের অনুভূতির সঙ্গে কোথাও যেন আমার এই স্মৃতিগুলোর মিল খুঁজে পাই।”

বিজ্ঞাপন

মন খারাপের স্মৃতির মাঝেও ঈদের কিছু আনন্দ অবশ্য ঠিকই আছে। কোরবানির পর প্রথম রান্না হওয়া গরুর মাংস তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার। ঐশী হাসতে হাসতে বললেন, “সকালে সেমাই খাওয়ার পর আমি আর কিছু খাই না। অপেক্ষা করি কখন মাংস রান্না হবে।” খাবারের প্রসঙ্গে আসতেই উঠে আসে মায়ের রান্নার কথা। ঐশীর কাছে তাঁর মা-ই পৃথিবীর সেরা রাঁধুনি। বিশেষ করে দেশি মাছের পাতলা ঝোল তাঁর খুব প্রিয়। কম মসলায় রান্না করা সেই স্বাদ এখনও তাঁর কাছে আলাদা প্রশান্তি এনে দেয়।

ঈদের পোশাকে ট্র্যাডিশনের ছোঁয়া থাকা জরুরি, তবে সেটি অবশ্যই আরামদায়ক হতে হবে
ঈদের পোশাকে ট্র্যাডিশনের ছোঁয়া থাকা জরুরি, তবে সেটি অবশ্যই আরামদায়ক হতে হবে

ঈদের ফ্যাশন নিয়েও ঐশীর ভাবনা একেবারেই সহজ-স্বাভাবিক। এবার গরম আর বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি-পাজামার মতো আরামদায়ক পোশাক পরার পরিকল্পনা তাঁর। তিনি মনে করেন, ঈদের পোশাকে ট্র্যাডিশনের ছোঁয়া থাকা জরুরি, তবে সেটি অবশ্যই আরামদায়ক হতে হবে। যদিও সব ধরনের পোশাকেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ছোটবেলা থেকেই স্কার্ট আর ফ্রকের প্রতি তাঁর আলাদা ভালো লাগা রয়েছে।

মেকআপের ক্ষেত্রে ঐশী খুবই মিনিমাল। শুটিং বা অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণত মেকআপ করেন না। ঈদের দিনও যদি ত্বক ভালো থাকে, তাহলে মেকআপ না করেই থাকতে চান। আর যদি সাজতেই হয়, তাহলে তাঁর পছন্দ খুব হালকা সাজ সানস্ক্রিন, কম্প্যাক্ট আর গোলাপি লিপস্টিক। মজার বিষয় হলো, সেই লিপস্টিকই তিনি আবার ব্লাশ হিসেবেও ব্যবহার করেন।


ত্বকের যত্নেও তাঁর সরলতা স্পষ্ট। নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের প্রতি ঝোঁক নেই। একটি ভালো ফেসওয়াশ, ক্লিনজার আর সানস্ক্রিন—এই তিনটিই তাঁর প্রতিদিনের স্কিন কেয়ার রুটিনের মূল অংশ। একইভাবে মেকআপ ব্র্যান্ড নিয়েও তাঁর আলাদা কোনো পছন্দ নেই। দোকানে গিয়ে নিজের ত্বকের সঙ্গে মানানসই যা ভালো লাগে, সেটাই কিনে ফেলেন। তবে পারফিউমের সংগ্রহে আছে নানা নামী ব্র্যান্ডের সুগন্ধি।যার মধ্যে কোকো শ্যানেল, জারা, ডলচে অ্যান্ড গ্যাব্বানা, গুড গার্ল এগুলো আছে।

ঈদের দিন বাইরে ঘুরতে যাওয়ার চেয়ে পরিবারের সঙ্গে ঘরে সময় কাটাতেই বেশি ভালোবাসেন ঐশী। যদিও কোরবানির মাংস কাটাকাটির মতো কঠিন কাজে খুব একটা যুক্ত হন না, তবুও পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটানোতেই তাঁর স্বস্তি।
কাজের ব্যস্ততাও কম নয়। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ‘সোলজার’ সিনেমায়, যার শুটিং ঈদের পর শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া আরও কয়েকটি নতুন কাজ নিয়েও আলোচনা চলছে।

আশপাশের মানুষ যখন হতাশায় ভোগেন বা ভেঙে পড়েন, তখন তাঁদের কাউন্সেলিং করতে ভালো লাগে তাঁর
আশপাশের মানুষ যখন হতাশায় ভোগেন বা ভেঙে পড়েন, তখন তাঁদের কাউন্সেলিং করতে ভালো লাগে তাঁর

অভিনয় ও মডেলিংয়ের বাইরেও ঐশীর আরেকটি ভিন্ন জগৎ আছে—মানুষকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়া। তিনি জানালেন, আশপাশের মানুষ যখন হতাশায় ভোগেন বা ভেঙে পড়েন, তখন তাঁদের কাউন্সেলিং করতে ভালো লাগে তাঁর। মানুষকে ইতিবাচক থাকার অনুপ্রেরণা দেওয়ার মধ্যে তিনি আলাদা তৃপ্তি খুঁজে পান।
আরেকটি মজার অভ্যাসও জানালেন ঐশী। তিনি ভীষণ ঘরকুনো স্বভাবের এবং নিজের ঘর পরিষ্কার রাখতে খুব পছন্দ করেন। রাতে ঘুমানোর আগে পুরো ঘর পরিষ্কার করে, মপ করে তারপর গোসল সেরে ঘুমাতে যান। তাঁর কাছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানেই মানসিক প্রশান্তি।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ঐশী বললেন, “কোরবানি শুধু পশু কোরবানি নয়, নিজের ভেতরের লোভ, হিংসা আর অহংকারকেও কোরবানি দিতে হবে। মানবিক হতে হবে। সবাই ভালো থাকুক, আশপাশের মানুষকে ভালো রাখুক এই কামনা করি।”

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১৮: ১৫
বিজ্ঞাপন