
ঈদের আনন্দ একেক বয়সে একেক রকম মনে হয় আমার। শৈশবের ঈদের কথা মনে পড়লে আজও এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় ডুবে যাই। আমার কাছে ঈদের আনন্দ মানেই ছিল এক বিশাল উৎসব, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল চট্টগ্রাম। ঈদের দুই-তিন দিন আগেই একরাশ উত্তেজনা নিয়ে আমরা সপরিবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিতাম।

সেই দিনগুলো ছিল বাঁধভাঙা উল্লাসের। দাদাবাড়ি আর নানাবাড়ির সবাই যখন এক জায়গায় জড়ো হতাম, মনে হতো পুরো পৃথিবীই আমাদের হাতের মুঠোয়। কাজিনরা মিলে সে কী দৌড়ঝাঁপ! আমাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল কে কার আগে বড়দের কাছ থেকে সালামি আদায় করতে পারে। সেই যৌথ পরিবারের বড় আয়োজনের ঈদগুলো আজও ভীষণ মিস করি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবন পাল্টেছে। ছোট পর্দায় কাজ শুরুর পর ব্যস্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শুটিংয়ের চাপে ঈদের আনন্দ অনেকটা ফিকে হয়ে গিয়েছিল।

অনেকবার এমন হয়েছে যে ঈদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেই আমাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছে। তখন সহশিল্পীরাই হয়ে উঠতেন পরিবারের অংশ; সেটেই চলত আমাদের ঈদ–আনন্দ ভাগাভাগি। তবে দুই বছর ধরে ছোট পর্দায় কিছুটা অনিয়মিত হওয়ায় সেই ব্যস্ততা আর স্মৃতির মাঝখানের সময়টা আমাকে বেশ ভাবায়।
তবে এবারের ঈদ আমার জন্য একেবারেই আলাদা এবং বিশেষ এক আমেজ নিয়ে আসছে। কারণ, এই ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আমার অভিনীত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এটা কেবল একটা সিনেমা নয়, আমার ক্যারিয়ারের এক নতুন মোড়। সিনেমার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত মহলে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই মুখিয়ে আছেন বড় পর্দায় চিত্রাকে দেখার জন্য। তাঁদের এই আগ্রহ আমাকে যেমন আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি কিছুটা নার্ভাসও করে তুলছে।

এবারের ঈদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হওয়ার বড় কারণ আমার মা–বাবা। দুই বছর পর তাঁরা এবার দেশে ঈদ করবেন। তাই পরিকল্পনা করেছি নিজের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির সবাইকে নিয়ে বড় পরিসরে ঈদ উদ্যাপন করার। পরিবারের সঙ্গে এই পুনর্মিলনী আর নিজের সিনেমার মুক্তি—সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ ঈদের অপেক্ষায় আছি। এবারের ঈদের বড় একটা অংশ আমি কাটাব দর্শকদের সঙ্গে, প্রেক্ষাগৃহে বসে তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখে।
মজার ব্যাপার হলো, আমার অভিনীত সিনেমাটি রেলের গল্প নিয়ে, আর আমার শৈশবের অনেক স্মৃতিও এই রেলকে ঘিরেই। ছোটবেলায় যখন রেলে করে চট্টগ্রাম যেতাম, একবার এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলাম। মুখে চুইংগাম নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, আর ঘুম থেকে উঠে দেখি সেই চুইংগাম চুলে লেপ্টে একাকার! ছোট মানুষ, ভয়ে তো আমার জান শেষ, ভাবলাম সাধের চুল বুঝি কেটেই ফেলতে হবে। তখন পাশের সিটের এক সহৃদয় আংকেল পরম মমতায় অনেক সময় নিয়ে আমার চুল থেকে চুইংগাম ছাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই ভয় আর তারপর স্বস্তির কথা মনে পড়লে আজও হাসি পায়।

শৈশবের সেই চঞ্চলতা আর বর্তমানের পরিণত সাবিলা, এ দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে এবারের ঈদ আমার কাছে এক নতুন প্রাপ্তি। বড় পর্দায় দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার প্রত্যাশা আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোই হবে এবারের ঈদের সেরা উপহার।
অনুলিখন: আশা জাহিদ
ছবি: সাবিলা নূরের ইন্সটাগ্রাম