
ট্রেন্ডি ডায়েট বা জটিল বায়োহ্যাক নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে একই রুটিন মেনে চলাই দিশার ফিট থাকার আসল চাবিকাঠি।

দিশা পাটানির দিন শুরু হয় জিমের অনেক আগেই। ঘুম থেকে উঠে খাবারের আগে তিনি নিয়ম করে পান করেন তিনটি পানীয়, যেগুলো তাঁর মতে শরীরকে দিন শুরুর জন্য প্রস্তুত করে।
প্রথমেই থাকে হলুদ পানি। প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে পরিচিত হলুদ শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে এবং ইমিউন সাপোর্ট দিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

এরপর তিনি পান করেন একটি বিশেষ ভেষজ চা, যা মূলত গলার যত্নে উপকারী। নিয়মিত কথা বলা, শুটিংয়ের চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমে গলার সুস্থতা বজায় রাখাই এর উদ্দেশ্য।
সবশেষে দিশা পান করেন দুই থেকে তিন গ্লাস সাধারণ পানি। শরীর হাইড্রেট করার জন্য, যা তাঁর সকালের রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই তিন পানীয় দিয়েই তিনি তাঁর মেটাবলিজমকে ধীরে ধীরে ‘জাগিয়ে তোলেন’।

অনেকে যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন ডায়েট ট্রেন্ডে ঝুঁকছেন, দিশা সেখানে পুরোপুরি উল্টো পথে। তাঁর খাবারের মূল ভিত্তি—প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও সবজি।
সকালের নাশতায় থাকে ডিমের সঙ্গে ভাত বা পাউরুটি।
দুপুরের খাবারে থাকে যেকোনো একটি প্রোটিন সোর্স, সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট ও কিছু সবজি।
রাতের খাবারেও একই ফর্মুলা—প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের সুষম সংমিশ্রণ।
দিশার মতে, তিনি দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার খাবার খান এবং অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং এড়িয়ে চলেন। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো—তিনি বছরের পর বছর ধরে প্রায় একই খাবার, একই রেসিপি খেয়ে আসছেন।

নিজের ডায়েট সম্পর্কে দিশা অকপটে স্বীকার করেন, খাবারের দিক থেকে তিনি একদমই রোমাঞ্চপ্রিয় নন। তাঁর জীবনের একমাত্র ‘এক্সাইটিং’ খাবারের দিন হলো ‘রবিবার’। যেদিন তিনি নিজের ইচ্ছেমতো মিষ্টি, চকলেট বা পছন্দের যেকোনো খাবার খান। এই একদিনের চিট মিলই তাঁর সারা সপ্তাহের শৃঙ্খলাকে ভারসাম্য দেয়।
দিশা পাটানির ফিটনেস দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়। ভালো শরীর গড়তে জটিল নিয়ম নয়, বরং দরকার নিয়মিত অভ্যাস, ধৈর্য এবং নিজের শরীরকে বোঝার মানসিকতা। সকালের কয়েকটি সাধারণ পানীয়, সুষম খাবার আর ধারাবাহিকতা-এই ‘বোরিং’ রুটিনই তাঁকে করেছে ফিটনেস আইকন। এবং মনে রাখা উচিত ফিট থাকা মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের যত্ন নেওয়া। দিশার জীবনধারা সেটাই প্রমাণ করে।