
প্রথমবার শুনলে মনে হতে পারে, একজন বিশ্বমানের ফুটবলারের সঙ্গে জনপ্রিয় কার্টুন ‘টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস’-এর সম্পর্কই বা কী? কিন্তু এই ডাকনামের পেছনে লুকিয়ে আছে বন্ধুত্ব, হাস্যরস আর ড্রেসিংরুমের এক মজার গল্প।

২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে এএস মোনাকো ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে যোগ দেন এমবাপ্পে। নতুন ক্লাবে পা রাখার পর থেকেই সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একদিন ফরাসি ডিফেন্ডার প্রেসনেল কিমপেম্বে মজা করে বলেন, এমবাপ্পের মুখের গড়ন নাকি ‘টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস’-এর জনপ্রিয় চরিত্র ‘ডোনাটেলো’-র সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। গোলগাল মুখ, বড় হাসি আর প্রাণবন্ত অভিব্যক্তি। সব মিলিয়ে তুলনাটি দ্রুতই ড্রেসিংরুমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এমন ডাকনাম পেয়ে অনেকেই হয়তো অস্বস্তিতে পড়তেন। কিন্তু এমবাপ্পে ছিলেন একেবারেই ভিন্ন। তিনি বিষয়টিকে হাসিমুখেই গ্রহণ করেন। বরং সতীর্থদের খুনসুটিতে নিজেও যোগ দেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘ডোনাটেলো’ নামটি পিএসজির ড্রেসিংরুম ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
ডাকনামটি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে একটি বিশেষ ঘটনার পর। এক ম্যাচ শেষে পিএসজির অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা এমবাপ্পেকে একটি বিলাসবহুল ডিওরের উপহারের বাক্স তুলে দেন। সবাই ভেবেছিলেন ভেতরে হয়তো থাকবে কোনো দামি উপহার। কিন্তু বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে ‘টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস’-এর একটি মুখোশ। ড্রেসিংরুমজুড়ে তখন হাসির রোল। সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, আর ‘ডোনাটেলো’ ডাকনামটি যেন স্থায়ীভাবেই এমবাপ্পের পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের অনেকেই নিজেদের চারপাশে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে ফেলেন। কিন্তু এমবাপ্পে বরাবরই সেই দিক থেকে আলাদা। তিনি নিজের জনপ্রিয়তা বা সাফল্যকে কখনো ব্যক্তিত্বের ওপর চাপিয়ে দেননি। বন্ধুদের মজা, ভক্তদের ভালোবাসা কিংবা ভাইরাল–মিম সবকিছুই সহজভাবে গ্রহণ করেছেন। আর এই স্বাভাবিক আচরণই তাঁকে ভক্তদের আরও কাছের মানুষ করে তুলেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ফ্রান্সের এই সুপারস্টার। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি রয়েছেন লিওনেল মেসি ও আর্লিং হলান্ডের মতো তারকাদের সঙ্গে। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যাও পৌঁছে গেছে ১৯-এ, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে নিয়ে গেছে।
আজ মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার আগে তাই তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে গোল, গতি কিংবা রেকর্ডের বাইরেও ভক্তদের মুখে আজও সমান জনপ্রিয় আরেকটি নাম ‘ ডোনাটেলো’।
হয়তো এটাই কিলিয়ান এমবাপ্পের সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়েও তিনি এখনও সেই প্রাণখোলা মানুষ, যিনি নিজের ওপর হওয়া মজাকেও হাসিমুখে গ্রহণ করতে জানেন। আর সেই কারণেই ‘ডোনাটেলো’ শুধু একটি ডাকনাম নয়, এটি এমবাপ্পের ব্যক্তিত্বেরও এক অনন্য প্রতীক।